ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্ত শুরু করল ফিফা উত্তাল দিল্লি দফায় দফায় সংঘর্ষে ১১৮ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৭০ আত্রাইয়ে সরকারি কৃষি কোয়ার্টারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় ধ্বংসের মুখে দেশের ছয় অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা গোপালগঞ্জে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১১ মামলা দায়ের  মা’দ’কের প্রতিবাদ করায় মেম্বার পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে ৫২ বোতল এসকাফ উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার হঠাৎ কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার শওকত আলীর অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান গতি বাড়িয়েছে দুদক

গাংনীর চিৎলা পাটবীজ খামারে নাজিম বাহিনীর দখলদারি: চলছে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎলা পাটবীজ খামারে চলছে নাজিম বাহিনীর রাজত্ব। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন “নাজিম বাহিনীর” অনিয়ম ও দুর্নীতির অভয়ারণ্য। অভিযোগ রয়েছে, খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেবদাস সাহার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এই বাহিনীর অনিয়ম-দুর্নীতির সাম্রাজ্য।

চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাজিম উদ্দীন। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন শাহাদত হোসেনসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ অনুসারে, তারা খামারের গেস্ট হাউজ দখল করে এসি রুমে থেকে বিলাসী জীবনযাপন করছেন এবং সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্নাসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে খামারে গেস্ট হাউজ, জেডির অফিস, তিনটি গোডাউন ও আনসার ক্যাম্প ছাড়া বাকি সব ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে প্রকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাইরে ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ নাজিম ও শাহাদাত গেস্ট হাউজে আরাম আয়েশে অবস্থান করছেন।

নাজিম ও শাহাদতের থাকার অনুমতি আনসার ক্যাম্পে থাকলেও, বাস্তবে তারা অবস্থান করছেন গেস্ট হাউজে। এছাড়া শাহাদত হোসেন খামারের ভেতরেই জেডির পৃষ্ঠপোষকতায় হাঁস-মুরগির খামার পরিচালনা করছেন। খামারের উৎপাদিত ধান ও গমই সেখানে হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

খামারে কর্মরত একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শ্রমিকদের ভুয়া তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে “নাজিম বাহিনীর সদস্যরা রাতের আঁধারে খামারের ধান, গম, আলু, সার, কীটনাশক, তেল, এমনকি পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ পর্যন্ত চুরি করে বাইরে বিক্রি করছে।”

তারা আরও বলেন, “গ্যারেজে থাকা স্টিলের খুঁটি, এসএস পাইপ, গ্রিল, ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ ও খামারের বড়, বড় গাছ পর্যন্ত চুপিসারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সব জানি, কিন্তু মুখ খুলতে পারি না—ভয়ের কারণে।”

শ্রমিকদের অভিযোগ, কেউ প্রতিবাদ করলেই নাজিম উদ্দীন ও জেডির যৌথ চক্রান্তে তাকে খামার থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফলে গ্যারেজ মেকানিক, ট্রাক্টর চালক, সাধারণ শ্রমিক—সবাই আতঙ্কে কাজ করছেন।

তারা আরও জানান, জেডির রাঁধুনির নামে শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি হাজিরা নিচ্ছেন, অথচ কোনো কাজ করছেন না। খাতাপত্রে নাজিম একজন শ্রমিক হলেও বাস্তবে পুরো খামারের নিয়ন্ত্রণই তার হাতে।

অভিযোগ রয়েছে, জেডি এলাকার শ্রমিকদের কাজে না লাগিয়ে বাইরের জেলা থেকে নাজিম ও শাহাদতকে খামারে নিয়ে এসেছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, “জেডির আশ্রয়ে থেকেই তারা এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি খামারের উপপরিচালক কর্মকর্তারাও নাজিমের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না।”

পাটবীজ বিভাগের জিএম দেবদাস সাহা এসব বিষয়ে অবগত থাকলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। বরং তিনি মৌখিকভাবে এই চক্রকে অনুমোদন দিয়েছেন বলেই দাবি করেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি এই খামারে গড়ে ওঠা দুর্নীতির চক্র, দখলদারিত্ব ও সম্পদ অপচয়ের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে খামারের ট্রাক্টর চালক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তিনি কোনো নিয়োগপত্র দেখাতে পারেননি। জানান, তিনি মাস্টাররোলে কর্মরত এবং দৈনিক দিন হাজিরার ভিত্তিতে বেতন পান। তবে খামারে তার বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেসব তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পাটবীজ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেবদাস সাহা এবং চিৎলা পাটবীজ খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্ত শুরু করল ফিফা

