পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী গ্রামের মৃত মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন এর দুই পুত্রের বিরুদ্ধে পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলের বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার তথ্য বেড়িয়ে আসছে। তার ছোট ছেলে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে কর্মরত মুছিবুল হাসান (রিপু)। আওয়ামী সরকারের দাপুটে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. দিপুমনি ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর পার্সোনাল অফিসার থাকার সুবাদে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করে। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রীদের প্রভাব খাটিয়ে বদলি বানিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তকরন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে অবৈধভাবে এ অর্থ উপার্জন করে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এলাকার জনসাধারণের পক্ষ থেকে তার উচ্চ পদস্থ কর্ম-কর্তাদের নিকট বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনও করা হয়। ঐ আবেদন পত্র সূত্রে জানা গেছে তার কোটি কোটি টাকার প্লট-ফ্ল্যাটের তথ্য। এছাড়াও তার নামে বেনামে প্রচুর অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। ক্ষমতার দাপট ও অবৈধ অর্থের কাছে তার নিজ এলাকার জনসাধারণ এক প্রকার জিম্মি অবস্থায় ছিলো। মুছিবুল হাসান এবং তার বড় ভাই মনিউল হাসানের অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়। একটি সূত্র জানায় মুছিবুল হাসানের বিরুদ্ধে দুদকে দরখাস্তের প্রস্তুতি চলছে।
মৃত মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন এর অন্য পুত্র এবং মুছিবুল হাসানের বড় ভাই পিরোজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের চিফ ইনসট্রাক্টর মনিউল হাসান (মিলন)। মনিউল হাসান মিলন নিজ এলাকা পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী এগারো গ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক মন্ত্রী শ.ম.রেজাউল করিমের দাপট দেখিয়ে বিদ্যালয়ের কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। সে এবং তার ছোট ভাই মিলে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছে। প্রতিপক্ষ দমন করতে নেপথ্যে ইন্ধন ও অর্থ দিয়ে এলাকার জনসাধারণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পাটিকেলবাড়ী এগারো গ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাদের প্রতিষ্ঠিত মিনা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারটি মূলত সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানা হিসাবে ব্যাবহার করা হতো। গত বছরের ০৫ আগস্টের পট পরিবর্তনে এলাকাবাসী এ আড্ডাখানা ভেঙে দেয়।
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী গ্রামে সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে মৃত মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। সাদা মাটা জীবন যাপন করলেও তার দুই পুত্র নেমে পড়ে আধিপত্য বিস্তারের খেলায়। মুছিবুল হাসান তার অবৈধ অর্থ এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের দাপট? দেখিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণের নেশায় নেমে পড়ে। এ বিষয়ে এলাকায় অবস্থান করে তার বড় ভাই মনিউল হাসান সবকিছু বাস্তবায়নে হাত দেয়। প্রথমেই তার পিতাকে এগারো গ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে আসীন করায়। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দুই ভাই এবং তাদের পিতা মিলে ১০ বছর ঐ স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয় বিদ্যালয়টি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় তাদের ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায়নি।
কিন্তু স্বৈরাচারের পতনের পর মূখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। তাদের দু ভাইয়ের সকল অপকর্মে বিরুদ্ধে রুখে দাড়াচ্ছে তারা। এলাকাবাসী ইতিমধ্যে স্বৈরাচারের মন্ত্রী এমপিদের সাথে ছবি সংশ্লিষ্ট ব্যানার নিয়ে দু ভাইয়ের সকল অপকর্মের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বৈরাচারের দোসর দুই ভাই
মনিউল মুছিবুলের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৮:০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- ৬০৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ























