মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি গাংনীর ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কের বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করে নিজের পকেটে নিয়েছেন। আর প্রকল্পের পিআইসি (প্রকল্প কমিটি) সভাপতিকে খুশি করতে দিয়েছেন মাত্র ৫ হাজার টাকা।
তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচি আওতায় উপজেলা সাহারবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কে শিশু পার্কে রাইড স্থাপন, ফেপিং করণ ও রংকরণ বাবদ বরাদ্দ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, পার্কে ওয়াশরুম সংস্কার ও পিকনিক সেড মেরামত বাবদ বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, পার্কে অস্থায়ী দোকান সেড নির্মাণ বাবদ বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) কর্মসূচি আওতায় ডিসি ইকোপার্কের শিশুপার্ক থেকে বধ্যভূমি পর্যন্ত কাজলার পাড় এইচবিবি করণ ও দোকানের সামনের মাঠে মাটি ভরাট করণ বাবদ বরাদ্দ ৮ লক্ষ টাকা, পার্কের প্রধান গেট নির্মাণ ও গেটের পাশের মাটি ভরাট করণ বাবদ ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, ইকো পার্কের ভিতর উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কোন কাজই করা হয়নি। অথচ প্রকল্পে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ শে জুনের মধ্যে। এইচবিবি করণ কাজ সামান্য অংশ করা হলেও ব্যবহার হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। সর্বমোট ২৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দের এই কাজে হরিলুট করে উত্তোলনকৃত অর্থ নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনসুর রহমান।
পার্কে ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, ‘টয়লেটগুলোর অবস্থা খুবই বাজে। জঙ্গল আর কাদায় পার্কে দাঁড়ানোর উপায় নেই, এখানে পর্যটকদের উপভোগ করার মত কিছুই নেই।’ একজন ব্যবসায়ী জানান, ‘আমার দোকানের সামনে কোন সেড নির্মাণ করা হয়নি।’
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পের কাজ গত ১৯শে জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে এবং পিআইসিদের স্বাক্ষর নেওয়ার পর গত ২২শে জুন প্রকল্পের সমস্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ডিসি ইকো পার্কের কাজে পিআইসি (প্রকল্প কমিটি) সভাপতি করা হয়েছে সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত) জরিমন নেছা ও ফেরদৌসী আক্তারকে।
পিআইসি (প্রকল্প কমিটি) সভাপতি ও ইউপি সদস্য জরিমন নেছা বলেন, ‘কাজের বিষয়ে আমি জানি না তবে মিথ্যা বলবো না, আমাকে স্বাক্ষর নিয়ে ৫ হাজার টাকা স্যার (পিআইও) দিয়েছেন, আর কিছু টাকা দেবে কিনা তাও জানি না।’
আরেকজন পিআইসি (প্রকল্প কমিটি) সভাপতি ও ইউপি সদস্য ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘আমাকে নামমাত্র কাজের পিআইসি করা হয়েছে কিন্তু কাজ করছে পিআইও অফিস। আপনি অফিসে স্যারের সাথে কথা বললে সব জানতে পারবেন।’
সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমাতারা খাতুন বলেন, ‘এই কাজটি সম্পর্কে আমি খুব একটা অবগত নেই তবে মেম্বারদের হাতে ৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বাস্তব।’
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনসুর রহমান বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘আমি কোন মেম্বারকে টাকা দেয়নি। উনাদেরকে যে টাকা দিয়েছে আর পিআইসি বানাইছে ব্যাপারটা তার সাথে কথা বললে ভালো হয়। আমি কর্মকর্তা হলেও এটি আমার নলেজের বাইরে।’
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংবাদ শিরোনাম ::
গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা
কাজ না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মনসুরের বিরুদ্ধে
-
স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় ০৫:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
- ৭০৬ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























