সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা
এক পরিবার ধ্বংসের আত্মকথা

চোরের মেয়ের সংসারে আট ভাইয়ের করুণ ভাঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের পলতি তারাবাড়িয়ার সন্তান আলী আরশাদ-এক সময় যিনি ছিলেন পরিবারভিত্তিক ঐক্য, সহমর্মিতা ও পরস্পর নির্ভরতার প্রতীক। তিনিই আজ পরিণত হয়েছেন বিভাজন, শোষণ ও অবিচারের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার ভাইদের রক্ত-ঘামে গড়া স্বপ্ন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন যিনি, তিনি আজ বিলাসবহুল বাসভবনে পলাতক, আর একটি বৃহৎ পরিবার দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসের কিনারে।

ভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বাসের বিনিময়ে প্রতারণা
১৯৯৬ সালের কথা। আলী আরশাদের এক ভাই আবুল খায়ের ঢাকায় একটি জঘন্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঢাকা ছাড়েন। সেই সময় আলী আরশাদ দেড় বছর বেকার জীবন যাপন করেন এবং পরিবারকে ঢাকায় পুনরুদ্ধারের জন্য আরেক ভাইয়ের কেনা জমি বিক্রি করে ঢাকায় বসত গড়েন। মুগদাতে ৪ হাজার টাকার এক কক্ষের বাসায় শুরু হয় তাদের নতুন যাত্রা-সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী, নারায়নভাতুয়া গ্রামের কুখ্যাত সাত্তার চোরের কন্যা সেলিনা।

তার এক ছোট ভাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈধ-অবৈধ ব্যবসায় সহযোগিতা করেন আলী আরশাদকে। অজস্র পরিশ্রম, অমানবিক ঘাম-রক্তের বিনিময়ে যে আয় হয়েছিল, তার থেকে একটাকাও তিনি গ্রহণ করেননি। অথচ, সেই ভাই ও পরিবারের অবদান স্বীকার না করে আলী আরশাদ আজ সম্পদে ফুলেফেঁপে উঠেছেন-কিন্তু মানুষিকভাবে রিক্ত, আত্মিকভাবে শূন্য।

চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, মৃত্যু
অবৈধ চোরা ব্যবসার অর্থে তৈরি হয় খিলক্ষেত বেপারিপাড়ায় ‘তামান্না ভিলা’ (খ-৩২/৪/১) এবং উত্তরা সেক্টর ১০–এ বিলাসবহুল আরেকটি বাড়ি (বাড়ি ১৮, রোড ২৩)। কিন্তু পরিবারের দিকে ফিরেও তাকাননি তিনি। এক ভাই দীন মোহাম্মদ চোরার মেয়ে সেলিনার ষড়যন্ত্রে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন-একটি অসমাপ্ত জীবনের অবিচারের অধ্যায় রচিত হয়।

২০০৩ সালে নিজের পিতা আব্দুল ওহাবকে খিলক্ষেতের বাসা থেকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন আলী। কয়েকদিনের মাথায় তিনি বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন-বৃদ্ধ পিতার সে মৃত্যু আজো পরিবারের হৃদয়ে বিষাদ-শোক হয়ে গেঁথে আছে।

মিথ্যা মামলা, অপমান, মানসিক নির্যাতন

বর্তমানে পরিবারটির উপর চলছে মামলা, ষড়যন্ত্র, মানহানি ও অবমাননার প্রবল চাপ। হজ্বে যাওয়ার সময় আলী আরশাদ তার স্ত্রী সেলিনা ও নেশাগ্রস্ত ছেলে শামীমের দ্বারা নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হন-“হজ্বে গিয়ে টাকা নষ্ট কইরো না ” এক গ্রামবাসীর সাহায্যে হজ্বে গিয়েছিলেন ঠিকই, ফিরে এসে তাকেই অপবাদ দিয়ে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা আদায় করা হয়, যদিও মানবাধিকার সংস্থা তদন্তে জানান-এই দাবি ছিল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান: বিচার চাই!

একজন ভাইয়ের সততা, অপর ভাইয়ের আত্মত্যাগ, এক পিতার অপমানজনক মৃত্যু এবং একটি বৃহৎ পরিবারের ধ্বংসযাত্রা-এই সবের মূলে রয়েছে এক দম্পতি: আলী আরশাদ ও তার স্ত্রী সেলিনা, এক চোরের মেয়ে যার নারীসুলভ প্রলোভন আর পৈশাচিক ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন আট ভাই।
মানসম্মানের ভয়ে এতদিন মুখ না খুললেও এখন অস্তিত্বের জন্য এই জঘন্য নির্মম ভয়ংকর প্রতারকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হচ্ছে।
এতসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরিবারটি সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে সেনবাগ, খিলক্ষেত ও উত্তরায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হবে।

> এক চোরের মেয়ের সংসার আরেকটি গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখনই সময় সত্য প্রকাশের, বিচার চাওয়ার এবং একটি গোটা জাতিকে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সচেতন করার।
আজ প্রকাশ হলো (প্রথম পর্ব- )

