রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে নিহত রুপলাল দাসের পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার ১২ই আগস্ট দুপুরে ইউএনও রুবেল রানা রুপলালের স্ত্রী ভারতী রানী ও তাঁর সন্তানদের হাতে উক্ত চেক তুলে দেন।পরিবারটি অসহায় হওয়ায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,গত কয়েকদিন আগে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরাপুর এলাকার জুতা সেলাইয়ের কাজ করা (মুচি) রুপলাল দাস গণপিটুনিতে নিহত হন।পরিবারটির প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।রুপলাল দাসের নিহতের ফলে পরিবারটিতে নেমে আছে দুর্ভোগ।অপরদিকে, মেয়ে নুপুর রানীর বিয়ে কথা বার্তা চলছিল মিঠাপুকুরের শ্যামপুর এলাকার লালচাঁদ দাসের ছেলে ডিপজল দাসের সঙ্গে। গত রোববার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিল।এজন্য মিঠাপুকুর থেকে নিজের ভ্যান চালিয়ে ভাগিন জামাই প্রদীপ লাল ঘটনার দিন ঘনিরামপুরের শ্বশুর রুপলালের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা না চেনায় প্রদীপ লাল কাজীরহাট এলাকায় এসে রুপলাল কে ফোন করেন।সেখানে রুপালাল গিয়ে ভাগিন জামাইসহ ভ্যানে চড়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।পথিমধ্যে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে তাদেরকে কয়েকজন যুবক তাদের চোর সন্দেহে পথরোধ করেন।প্রদীপ লালের ভ্যানে থাকা বস্তায় কয়েকটি প্লাস্টিকের ছোট স্পিড ক্যানের বোতল ও ওষুধ বের করেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাদের চোর আখ্যা দিয়ে গণপিটুনি দেন উপস্হিত জনতা।এতে ঘটনাস্থলে শ্বশুর ও রংপুর মেডিকেলে ভোরে জামাই মারা যান।
এ ঘটনায় রুপলাল দাসের স্ত্রী বাদী হয়ে ৫০০ থেকে ৭০০জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা বলেন,যেহেতু পরিবারটি অ-স্বচ্ছল ও মেয়ের বিয়ে জন্য উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।পরিবারটির প্রতি আমাদের উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শফিউল মন্ডল,তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: 























