ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলডিসি উত্তরণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইর পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া ফ্রী করল প্রশাসন উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি বিশ্বকাপের ধাক্কার পর জু’য়া খেলতে গিয়েও হারলেন নেইমার টিকটকার লিটন ও লেবু মিয়ার চুল কেটে দিল জনতা মাদলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেল জব্দ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বন্যার্তদের পাশে ৫২ বিজিবি: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা বিএমইটিতে নূর-এ-আলমকে ঘিরে দাপুটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী ‘স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ’ : হাসনাত আবদুল্লাহ

নরসিংদীর নীলকুঠি  মসজিদ স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নিদর্শন

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার ছায়া সুনিবিড় গাছগাছালি দ্বারা বেষ্টিত আটকান্দি গ্রামে মেঘনা নদীর (ছোট মেঘনা নদী) পাড়ে  আটকান্দি মসজিদ নির্মান করা হয়েছে । যা স্হানীয়দের কাছে নীলকুঠি মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটি মওলানা আলীম উদ্দিন ১৫০ বছরের বেশি সময় আগে  নির্মাণ  করা হয়েছিল।
মওলানা আলীম উদ্দিন একজন ধার্মিক মানুষ ও ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। কোন শিলালিপি না থাকায় মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুমান করা হয় আটকান্দি মসজিদটি ১৮৯০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে। আটকান্দি নীলকুঠি মসজিদটিতে একটি কেন্দ্রীয় মেহরাব রয়েছে। মসজিদটি ৮ গম্বুজ বিশিষ্ট এর মধ্যে মূল মসজিদে গম্বুজ রয়েছে ৩ টি মাঝের গম্বুজটি ২ পাশের গম্বুজ হতে অপেক্ষাকৃত বড় আর মূল মসজিদের বাহিরে বারান্দায় গম্বুজ রয়েছে ৫ টি। এই গম্বুজ গুলো মসজিদের মূল গম্বুজ থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট। মসজিদের বারান্দা দিয়ে মূল মসজিদে প্রবেশ পথ রয়েছে ৫ টি এবং বারান্দার ২ পাশে ২ টি। বারান্দা থেকে মূল মসজিদে ভিতরে প্রবেশ পথ রয়েছে ২ টি। আটকান্দি নীলকুঠি মসজিদটিকে অনেকে মোঘল স্থাপত্যশৈলীর সাথে তুলনা করেন

অনেকই মসজিদটিকে তাজমহলের সাথে তুলনা করেন। কারন মসজিদের গম্বুজ গুলো তাজমহলের গম্বুজের মত দেখতে। একই সাথে মসজিদের পাশেই মওলানা আলীম উদ্দিনের স্ত্রীর কবর রয়েছে ধারনা করা হয় স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা এবং আবেগ থেকেই মওলানা আলীম উদ্দিন এই মসজিদ নির্মান করেন। প্রতিদিনই এই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে দেখতে অনেক ঐতিহ্যপ্রেমী এবং ভ্রমণ পিপাসু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। কিন্তু নির্মানের পর হইতে মসজিদটিতে কোন সংস্কার না করার ফলে বর্তমানে মসজিদের ভিতরে ও বাহিরের অবস্থা খুবই নাজুক। অল্প বৃষ্টিতেই মসজিদের দেয়াল দিয়ে মসজিদের ভিতরে পানি প্রবেশ করে। তাই অতিসত্বর ঐতিহাসিক এই মসজিদটি কে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্ত করে সংস্কার করা প্রয়োজন।  সংস্কার করা না যায় তাহলে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে আরো একটি ঐতিহাসিক নির্দশন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি উত্তরণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইর

নরসিংদীর নীলকুঠি  মসজিদ স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নিদর্শন

আপডেট সময় ০৪:০৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার ছায়া সুনিবিড় গাছগাছালি দ্বারা বেষ্টিত আটকান্দি গ্রামে মেঘনা নদীর (ছোট মেঘনা নদী) পাড়ে  আটকান্দি মসজিদ নির্মান করা হয়েছে । যা স্হানীয়দের কাছে নীলকুঠি মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটি মওলানা আলীম উদ্দিন ১৫০ বছরের বেশি সময় আগে  নির্মাণ  করা হয়েছিল।
মওলানা আলীম উদ্দিন একজন ধার্মিক মানুষ ও ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। কোন শিলালিপি না থাকায় মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুমান করা হয় আটকান্দি মসজিদটি ১৮৯০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে। আটকান্দি নীলকুঠি মসজিদটিতে একটি কেন্দ্রীয় মেহরাব রয়েছে। মসজিদটি ৮ গম্বুজ বিশিষ্ট এর মধ্যে মূল মসজিদে গম্বুজ রয়েছে ৩ টি মাঝের গম্বুজটি ২ পাশের গম্বুজ হতে অপেক্ষাকৃত বড় আর মূল মসজিদের বাহিরে বারান্দায় গম্বুজ রয়েছে ৫ টি। এই গম্বুজ গুলো মসজিদের মূল গম্বুজ থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট। মসজিদের বারান্দা দিয়ে মূল মসজিদে প্রবেশ পথ রয়েছে ৫ টি এবং বারান্দার ২ পাশে ২ টি। বারান্দা থেকে মূল মসজিদে ভিতরে প্রবেশ পথ রয়েছে ২ টি। আটকান্দি নীলকুঠি মসজিদটিকে অনেকে মোঘল স্থাপত্যশৈলীর সাথে তুলনা করেন

অনেকই মসজিদটিকে তাজমহলের সাথে তুলনা করেন। কারন মসজিদের গম্বুজ গুলো তাজমহলের গম্বুজের মত দেখতে। একই সাথে মসজিদের পাশেই মওলানা আলীম উদ্দিনের স্ত্রীর কবর রয়েছে ধারনা করা হয় স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা এবং আবেগ থেকেই মওলানা আলীম উদ্দিন এই মসজিদ নির্মান করেন। প্রতিদিনই এই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে দেখতে অনেক ঐতিহ্যপ্রেমী এবং ভ্রমণ পিপাসু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। কিন্তু নির্মানের পর হইতে মসজিদটিতে কোন সংস্কার না করার ফলে বর্তমানে মসজিদের ভিতরে ও বাহিরের অবস্থা খুবই নাজুক। অল্প বৃষ্টিতেই মসজিদের দেয়াল দিয়ে মসজিদের ভিতরে পানি প্রবেশ করে। তাই অতিসত্বর ঐতিহাসিক এই মসজিদটি কে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্ত করে সংস্কার করা প্রয়োজন।  সংস্কার করা না যায় তাহলে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে আরো একটি ঐতিহাসিক নির্দশন।