কুতুপালং বাজারে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের আউটলেট শাখার ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার, ৬ই মার্চ ২০২৫ইং তারিখে গ্রাহকের জামানত টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার/ সমালোচনার ঝড় তুলেছে এবং গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি জেলা প্রতিনিধি সরেজমিনে অনুসন্ধান করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। জানা যায় যে, কুতুপালং বাজারের আউটলেট শাখাটি এজেন্ট হিসেবে নিয়েছিলেন সালাহ উদ্দিন, যিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার আত্মীয় শহিদ উল্লাহকে কুতুপালং শাখার ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
ঘটনাটি ০৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে ঘটেছে এমনটা জানিয়েছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা, যখন একজন গ্রাহক আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কুতুপালং শাখায় চেক নিয়ে টাকা তুলতে আসেন । ম্যানেজার শহিদ উল্লাহ গ্রাহককে কোর্টবাজার ব্রাঞ্চ থেকে টাকা তুলে এনে দেওয়ার কথা বলে চেকটি নিয়ে যান।পরবর্তীতে, শহিদ উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা তখন সন্দেহ করতে শুরু করেন যে, ম্যানেজার গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
গ্রাহকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ম্যানেজার শহিদ উল্লাহ। তবে, পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের অফিসে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও ১৪ জন গ্রাহকের উপস্থিতিতে ৫৩ লক্ষ টাকার হিসেব পাওয়া গেলেও গ্রাহকের কাছে ব্যাংক ডকুমেন্টস অনুযায়ী ৩৩ লক্ষ টাকার হিসেব পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি ঘটনার সময় চট্টগ্রামে ছিলেন। ফিরে এসে, অভিযুক্ত গ্রাহক ও এজেন্ট শাখার মালিক সালাহ উদ্দিনসহ পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিনের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে জানা যায়, গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে,আল আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক কুতুপালং আউটলেট শাখায় জমা দেওয়া টাকা কক্সবাজার ব্রাঞ্চে জমা হয়নি।
এদিকে,রাজাপালং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের অফিসে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর উপস্থিতি নিয়েও উঠেছে নানান প্রশ্ন। কিছু লোক অভিযোগ করছেন, গফুর উদ্দিন চৌধুরী আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কুতুপালং আউটলেট শাখায় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে রয়েছেন। গফুর উদ্দিন চৌধুরীর বড় মেয়ের জামাই, জহির উদ্দিন, কক্সবাজারের ঈদগাহ ব্রাঞ্চে ইনচার্জ ইনভেস্ট হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। সে সুযোগে তিনি রোহিঙ্গা কেন্দ্রীয় কুতুপালং বাজারে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা প্রতিষ্ঠা করেছেন এমনটা মন্তব্য করেন স্থানীয় জনসাধারণ।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি আল আরাফাহ ব্যাংকের সাথে কোনো ভাবেই সম্পৃক্ত নয়।আমার মেয়ের জামাই জহির উদ্দিন আল আরাফাহ ইসলামি ব্যাংকে চাকরি করায় কুতুপালং আউটলেট শাখার বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ব্যাংকের ম্যানেজার শহিদ উল্লাহ, এজেন্ট শাখার মালিক সালাহ উদ্দিন ও ঈদগাহ ব্রাঞ্চের ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ জহির উদ্দিন একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সবাই টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকংয়ের কাঞ্জর পাড়ার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কুতুপালং শাখার ম্যানেজার শহিদ উল্লাহ গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর, তার পিতা হাফেজ মোহাম্মদ ইউনুস একটি নাটকীয় জিডি করে উখিয়া থানায় অভিযোগ জানান যে, তার ছেলে শহিদ উল্লাহ নিখোঁজ হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকেই দাবি করছেন, ম্যানেজার শহিদ উল্লাহ ৪ কোটি টাকা আবার কেউ কেউ বলছেন ৩ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন।
এদিকে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের সঠিক টাকার পরিমাণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, রবিবার ব্যাংক খোলার পর বিষয়টির সঠিক পরিসংখ্যান জানা যাবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি,তবে গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা হতে পারে।
এই ঘটনা এলাকার মানুষ ও ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে,আমজনতার টাকা আদৌও ফিরে পাবে কি? জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সৈয়দ হোসাইন : কক্সবাজার প্রতিনিধি 





















