ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

নওগাঁয় তিন হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নওগাঁর পোরশায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ মামালার আটজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, অর্থদণ্ড এবং চারজন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নওগাঁর অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সাব্বির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ফজলুর রহমানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক, সাজেমান আলীর ছেলে আমির আলী এবং হাসেন আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে কাদের। তাদের সকলের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপজেলার কালাইবাড়ি গ্রামে।

এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে দুরুল হুদা, ফজলুর রহমানের ছেলে আলিম ওরফে আলম, ইসমাইল হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম এবং ফজলুর রহমানের ছেলে ওয়াজেদ আলী। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও এ মামলায় আব্দুস সামাদের ছেলে তরিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম এবং আবুল কালামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে খালাস প্রাপ্তরা হলেন- মোসা. মরিয়ম বিবি, কামেলা বেগম, কহিনুর বেগম এবং রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও এ মামালার ২ আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক এবং দুরুল হুদা পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পোরশা উপজেলার কালাইবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ তার আম বাগানে কাজ করছিলেন। আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে ২০-২৫ জন তার আম বাগানে এসে অবৈধভাবে জায়গা দখলে নিতে চায় এবং কিছু আম গাছ উপড়ে ফেলে। এ সময় আব্দুস সামাদের স্ত্রী, ছেলে, ভাই এবং বোনেরা এগিয়ে আসলে মামলার আসামিরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে তিন জন এবং পরে আরও ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সামাদের ভাই শফিকুল ইসলাম, বোন সেলিনা এবং তার মেয়ে নার্গিস নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুস সামাদ ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পোরশা থানায় বাদী হয়ে ২৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় দীর্ঘ ২ যুগ ধরে চলা এ মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেন। এছাড়াও মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জন আসামিকে আদালত খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাব্বির আহমেদ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজরিন নাহার উচ্চ আদালতে রায়ের পক্ষে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নওগাঁয় তিন হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:১৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

নওগাঁর পোরশায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ মামালার আটজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, অর্থদণ্ড এবং চারজন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নওগাঁর অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সাব্বির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ফজলুর রহমানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক, সাজেমান আলীর ছেলে আমির আলী এবং হাসেন আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে কাদের। তাদের সকলের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপজেলার কালাইবাড়ি গ্রামে।

এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে দুরুল হুদা, ফজলুর রহমানের ছেলে আলিম ওরফে আলম, ইসমাইল হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম এবং ফজলুর রহমানের ছেলে ওয়াজেদ আলী। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও এ মামলায় আব্দুস সামাদের ছেলে তরিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম এবং আবুল কালামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে খালাস প্রাপ্তরা হলেন- মোসা. মরিয়ম বিবি, কামেলা বেগম, কহিনুর বেগম এবং রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও এ মামালার ২ আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক এবং দুরুল হুদা পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পোরশা উপজেলার কালাইবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ তার আম বাগানে কাজ করছিলেন। আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে ২০-২৫ জন তার আম বাগানে এসে অবৈধভাবে জায়গা দখলে নিতে চায় এবং কিছু আম গাছ উপড়ে ফেলে। এ সময় আব্দুস সামাদের স্ত্রী, ছেলে, ভাই এবং বোনেরা এগিয়ে আসলে মামলার আসামিরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে তিন জন এবং পরে আরও ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সামাদের ভাই শফিকুল ইসলাম, বোন সেলিনা এবং তার মেয়ে নার্গিস নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুস সামাদ ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পোরশা থানায় বাদী হয়ে ২৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় দীর্ঘ ২ যুগ ধরে চলা এ মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেন। এছাড়াও মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জন আসামিকে আদালত খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাব্বির আহমেদ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজরিন নাহার উচ্চ আদালতে রায়ের পক্ষে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।