নওগাঁর আত্রাইয়ে রাস্তা সংস্কার কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে চরম উদাসীন থাকায় জনমনে চরম ক্ষোভবিরাজ করছে। জানা যায়, আত্রাই উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশন থেকে ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শেষ পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলিত হচ্ছে।
রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় ভরতেঁতুলিয়া ও কাশিয়াবাড়ি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় এক বছর আগে রাস্তাটি পাকা করণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। রাস্তাটি খনন করে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করার পর ঠিকাদার লাপাত্তা হয়ে যান। ফলে প্রায় এক বছর থেকে রাস্তাটির বেহাল দশা হয়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তারা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।
ভরতেতুলিয়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান আকন্দ ও একই গ্রামের বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান সেন্টু বলেন, আমরা উপজেলার কাছের গ্রামবাসী হওয়া সত্ত্বেও যুগ-যুগধরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম অবহেলিত।
সাম্প্রতিক সময়ে এ রাস্তা পাকা করণের উদ্যোগ নেয়া হলে অনেক মানুষের বাড়ি-ঘরভেঙে রাস্তাটি প্রশস্ত করা হয়। রাস্তার কাজ হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
গ্রামবাসী জানান, আমাদের এই গ্রাম আত্রাই উপজেলার শুঁটকি উৎপাদনে খ্যাত। এ গ্রামে অর্ধশতাধিক শুটকি ব্যবসায়ী রয়েছেন। রাস্তার বেহাল দশা হওয়ায় তারা তাদের কাঁচা মাছ পরিবহণ করতে না পারায় শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছেন না। ফলে অনেক শুঁটকি ব্যবসায়ী হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) নিতিশ কুমার বলেন, রাস্তাটির প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ করার জন্য বলা হলে তিনি কাজটি বন্ধ করে রেখেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তার কাজ সমাপ্ত করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ) 























