ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সে ৯.০৭ কোটি টাকার নিরীক্ষা-অসঙ্গতি কাজ না করেই ৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অজিতকে সিইও নিয়োগের উদ্যোগে বিতর্কে যমুনা লাইফ! ডিসি আলমগীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, বরখাস্তের পরও ডাবল প্রমোশন নিয়ে বিতর্ক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত, তবুও ঢাকা মেট্রো জোনে বহাল আলিফ বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জাইকা প্রকল্পে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, ৪১ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত

মেধা ও পরিশ্রম বিফলে যায় না: সহকারী জজ সুপারিশপ্রাপ্ত জবি শিক্ষার্থী মামুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন হোসেন জীবন যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে অতিক্রম করে সফলতার মাল্য গলায় পরতে সক্ষম হয়েছেন। মেধা ও পরিশ্রম বিফলে যায় না তার বাস্তব উদাহরণ মামুন। নানা চড়াই উৎরাই মোকাবলা করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক ১৭তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ এ সহকারী জজ হিসেবে মামুনসহ ৮ জন জবি শিক্ষার্থী সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবসময় তাদের দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।’

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরের সন্তান মামুন হোসেন। কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার চালানো পিতা আব্দুল হাকিম মোল্যার ছোট ছেলে মামুন ভবিষ্যতে সহকারী জজের মত ঈর্ষণীয় পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন, এমনটা কল্পনা করতে পারেনি অনেকেই।

মামুন বাল্যকালে ৬২ নং গদাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরু করেন। তার শিক্ষকেরা জানান, ছোটবেলা থেকেই মামুনের লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আর্থিক অসচ্ছলতার সংসারে পিতামাতা তাদের ছেলেকে জীবন সংগ্রামে যোগ্য করে গড়ে তুলতে সাধ্যমত চেষ্টা করেন। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন গদাইপুর জেহের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও পিতামাতার দোয়ায় ২০১২ সালে তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৯৪ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন।

এরপরেই মামুনের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যায় তার বাবা-মায়ের। শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। নানা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে ছেলেকে ভর্তি করান খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে। এই কলেজ থেকে মামুন ২০১৪ সালে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসিতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। মামুনকে ঘিরে বাড়তে থাকে পরিবারের স্বপ্ন।

মামুনের স্কুল কলেজের শিক্ষক, পারিবারিক বন্ধু ও ঘনিষ্টদের পরামর্শে তার বাবা মা সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন। বাবা মা ও তার বড় ভাইয়ের সীমাহীন ত্যাগে মামুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-২০১৬ সেশনে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএল.এম (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী সনদপ্রাপ্ত হন এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকায় অ্যাডভোকেট হিসাবে আইনপেশায় যোগদান করেন।

মামুন হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আমি যখন ভর্তি হই। তখন থেকেই বাবা, মা এবং একমাত্র ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল মামুন একদিন বিচারক হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। তাদের এই তীব্র ইচ্ছা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম ছাত্রজীবন থেকে আমাকে বিচারক হতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরপর ১৪, ১৫ ও ১৬তম বিজেএস পরীক্ষার ভাইবাতে আমি যখন অকৃতকার্য হতে থাকি তখন মা সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন, বুঝিয়েছেন ও সান্ত্বনা দিয়েছেন। অবশেষে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে, ১৭তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে আল্লাহ আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’

শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার এই সাফল্যের জন্য আমার ছাত্রজীবনের সকল শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশমাতৃকার সেবা করতে পারি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

মেধা ও পরিশ্রম বিফলে যায় না: সহকারী জজ সুপারিশপ্রাপ্ত জবি শিক্ষার্থী মামুন

আপডেট সময় ১১:০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন হোসেন জীবন যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে অতিক্রম করে সফলতার মাল্য গলায় পরতে সক্ষম হয়েছেন। মেধা ও পরিশ্রম বিফলে যায় না তার বাস্তব উদাহরণ মামুন। নানা চড়াই উৎরাই মোকাবলা করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক ১৭তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ এ সহকারী জজ হিসেবে মামুনসহ ৮ জন জবি শিক্ষার্থী সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবসময় তাদের দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।’

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরের সন্তান মামুন হোসেন। কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার চালানো পিতা আব্দুল হাকিম মোল্যার ছোট ছেলে মামুন ভবিষ্যতে সহকারী জজের মত ঈর্ষণীয় পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন, এমনটা কল্পনা করতে পারেনি অনেকেই।

মামুন বাল্যকালে ৬২ নং গদাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরু করেন। তার শিক্ষকেরা জানান, ছোটবেলা থেকেই মামুনের লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আর্থিক অসচ্ছলতার সংসারে পিতামাতা তাদের ছেলেকে জীবন সংগ্রামে যোগ্য করে গড়ে তুলতে সাধ্যমত চেষ্টা করেন। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন গদাইপুর জেহের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও পিতামাতার দোয়ায় ২০১২ সালে তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৯৪ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন।

এরপরেই মামুনের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যায় তার বাবা-মায়ের। শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। নানা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে ছেলেকে ভর্তি করান খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে। এই কলেজ থেকে মামুন ২০১৪ সালে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসিতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। মামুনকে ঘিরে বাড়তে থাকে পরিবারের স্বপ্ন।

মামুনের স্কুল কলেজের শিক্ষক, পারিবারিক বন্ধু ও ঘনিষ্টদের পরামর্শে তার বাবা মা সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন। বাবা মা ও তার বড় ভাইয়ের সীমাহীন ত্যাগে মামুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-২০১৬ সেশনে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএল.এম (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী সনদপ্রাপ্ত হন এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকায় অ্যাডভোকেট হিসাবে আইনপেশায় যোগদান করেন।

মামুন হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আমি যখন ভর্তি হই। তখন থেকেই বাবা, মা এবং একমাত্র ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল মামুন একদিন বিচারক হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। তাদের এই তীব্র ইচ্ছা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম ছাত্রজীবন থেকে আমাকে বিচারক হতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরপর ১৪, ১৫ ও ১৬তম বিজেএস পরীক্ষার ভাইবাতে আমি যখন অকৃতকার্য হতে থাকি তখন মা সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন, বুঝিয়েছেন ও সান্ত্বনা দিয়েছেন। অবশেষে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে, ১৭তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে আল্লাহ আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’

শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার এই সাফল্যের জন্য আমার ছাত্রজীবনের সকল শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশমাতৃকার সেবা করতে পারি।’