সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

অন্যের বাড়ি ভেঙে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ কেরিয়ার ডেভেলপার এর বিরুদ্ধে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধ নকশায় ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কেরিয়ার ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান অহিদুল এর বিরুদ্ধে। রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী মেরা দিয়া হিন্দু পাড়া ৯৮ নং হোল্ডিং এফ- ব্লকে ৮ নম্বর সড়কে ১০ তলার নকশায় ৮ তলা ভবন নির্মাণ চলমান আছে। ডেভেলপার চেয়ারম্যান নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পাশের বাড়ির মালিক বলরাম ও খোকনের বসত বাড়ি ভেঙে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজউক একাধিকবার পরিদর্শন করলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাজউক এর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। ডেভেলপার চেয়ারম্যান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের নিষেধ অমান্য করলে গত ৯ জুলাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় সাগর ইসলাম নামে এক সাংবাদিক। একাধিক গণমাধ্যম কর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এ অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভবন নির্মাণ শুরুতে পরিদর্শক বিশ্বজিৎ দায়িত্ব পালন করছেন পরবর্তী তবে সুমন আহমেদ দায়িত্ব পালন করলেও ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে আসছেন। ভুক্তভোগী বলরাম ও খোকন সংখ্যালঘু হওয়ায় একটি অপরাধী চক্র তাঁদের কে কোনঠাসা করে রাখছে।বিষয়টি তদন্ত করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক জোন-৬ এর ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদ। তবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের ঝুঁকি*
খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী মেরা দিয়া হিন্দু পাড়া এ ভবনটি নকশা বিকৃত করে ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২-এর সংশোধনী এবং এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী নির্মাণাধীন ভবনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এর অনুমোদিত নকশা সাইটে সংরক্ষণ করার বিধান থাকলেও গণমাধ্যমের নজরে আসেনি এবং বিলবোর্ডে নির্মাণ কাজ শুরুর তারিখ রাজউক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অন্যদিকে
ভবন নির্মাণ আইনে দশতলা ভবন নির্মাণ করলে কমপক্ষে ৫০ ভাগ জমি খালি রাখা বাধ্যতামূলক। তবে ডেভেলপার মালিক এই নিয়ম মানছেন না। তবে উল্টো তিন পাশের দ্বিতীয় তলায় বেলকুনি বাড়িয়ে জমি অধিগ্রহণ করছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ভবন নির্মাণে বাড়ির নকশা, ইলেকট্রিক্যাল ডিজাইন, ওয়াসার লাইন,তিতাস গ্যাসের সংযোগসহ নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। পার্কিং পয়েন্টে দোকান অফিস ছাড়াও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্পেস ভাড়া বিক্রয়ের নোটিশ দিয়েছেন। বাড়ির সীমানা প্রাচীর সড়কের ভেতর জমি অধিগ্রহণ করছেন যা জনস্বার্থে আইনের পরিপন্থী। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভবন নির্মাণে ডেভেলপার মালিক নিজে ইঞ্জিনিয়ার সেজে ভবন নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমত ভবন নির্মাণ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।
রাজউকের তৎপরতা ও আইন লঙ্ঘন
রাজউক সূত্রে জানা যায়, ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মৌখিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে ভবন মালিক কোন জবাব দিচ্ছেন না এবং নির্মাণকাজ চলমান রেখেছেন। ভবন মালিক আওয়ামী লীগের একজন দাপুটে ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বে রাজউকের মৌখিক আদেশ অবজ্ঞা করে আইন লঙ্ঘন করছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজউক বরাবর লিখিত অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসব অনিয়মের বিষয় জানতে চাওয়া হলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক জোন৬/১এর ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদ গণমাধ্যম কে বলেন আমরা অচিরেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।ওই জোনের অথরাইজড অফিসার কে বক্তব্য জানতে একাধিক বার ফোন দিলেও ফোন গ্রহণ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও কোন জবাব পাওয়া যায় নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

