ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলডিসি উত্তরণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইর পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া ফ্রী করল প্রশাসন উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি বিশ্বকাপের ধাক্কার পর জু’য়া খেলতে গিয়েও হারলেন নেইমার টিকটকার লিটন ও লেবু মিয়ার চুল কেটে দিল জনতা মাদলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেল জব্দ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বন্যার্তদের পাশে ৫২ বিজিবি: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা বিএমইটিতে নূর-এ-আলমকে ঘিরে দাপুটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী ‘স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ’ : হাসনাত আবদুল্লাহ

হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’ এর আওতায় যাকাত, দান-অনুদান সংগ্রহ কর্মসূচি

১০ মার্চ, ঢাকার সমাজসেবা অডিটোরিয়াম হলে আয়োজিত হয় “যাকাত, দান-অনুদান সংগ্রহ কর্মসূচি এবং ইসলাম, দুস্থ ও অসহায় রোগীদের কল্যাণে যাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক সেমিনার, যা আগামীকাল ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নীতি-নির্ধারক, সমাজসেবক, গবেষক ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ইসলামী অর্থনীতির ভূমিকা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ মহিউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ সাইদুর রহমান খান। সেমিনারে বক্তারা যাকাত ও দানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ, যাকাতের তাৎপর্য ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথি ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “যাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি শুধু ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কার্যকর উপায়। যথাযথভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।” বিশেষ অতিথি ড. মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “সরকার ইতিমধ্যে যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমরা চাই সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষ আরও বেশি এগিয়ে আসুক এবং দুস্থ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নে যাকাত ব্যবহৃত হোক।”
সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান খান বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে যাকাত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।” সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে যাকাত বিতরণ করা হলে গরিব, এতিম ও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বিশেষজ্ঞরা যাকাত ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করার ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়াও আলোচকরা যাকাত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন, যার মাধ্যমে যাকাত প্রদানকারীরা সরাসরি তাদের অনুদান দিতে পারবেন এবং সুবিধাভোগীরা সহজেই সহায়তা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজকল্যাণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যাকাতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় পরিচালিত ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে হাসপাতালে আগত দরিদ্র রোগীদের ঔষধ, পথ্য, রক্ত, চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ, যাতায়াত ভাড়া, লাশ পরিবহন ও মৃতের সৎকার এবং রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষার খরচ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বর্তমানে ১২টি মহানগর এবং ৬৪টি জেলায় ১১৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এবং উপজেলা পর্যায়ে ৪২০টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে মোট ৫৩৮টি হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে ‘রোগীকল্যাণ সমিতি’ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সরকারের যাকাত ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং যাকাত, দান ও অনুদান কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি উত্তরণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইর

হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’ এর আওতায় যাকাত, দান-অনুদান সংগ্রহ কর্মসূচি

আপডেট সময় ০৪:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

১০ মার্চ, ঢাকার সমাজসেবা অডিটোরিয়াম হলে আয়োজিত হয় “যাকাত, দান-অনুদান সংগ্রহ কর্মসূচি এবং ইসলাম, দুস্থ ও অসহায় রোগীদের কল্যাণে যাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক সেমিনার, যা আগামীকাল ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নীতি-নির্ধারক, সমাজসেবক, গবেষক ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ইসলামী অর্থনীতির ভূমিকা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ মহিউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ সাইদুর রহমান খান। সেমিনারে বক্তারা যাকাত ও দানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ, যাকাতের তাৎপর্য ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথি ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “যাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি শুধু ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কার্যকর উপায়। যথাযথভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।” বিশেষ অতিথি ড. মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “সরকার ইতিমধ্যে যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমরা চাই সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষ আরও বেশি এগিয়ে আসুক এবং দুস্থ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নে যাকাত ব্যবহৃত হোক।”
সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান খান বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে যাকাত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।” সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে যাকাত বিতরণ করা হলে গরিব, এতিম ও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বিশেষজ্ঞরা যাকাত ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করার ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়াও আলোচকরা যাকাত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন, যার মাধ্যমে যাকাত প্রদানকারীরা সরাসরি তাদের অনুদান দিতে পারবেন এবং সুবিধাভোগীরা সহজেই সহায়তা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজকল্যাণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যাকাতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় পরিচালিত ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে হাসপাতালে আগত দরিদ্র রোগীদের ঔষধ, পথ্য, রক্ত, চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ, যাতায়াত ভাড়া, লাশ পরিবহন ও মৃতের সৎকার এবং রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষার খরচ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বর্তমানে ১২টি মহানগর এবং ৬৪টি জেলায় ১১৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এবং উপজেলা পর্যায়ে ৪২০টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে মোট ৫৩৮টি হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে ‘রোগীকল্যাণ সমিতি’ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সরকারের যাকাত ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং যাকাত, দান ও অনুদান কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।