নারীদের নেই সংরক্ষিত আসন
সুযোগ পেলেই বেশি ভাড়া আদায়
ফেনীবাসীর গলার কাঁটা হয়ে আছে স্টার লাইন স্পেশাল লিমিটেড। ফেনী ভিত্তিক অন্য কোন ভালো বাস সার্ভিস না থাকায় নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও দেরিতে গাড়ি ছেড়ে যাত্রীদের মুল্যবান সময় নষ্ট করে আসছে।
গত জুলাই মাসের ২১ তারিখে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাত ৯.৪০ মিনিটে যে বাস সায়েদাবাদ কাউন্টারে থাকার কথা ছিলো সেটি কাউন্টারে আসে ১০.৪১ মিনিটে। এবং লোকাল বাসের মতো কাঁচপুর কাউন্টারে এসে যাত্রী নেয়ার জন্য ৩০ মিনিট পর্যন্ত থেমে থাকে গাড়ি।
২০১৮ সালের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী প্রতিটি দূর পাল্লার বাসে ৮-৯টি নারী সংরক্ষিত আসন রাখার কথা বলা হলেও সেটি মানছে না স্টারলাইন পরিবহন। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হয় নারী যাত্রিদের।
৩-৪ ঘন্টা এক অপরিচিত পুরুষের সাথে বসে আসা নারীদের জন্য ভোগান্তি ও অস্বস্তিকর।
ফেনী থেকে ডিগ্রি পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী জানায় আমার পরিবারে আমাকে ঢাকায় এনে পরীক্ষা দেয়া মতো কোন পুরুষ নেই। আমি পরীক্ষা দিতে ঢাকা আসার সময় আমার সাথে একটা পুরুষ বসে ছিলো, আমি পুরো রাস্তা অস্বস্তিতে ছিলাম। এমন হলে আর কোন দিন ঢাকায় আসার ইচ্ছা থাকবে না। পাশের সিটে বসে থাকা লোকটি বার বার ঘুমের ঘোরে আমার কাঁদে হেলে পড়ে এতে আমার খুবই খারাপ লাগছে, আমি বলার পরও ওই লোককে সিট খালি থাকা স্বত্ত্বেও সরানো হয় নাই।
ফেনী থেকে ঢাকা অন্য কোন ভালো বাস সার্ভিস না থাকায় আমার মতো নারী প্রত্যহই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এতে করে আমাদের ফেনীর মেয়েরা পিছিয়ে যাচ্ছে।
ফেনী বেশিরভাগ মানুষই কর্মের জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। এর ফলে স্টার লাইন যাত্রীদের বিশাল একটা অংশ প্রবাসী। যারা প্রতিনিয়ত হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে দেশে আসে। তাদের সাথে থাকে ছোট বড় লাগেজ ও মালামাল।
এই সুযোগে স্টার লাইনের বিমান বন্দর কাউন্টারের লোক জন অতিরিক্ত ৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় কাদের নামক এক দুবাই প্রবাসীর সাথে তিনি জানান, আমি ৩ টা লাগেজ আনছি দুবাই থেকে এই জন্য আমার থেকে ১৫০০ টাকা বেশি রাখছে তারা।
আরেক প্রবাসী জামাল মিয়া বলেন ওদের ব্যবহার খুবই খারাপ। তারা আমাদের লুটছে। আমার একটা লাগেজের জন্য আমার থেকে ২২০০ টাকা বেশি নিছে।
স্টার লাইন কাউন্টারে থাকা লোকদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা জানায় আমাদের উপরের থেকে নির্দেশ কোন সাংবাদিকের সাথে কথা বলা যাবে না।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায় ঢাকা থেকে ফেনী যাওয়া ও আসার সময় যে সব রেষ্টুরেন্টে যাত্রবিরতি দেয়া হয়। ওদের সাথে থাকে গোপন চুক্তি।এবং এসব রেষ্টুরেন্টে নিম্নমানের খাবার ও খাবারের দাম বেশি রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
বাসের এক সুপারভাইজারের কাছে জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ শর্তে জানান এখানে যাত্রীদের জন্য অনেক বেশি দাম নেয়া হয় ঠিকই কিন্তু স্টার লাইনের পরিবহনের সব স্টাফরাই আমরা ফ্রি খাই।
ঈদ, উৎসব বা কোন বড় ছুটির সময় হলেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে স্টার লাইন।
উল্লেখ্য চলতি বছরের ০২ এপ্রিল তারিখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম চলাচলকারী স্টার লাইন বাস কাউন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুহুরীগঞ্জ এলাকায় বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাশ সুমিত।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার জন্য ম্যানেজারকে একাধিকার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করে নাই।
মো. মামুন হোসেন, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 






















