ভোলার- বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৬ নং কাচিয়া ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারে গাঁজাসহ আকবর (৪০) কে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ ২০২৫) সন্ধ্যার পর কাচিয়া ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্নে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বোরহানউদ্দিন থানার একদল পুলিশ কালিরহাট বাজারে অভিযান চালায়। এসময় আকবর নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করলে, তাকে ছিনিয়ে নিতে ০৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমলগীর ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকবরকে গাঁজা সহ আটক করলে আমলগীর(৪৫) পিতা- নসু হাওলাদার, ফকরুল(৩৫) পিতা- নসু হাওলাদার, বাবু (২২) পিতা- নসু হাওলাদার,আরো ১০/১২ জন মিলে রট ও লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে পুলিশের এএসআই কামরুল গুরুতর আহত হয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার ওসি জানিয়েছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর কাচিয়া ৬ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কালিরহাট বাজারকে ঘিরে মাদকের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
গেল ৬ জানুয়ারি একই উপজেলার বাটামারা গ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে স্বজনদের হামলায় পুলিশের দুই এএসআই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। যাঁর কারনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
রিয়াজ ফরাজি 

