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

এক পরিবার ধ্বংসের আত্মকথা

চোরের মেয়ের সংসারে আট ভাইয়ের করুণ ভাঙ্গন

আপডেট সময় ১০:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের পলতি তারাবাড়িয়ার সন্তান আলী আরশাদ-এক সময় যিনি ছিলেন পরিবারভিত্তিক ঐক্য, সহমর্মিতা ও পরস্পর নির্ভরতার প্রতীক। তিনিই আজ পরিণত হয়েছেন বিভাজন, শোষণ ও অবিচারের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার ভাইদের রক্ত-ঘামে গড়া স্বপ্ন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন যিনি, তিনি আজ বিলাসবহুল বাসভবনে পলাতক, আর একটি বৃহৎ পরিবার দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসের কিনারে।

ভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বাসের বিনিময়ে প্রতারণা
১৯৯৬ সালের কথা। আলী আরশাদের এক ভাই আবুল খায়ের ঢাকায় একটি জঘন্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঢাকা ছাড়েন। সেই সময় আলী আরশাদ দেড় বছর বেকার জীবন যাপন করেন এবং পরিবারকে ঢাকায় পুনরুদ্ধারের জন্য আরেক ভাইয়ের কেনা জমি বিক্রি করে ঢাকায় বসত গড়েন। মুগদাতে ৪ হাজার টাকার এক কক্ষের বাসায় শুরু হয় তাদের নতুন যাত্রা-সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী, নারায়নভাতুয়া গ্রামের কুখ্যাত সাত্তার চোরের কন্যা সেলিনা।

তার এক ছোট ভাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈধ-অবৈধ ব্যবসায় সহযোগিতা করেন আলী আরশাদকে। অজস্র পরিশ্রম, অমানবিক ঘাম-রক্তের বিনিময়ে যে আয় হয়েছিল, তার থেকে একটাকাও তিনি গ্রহণ করেননি। অথচ, সেই ভাই ও পরিবারের অবদান স্বীকার না করে আলী আরশাদ আজ সম্পদে ফুলেফেঁপে উঠেছেন-কিন্তু মানুষিকভাবে রিক্ত, আত্মিকভাবে শূন্য।

চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, মৃত্যু
অবৈধ চোরা ব্যবসার অর্থে তৈরি হয় খিলক্ষেত বেপারিপাড়ায় ‘তামান্না ভিলা’ (খ-৩২/৪/১) এবং উত্তরা সেক্টর ১০–এ বিলাসবহুল আরেকটি বাড়ি (বাড়ি ১৮, রোড ২৩)। কিন্তু পরিবারের দিকে ফিরেও তাকাননি তিনি। এক ভাই দীন মোহাম্মদ চোরার মেয়ে সেলিনার ষড়যন্ত্রে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন-একটি অসমাপ্ত জীবনের অবিচারের অধ্যায় রচিত হয়।

২০০৩ সালে নিজের পিতা আব্দুল ওহাবকে খিলক্ষেতের বাসা থেকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন আলী। কয়েকদিনের মাথায় তিনি বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন-বৃদ্ধ পিতার সে মৃত্যু আজো পরিবারের হৃদয়ে বিষাদ-শোক হয়ে গেঁথে আছে।

মিথ্যা মামলা, অপমান, মানসিক নির্যাতন

বর্তমানে পরিবারটির উপর চলছে মামলা, ষড়যন্ত্র, মানহানি ও অবমাননার প্রবল চাপ। হজ্বে যাওয়ার সময় আলী আরশাদ তার স্ত্রী সেলিনা ও নেশাগ্রস্ত ছেলে শামীমের দ্বারা নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হন-“হজ্বে গিয়ে টাকা নষ্ট কইরো না ” এক গ্রামবাসীর সাহায্যে হজ্বে গিয়েছিলেন ঠিকই, ফিরে এসে তাকেই অপবাদ দিয়ে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা আদায় করা হয়, যদিও মানবাধিকার সংস্থা তদন্তে জানান-এই দাবি ছিল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান: বিচার চাই!

একজন ভাইয়ের সততা, অপর ভাইয়ের আত্মত্যাগ, এক পিতার অপমানজনক মৃত্যু এবং একটি বৃহৎ পরিবারের ধ্বংসযাত্রা-এই সবের মূলে রয়েছে এক দম্পতি: আলী আরশাদ ও তার স্ত্রী সেলিনা, এক চোরের মেয়ে যার নারীসুলভ প্রলোভন আর পৈশাচিক ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন আট ভাই।
মানসম্মানের ভয়ে এতদিন মুখ না খুললেও এখন অস্তিত্বের জন্য এই জঘন্য নির্মম ভয়ংকর প্রতারকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হচ্ছে।
এতসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরিবারটি সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে সেনবাগ, খিলক্ষেত ও উত্তরায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হবে।

> এক চোরের মেয়ের সংসার আরেকটি গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখনই সময় সত্য প্রকাশের, বিচার চাওয়ার এবং একটি গোটা জাতিকে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সচেতন করার।
আজ প্রকাশ হলো (প্রথম পর্ব- )