গাংনীর চিৎলা পাটবীজ খামারে নাজিম বাহিনীর দখলদারি: চলছে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব

আপডেট সময় ১১:৩৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎলা পাটবীজ খামারে চলছে নাজিম বাহিনীর রাজত্ব। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন “নাজিম বাহিনীর” অনিয়ম ও দুর্নীতির অভয়ারণ্য। অভিযোগ রয়েছে, খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেবদাস সাহার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এই বাহিনীর অনিয়ম-দুর্নীতির সাম্রাজ্য।

চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাজিম উদ্দীন। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন শাহাদত হোসেনসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ অনুসারে, তারা খামারের গেস্ট হাউজ দখল করে এসি রুমে থেকে বিলাসী জীবনযাপন করছেন এবং সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্নাসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে খামারে গেস্ট হাউজ, জেডির অফিস, তিনটি গোডাউন ও আনসার ক্যাম্প ছাড়া বাকি সব ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে প্রকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাইরে ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ নাজিম ও শাহাদাত গেস্ট হাউজে আরাম আয়েশে অবস্থান করছেন।

নাজিম ও শাহাদতের থাকার অনুমতি আনসার ক্যাম্পে থাকলেও, বাস্তবে তারা অবস্থান করছেন গেস্ট হাউজে। এছাড়া শাহাদত হোসেন খামারের ভেতরেই জেডির পৃষ্ঠপোষকতায় হাঁস-মুরগির খামার পরিচালনা করছেন। খামারের উৎপাদিত ধান ও গমই সেখানে হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

খামারে কর্মরত একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শ্রমিকদের ভুয়া তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে “নাজিম বাহিনীর সদস্যরা রাতের আঁধারে খামারের ধান, গম, আলু, সার, কীটনাশক, তেল, এমনকি পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ পর্যন্ত চুরি করে বাইরে বিক্রি করছে।”

তারা আরও বলেন, “গ্যারেজে থাকা স্টিলের খুঁটি, এসএস পাইপ, গ্রিল, ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ ও খামারের বড়, বড় গাছ পর্যন্ত চুপিসারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সব জানি, কিন্তু মুখ খুলতে পারি না—ভয়ের কারণে।”

শ্রমিকদের অভিযোগ, কেউ প্রতিবাদ করলেই নাজিম উদ্দীন ও জেডির যৌথ চক্রান্তে তাকে খামার থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফলে গ্যারেজ মেকানিক, ট্রাক্টর চালক, সাধারণ শ্রমিক—সবাই আতঙ্কে কাজ করছেন।

তারা আরও জানান, জেডির রাঁধুনির নামে শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি হাজিরা নিচ্ছেন, অথচ কোনো কাজ করছেন না। খাতাপত্রে নাজিম একজন শ্রমিক হলেও বাস্তবে পুরো খামারের নিয়ন্ত্রণই তার হাতে।

অভিযোগ রয়েছে, জেডি এলাকার শ্রমিকদের কাজে না লাগিয়ে বাইরের জেলা থেকে নাজিম ও শাহাদতকে খামারে নিয়ে এসেছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, “জেডির আশ্রয়ে থেকেই তারা এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি খামারের উপপরিচালক কর্মকর্তারাও নাজিমের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না।”

পাটবীজ বিভাগের জিএম দেবদাস সাহা এসব বিষয়ে অবগত থাকলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। বরং তিনি মৌখিকভাবে এই চক্রকে অনুমোদন দিয়েছেন বলেই দাবি করেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি এই খামারে গড়ে ওঠা দুর্নীতির চক্র, দখলদারিত্ব ও সম্পদ অপচয়ের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে খামারের ট্রাক্টর চালক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তিনি কোনো নিয়োগপত্র দেখাতে পারেননি। জানান, তিনি মাস্টাররোলে কর্মরত এবং দৈনিক দিন হাজিরার ভিত্তিতে বেতন পান। তবে খামারে তার বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেসব তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পাটবীজ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেবদাস সাহা এবং চিৎলা পাটবীজ খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।