ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল সাদুল্লাপুরে  কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও চারাগাছ বিতরণ বেরোবির ওয়েবসাইটে মিলছে না শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা চুক্তিভিত্তিক সচিব কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ ৪ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রকৌশলী ফেনী পৌরসভায় বদলি বিএডিসির আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি ভিকারুননিসায় নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

বিএডিসির আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।

বিএডিসির একাধিক সূত্রের দাবি,সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসিতে প্রভাব বিস্তার এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন তিনি। বীজ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে ক্রয়, বীজ সংগ্রহ, বিতরণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের প্রভাব ব্যবহার করে ঘুষের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিজের পদায়ন নিশ্চিত করেন নুরুল ইসলাম। এরপর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগেও কমিশন ও টেন্ডার বাণিজ্য চালিয়ে যান বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরুল ইসলাম। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নিজস্ব বাড়ি, বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করা উচিত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল

বিএডিসির আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।

বিএডিসির একাধিক সূত্রের দাবি,সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসিতে প্রভাব বিস্তার এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন তিনি। বীজ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে ক্রয়, বীজ সংগ্রহ, বিতরণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের প্রভাব ব্যবহার করে ঘুষের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিজের পদায়ন নিশ্চিত করেন নুরুল ইসলাম। এরপর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগেও কমিশন ও টেন্ডার বাণিজ্য চালিয়ে যান বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরুল ইসলাম। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নিজস্ব বাড়ি, বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করা উচিত।