ভেদেরগঞ্জ উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ মার্চ) ভেদেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ভেদেরগঞ্জ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা উসমান হাকিমী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাওলানা আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, আলহাজ্ব মাওলানা আবু জাফর মোঃ সালেহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম।এস এম আহসান হাবীব সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখা। মাওলানা মুফতি সাইফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখা। মুফতি তোফায়েল আহমেদ কাসেমী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখা। মাওলানা হাফিজুর রহমান শরীয়তপুরী, সহ-সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখা। হাফেজ মাওলানা লোকমান বিন সালেহ সদর, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি ভেদরগঞ্জ থানা শাখা। মোঃ আসাদুজ্জামান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভেদরগঞ্জ থানা শাখা প্রমুখ।
এসময় আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা উসমান হাকিমী বলেন,আমি শুরুতে স্মরণ করছি দয়াময় আল্লাহ তায়ালাকে যিনি আজকের আযোজনকে সম্পূর্ণ করার তৌফিক দান করেছেন। তারপর স্মরণ করছি তাদেরকে যারা সাইত্রিশ বছর যাবত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সময়ের ধারার সাথে নতুন নতুন থিম তৈরি করে ইসলামী আন্দোলনকে মূল ধারায় নিয়ে এসেছেন। সময় বদলায় রাজনীতির গতিধারা বদলায়। যেই রাজনৈতিক দল সময়ের স্রোতের ধারা বুঝতে পারে। সেই দল ই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায়। বিজয় ২৪ এ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই গতিধারায় ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে। কেননা বিজয় ২৪ এর ইতিহাস। আমাদের গৌরবময় ইতিহাস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জুলাইয়ের শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে স্বনামেই এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। তাই স্বৈরশাসনের পরে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়েছে। সুতরাং এখন সময় হল ইসলামিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের। কোন চেতনাই চিরস্থায়ী নয়। কেননা রাজনীতির বাস্তবতা বদলায়। তরুণদের চিন্তা করার দ্বারা বদলায়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৩ বছর হলো। ভারত স্বাধীন হয়েছে ৭৭ বছর হলো। এক সময়ের মুসলিম লীগ ভারতীয় মহাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত ছিল। কিন্তু মুসলিম লীগ রাজনীতির বাস্তবতার সাথে নিজেদেরকে বদলাতে পারেনি। তরুণদের চিন্তাধারার সাথে তাদের বদলাতে পারেনি। তাই মুসলিম লীগ রাজনীতির মূলধারা থেকে হারিয়ে গেছে। তদ্রুপ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরি করে দীর্ঘ কয়েক দশক রাজনীতি করেছে। এমনকি জঘন্য স্বৈরশাসকের রুপ ধারণ করেছে। যার ফলে তাদের পতন হয়েছে। আমি জানিনা তারা কোনদিন আর ফিরে আসতে পারবে কি না? তারা হারিয়ে যাবে মুসলিম লীগের মত। ন্যাপের মতন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তাদের নাম নেওয়ার মতো আর কেউ থাকবে কি না আমি জানি না।
পক্ষান্তরে ভারতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামকে পুঁজি করে। এই চেতনাকে ফেরি করে তারা বেশিদিন সুবিধা করতে পারেনি। তাই তারা নতুন থিম তৈরি করেছে। রাজনীতির নতুন ভাষা খুজেছে। ফলে তারা তাদের দলকে রাজনীতির মূলধারায় টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আমাদের বুঝতে হবে ১৯৭১ সালে প্রজন্ম। ১৯৯০ এর প্রজন্ম। ২০২৪ এর প্রজন্ম এক নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আমাদের নতুন এই প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখে।
মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মান করে। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে সম্মান করি। কিন্তু এ প্রজন্ম রাজনীতির প্রতিদিনের চর্চা হিসেবে এটাকে চায়না। এবং রাজনীতির উৎস হিসেবে মনে করে না বরং অর্থনৈতিক মুক্তি, কর্মসংস্থান, সুশিক্ষা প্রযুক্তি, সাম্য সুশাসন, এবং ইসলামী ভাবধারা এই প্রজন্ম কে আকর্ষণ করে। তাই তার এগুলো প্রতিদিন চর্চা করতে চায়। লালন করতে চায়।
সুতরাং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তরুণদের এই চিন্তা ধারাকে লালন করে। বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তবতা অনুধাবন করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তন করে সৌহার্দ সহযোগিতা পূর্ণ’ ইসলামিক রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ নির্মাণ করতে চায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আরো চায় বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তন। কেননা ব্রিটিশ প্রবর্তিত বর্তমান বাংলাদেশের আইন এবং বিচার ব্যবস্থা দিয়ে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। মামলার জট বৃদ্ধি হতে হতে পাহাড় হয়ে যায়।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা ইসলামী যুব আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ আনোয়ার হোসেন (বাবু সিকদার), শরীয়তপুর জেলা ব্যুরো 























