লাখাই উপজেলার ৬ নং বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স এর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। আইন অনুযায়ী বসতবাড়ির উপর আমাদের বার্ষিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধ করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কর আদায় করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা এবং একজন চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) এই করের
টাকা আদায় করে থাকেন বলে এটি চৌকিদারি ট্যাক্স নামেও পরিচিত। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে ট্যাক্স আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ আছে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত শীটে(ভলিউমে)উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছেন কর্তব্যরত কর্মকর্তারা। এমনকি ছাপানো সংখ্যার ওপর কলম দিয়ে তাঁরা খেয়ালখুশিমতো টাকার পরিমাণ বসাচ্ছেন এবং সেটা দেখিয়ে সহজেই টাকা আদায় করছেন।গেজেট এসআরও নম্বর ৩৩৯-আইন/২০১২/২০১৩ স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এবং এর ধারা ৬৬এ সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বার্ষিক কর হার কাচাঁ ঘরের জন্য ৫০/আধা পাকা ঘরের জন্য৭৫/পাকা ঘরের জন্য ১৫০ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে বার্ষিক হারে কাঁচা ঘরের জন্য ২০০ টাক,আদা পাকা ঘরের জন্য ৫৫০ টাকা,পাকা ঘরের জন্য ৬৫০ টাকা হারে। এভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
একজন দিনমজুর, যাঁকে ৫০০ টাকা রোজগার করতে ১ দিন শ্রম দিতে হয়; তাঁর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্সের নামে ৪০০-৫০০ টাকা আদায় করে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পূর্ববুল্লা গ্রামের আকবর আলী বলেন, আমার আদা কাঁচা বাড়ি সত্ত্বেও আমার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৫০ টাকা করে তিন বছরের জন্য ১৭০০ টাকা। আরেক ভুক্তভোগী মনসুর মিয়া বলেন, এক বছর আগে আমি কাঁচা ঘরের জন্য বার্ষিক ১৫০ টাকা করে দিলেও কিন্তু এ বছর আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে দাবি করছে এজন্য এখন পর্যন্ত আমি ট্যাক্স দেইনি। আরেক ভুক্তভোগী জানান আমার কাছে টেক্সের বই থাকা সত্ত্বেও এবং ট্যাক্সবইয়ের পাতা খালি তাকা সত্বে বইয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ট্যাক্স আদায়কারী কর্মকর্তা মিন্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে স্বীকার করেন এবং যা করছেন সব ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতিক্রমে করছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে ৬নং বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন চন্দ্র গ্রুপ সৌরভের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বারবার ফোন দিলে উনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
এব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাস অনুপ বলেন,হোল্ডিং ট্যাক্সের বিষয়টা সত্যতা যাচাইয়ে আমি খতিয়ে দেখব।
আসুন, আমরা সচেতন হই। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এই অন্যায় বন্ধ করা হোক।
পারভেজ হাসান 
























