টাকা পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হাজার কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই সদস্যের অনুসন্ধান দল। যদিও নৌবাহিনীর এ শীর্ষ কর্মকর্তা বর্তমানে সরকারি সফরে দেশের বাইরে আছেন।
গত বৃহস্পতিবার দুদকের সহকারী পরিচালক (তদন্ত ও অনুসন্ধান-৫) মো. নওশাদ আলীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন নওশাদ আলী নিজেই। তাঁর সঙ্গে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকনকে। বিষয়টি মঙ্গলবার জানাজানি হয়।
এদিকে তদন্তের শুরুতেই বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে– কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং প্রকল্পসংক্রান্ত অনুমোদনপত্র, আর্থিক বরাদ্দপত্র, দরপত্রের নথি, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র উন্মুক্ত ও মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, তুলনামূলক বিবরণী, কার্যাদেশ, চুক্তি, বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন, বিল পরিশোধ-সংক্রান্ত বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র।
শুধু বন্দরের বিভিন্ন কাগজপত্রই নয়, বন্দর চেয়ারম্যানের স্ত্রী আইরিন জামান ও দুই ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার ও সারান ইয়াসারের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপিও চেয়েছে দুদক।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) দপ্তরের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার ৭২টি বড় ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি অনিয়ম রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৬৫ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অনিয়ম হয়েছে দরপত্র কারসাজি ও চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার মাধ্যমে। মূলত এ কারণেই দুদক বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেছে।
এসএম মনিরুজ্জামান গত বছরের ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 






