অন্যের বাড়ি ভেঙে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ কেরিয়ার ডেভেলপার এর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধ নকশায় ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কেরিয়ার ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান অহিদুল এর বিরুদ্ধে। রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী মেরা দিয়া হিন্দু পাড়া ৯৮ নং হোল্ডিং এফ- ব্লকে ৮ নম্বর সড়কে ১০ তলার নকশায় ৮ তলা ভবন নির্মাণ চলমান আছে। ডেভেলপার চেয়ারম্যান নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পাশের বাড়ির মালিক বলরাম ও খোকনের বসত বাড়ি ভেঙে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজউক একাধিকবার পরিদর্শন করলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাজউক এর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। ডেভেলপার চেয়ারম্যান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের নিষেধ অমান্য করলে গত ৯ জুলাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় সাগর ইসলাম নামে এক সাংবাদিক। একাধিক গণমাধ্যম কর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এ অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভবন নির্মাণ শুরুতে পরিদর্শক বিশ্বজিৎ দায়িত্ব পালন করছেন পরবর্তী তবে সুমন আহমেদ দায়িত্ব পালন করলেও ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে আসছেন। ভুক্তভোগী বলরাম ও খোকন সংখ্যালঘু হওয়ায় একটি অপরাধী চক্র তাঁদের কে কোনঠাসা করে রাখছে।বিষয়টি তদন্ত করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক জোন-৬ এর ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদ। তবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের ঝুঁকি*
খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী মেরা দিয়া হিন্দু পাড়া এ ভবনটি নকশা বিকৃত করে ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২-এর সংশোধনী এবং এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী নির্মাণাধীন ভবনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এর অনুমোদিত নকশা সাইটে সংরক্ষণ করার বিধান থাকলেও গণমাধ্যমের নজরে আসেনি এবং বিলবোর্ডে নির্মাণ কাজ শুরুর তারিখ রাজউক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অন্যদিকে
ভবন নির্মাণ আইনে দশতলা ভবন নির্মাণ করলে কমপক্ষে ৫০ ভাগ জমি খালি রাখা বাধ্যতামূলক। তবে ডেভেলপার মালিক এই নিয়ম মানছেন না। তবে উল্টো তিন পাশের দ্বিতীয় তলায় বেলকুনি বাড়িয়ে জমি অধিগ্রহণ করছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ভবন নির্মাণে বাড়ির নকশা, ইলেকট্রিক্যাল ডিজাইন, ওয়াসার লাইন,তিতাস গ্যাসের সংযোগসহ নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। পার্কিং পয়েন্টে দোকান অফিস ছাড়াও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্পেস ভাড়া বিক্রয়ের নোটিশ দিয়েছেন। বাড়ির সীমানা প্রাচীর সড়কের ভেতর জমি অধিগ্রহণ করছেন যা জনস্বার্থে আইনের পরিপন্থী। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভবন নির্মাণে ডেভেলপার মালিক নিজে ইঞ্জিনিয়ার সেজে ভবন নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমত ভবন নির্মাণ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।
রাজউকের তৎপরতা ও আইন লঙ্ঘন
রাজউক সূত্রে জানা যায়, ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মৌখিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে ভবন মালিক কোন জবাব দিচ্ছেন না এবং নির্মাণকাজ চলমান রেখেছেন। ভবন মালিক আওয়ামী লীগের একজন দাপুটে ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বে রাজউকের মৌখিক আদেশ অবজ্ঞা করে আইন লঙ্ঘন করছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজউক বরাবর লিখিত অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসব অনিয়মের বিষয় জানতে চাওয়া হলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক জোন৬/১এর ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদ গণমাধ্যম কে বলেন আমরা অচিরেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।ওই জোনের অথরাইজড অফিসার কে বক্তব্য জানতে একাধিক বার ফোন দিলেও ফোন গ্রহণ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও কোন জবাব পাওয়া যায় নি।