# প্রতিমাসে আয় করেন ১০-১৫ হাজার
# ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ
# প্রতি কেজি মাশরুম ৩০০ টাকা
# ১০ হাজার টাকায় শুরু করে বর্তমানে ৬ লক্ষাধিক টাকার পুঁজি
# নতুন কোন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষে আগ্রহী হলে দেয়া হবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগীতা। কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়
ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেই চাষাবাদ শুরু করে বর্তমানে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ষাটোর্ধ আবুল কাশেম। তিনি উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের মৃত দলিলুর রহমান প্রকাশ লেদু সওদাগরের পুত্র।
জানা গেছে, ৩ দশক প্রবাস জীবন পার করে দেশে ফিরে জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায়ন্তর খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কখনো নার্সারি, কখনো দোকান করে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রচেষ্টায় কাটিয়ে দেন ৯টি বছর, কিন্তু জীবিকা নির্বাহের সেই প্রচেষ্টাগুলোতেও ব্যর্থ হন। একসময় ইউটিউবে মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে ২০২২ সালে ঝুঁকে পড়েন মাশরুম চাষে। এরই ধারাবাহিকতায় নেন রিফা মাশরুম প্রজেক্ট আয়োজিত মাশরুম চাষ বিষয়ক ১ দিনের প্রশিক্ষণ। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ইমপর্টেন্স অব মাশরুম অ্যান্ড কাল্টিভেশান টেননিক’ এর ওপর ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন।
সারেজমিনে দেখা যায়, মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমানে তার ৪৪ ফুট বাই ২৪ ফুট আয়তনের মাশরুম প্রজেক্ট রয়েছে যা প্রায় ৬ লাখ টাকার সম্পদে উন্নীত হয়েছে। উৎপাদিত মাশরুম কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। মাশরুমের প্রচুর ক্রেতা চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় ক্রেতাদের হাতে চাহিদানুযায়ী মাশরুম সরবরাহ করতে পারছেন না তিনি। সব খরচ বাদ দিয়ে এখন মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
মাশরুম চাষী আবুল কাশেম বলেন, আমি ৩০ বছর দুবাই প্রবাসী ছিলাম। দুবাই থেকে দেশে ফিরে কী করব ভাবতে ভাবতে একসময় ইউটিউবে মাশরুম চাষের নানা ভিডিও দেখে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হলাম। এরপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় মাশরুম চাষের ওপর ট্রেনিং নিই। ট্রেনিং নেওয়ার পর আমার জন্য মাশরুম চাষটা খুবই সহজ হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমি মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করছি। মিরসরাইয়ে নতুন কেউ মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হলে আমি তাদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি, যাতে করে মাশরুমের যেই চাহিদা রয়েছে তা পূরণ হয়।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। মাশরুম প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তা আবুল কাশেমকে আমরা একটি মাশরুম উৎপাদন ঘর, একটি চাষ ঘর, মাশরুম উৎপাদনের জন্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, একটি ভ্যান প্রদান করেছি।
তিনি আরও বলেন, যদি কোন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চায় তাহলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করা হবে।
জাবেদ ভূঁইয়া, মিরসরাই (চট্টগ্রাম):: 





















