সংবাদ শিরোনাম ::
তরুণদের প্রলোভনে ফাঁদ, ‘অতিথি ডটকম’-এর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস ফরিদপুরে ফ্যাসিস্ট শ্রমিক লীগ নেতা হাকিম কে গ্রেফতার ও তাঁর  দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন জুড়ী ও বড়লেখায় প্রতিটি ইউনিয়নে হচ্ছে খেলার মাঠ!  ২৭৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে রাজিব দাশ সওজে টেন্ডার বাণিজ্যের ‘গডফাদার’ মনিরুজ্জামান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আউটলেট, ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত : মির্জা ফখরুল ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানের লোভনীয় পোস্টিং, রাঙ্গামাটিতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বহাল ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখা-৫ এর কর্মচারী মিজানের বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড়

বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ ট্যাগ, পশ্চিমবঙ্গে কড়া প্রতিবাদ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬০২ বার পড়া হয়েছে

গত কয়েক মাসে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার অনেক মানুষকে বিদেশি আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করছে। পুশইনের শিকার হওয়া বেশিরভাগ ব্যক্তিই বাংলা ভাষায় কথা বলেন এবং ধর্মীয়ভাবে তারা মুসলিম। বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যকার সম্পর্কও শীতল করে তুলেছে।

পুশইনের ক্ষেত্রে বাংলাভাষীদেরই বেশি টার্গেট করছে ভারত সরকার। তারই জের ধরে সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা’ বলে উল্লেখ করায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছে ভারতীয় ফুটবল ক্লাব ইস্টবেঙ্গল এফসির সমর্থকরা। ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে গ্যালারিতে দর্শকদের সেই প্রতিবাদ।

ইস্টবেঙ্গল ১-০ গোলে নামধারি এফসিকে হারালেও ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের তোলা একটি পোস্টার। যেখানে লেখা ছিল, ‘ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি! মায়ের ভাষায় কথা বলছি দেখে আজকে বাংলাদেশি?’

বাংলাকে বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশের বিতর্কিত চিঠিটি পাঠানো হয় দিল্লির বঙ্গ ভবনের ইনচার্জকে। চিঠিতে ৮ ব্যক্তিকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন বাংলা অনুবাদক চাওয়া হয়।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি এই বক্তব্যকে অপমানজনক, দেশদ্রোহী ও সংবিধান-বিরোধী বলে আখ্যা দেন। ফেসবুকে চিঠিটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘দেখুন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দিল্লি পুলিশ কীভাবে বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে বর্ণনা করছে!’

তিনি জানান, বাংলা শুধু তার মাতৃভাষা নয়, এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের ভাষা। জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ ও জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’- উভয়ই বাংলা ভাষায় রচিত।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কেন্দ্রীয় সরকারকে বাঙালিবিরোধী বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি ভাষাকে অপমান নয়, বরং কোটি কোটি ভারতীয় বাঙালিকে অপমান করার নামান্তর।’
মমতা জনগণকে কেন্দ্র সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের প্রলোভনে ফাঁদ, ‘অতিথি ডটকম’-এর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ ট্যাগ, পশ্চিমবঙ্গে কড়া প্রতিবাদ

আপডেট সময় ১২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

গত কয়েক মাসে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার অনেক মানুষকে বিদেশি আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করছে। পুশইনের শিকার হওয়া বেশিরভাগ ব্যক্তিই বাংলা ভাষায় কথা বলেন এবং ধর্মীয়ভাবে তারা মুসলিম। বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যকার সম্পর্কও শীতল করে তুলেছে।

পুশইনের ক্ষেত্রে বাংলাভাষীদেরই বেশি টার্গেট করছে ভারত সরকার। তারই জের ধরে সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা’ বলে উল্লেখ করায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছে ভারতীয় ফুটবল ক্লাব ইস্টবেঙ্গল এফসির সমর্থকরা। ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে গ্যালারিতে দর্শকদের সেই প্রতিবাদ।

ইস্টবেঙ্গল ১-০ গোলে নামধারি এফসিকে হারালেও ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের তোলা একটি পোস্টার। যেখানে লেখা ছিল, ‘ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি! মায়ের ভাষায় কথা বলছি দেখে আজকে বাংলাদেশি?’

বাংলাকে বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশের বিতর্কিত চিঠিটি পাঠানো হয় দিল্লির বঙ্গ ভবনের ইনচার্জকে। চিঠিতে ৮ ব্যক্তিকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন বাংলা অনুবাদক চাওয়া হয়।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি এই বক্তব্যকে অপমানজনক, দেশদ্রোহী ও সংবিধান-বিরোধী বলে আখ্যা দেন। ফেসবুকে চিঠিটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘দেখুন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দিল্লি পুলিশ কীভাবে বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষা হিসেবে বর্ণনা করছে!’

তিনি জানান, বাংলা শুধু তার মাতৃভাষা নয়, এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের ভাষা। জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ ও জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’- উভয়ই বাংলা ভাষায় রচিত।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কেন্দ্রীয় সরকারকে বাঙালিবিরোধী বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি ভাষাকে অপমান নয়, বরং কোটি কোটি ভারতীয় বাঙালিকে অপমান করার নামান্তর।’
মমতা জনগণকে কেন্দ্র সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।