ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

লাখাইয়ের বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স এর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা

  • পারভেজ হাসান
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৮১৭ বার পড়া হয়েছে

লাখাই উপজেলার ৬ নং বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স এর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। আইন অনুযায়ী বসতবাড়ির উপর আমাদের বার্ষিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধ করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কর আদায় করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা এবং একজন চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) এই করের
টাকা আদায় করে থাকেন বলে এটি চৌকিদারি ট্যাক্স নামেও পরিচিত। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে ট্যাক্স আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ আছে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত শীটে(ভলিউমে)উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছেন কর্তব্যরত কর্মকর্তারা। এমনকি ছাপানো সংখ্যার ওপর কলম দিয়ে তাঁরা খেয়ালখুশিমতো টাকার পরিমাণ বসাচ্ছেন এবং সেটা দেখিয়ে সহজেই টাকা আদায় করছেন।গেজেট এসআরও নম্বর ৩৩৯-আইন/২০১২/২০১৩ স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এবং এর ধারা ৬৬এ সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বার্ষিক কর হার কাচাঁ ঘরের জন্য ৫০/আধা পাকা ঘরের জন্য৭৫/পাকা ঘরের জন্য ১৫০ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে বার্ষিক হারে কাঁচা ঘরের জন্য ২০০ টাক,আদা পাকা ঘরের জন্য ৫৫০ টাকা,পাকা ঘরের জন্য ৬৫০ টাকা হারে। এভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
একজন দিনমজুর, যাঁকে ৫০০ টাকা রোজগার করতে ১ দিন শ্রম দিতে হয়; তাঁর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্সের নামে ৪০০-৫০০ টাকা আদায় করে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পূর্ববুল্লা গ্রামের আকবর আলী বলেন, আমার আদা কাঁচা বাড়ি সত্ত্বেও আমার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৫০ টাকা করে তিন বছরের জন্য ১৭০০ টাকা। আরেক ভুক্তভোগী মনসুর মিয়া বলেন, এক বছর আগে আমি কাঁচা ঘরের জন্য বার্ষিক ১৫০ টাকা করে দিলেও কিন্তু এ বছর আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে দাবি করছে এজন্য এখন পর্যন্ত আমি ট্যাক্স দেইনি। আরেক ভুক্তভোগী জানান আমার কাছে টেক্সের বই থাকা সত্ত্বেও এবং ট্যাক্সবইয়ের পাতা খালি তাকা সত্বে বইয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ট্যাক্স আদায়কারী কর্মকর্তা মিন্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে স্বীকার করেন এবং যা করছেন সব ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতিক্রমে করছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে ৬নং বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন চন্দ্র গ্রুপ সৌরভের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বারবার ফোন দিলে উনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

এব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাস অনুপ বলেন,হোল্ডিং ট্যাক্সের বিষয়টা সত্যতা যাচাইয়ে আমি খতিয়ে দেখব।
আসুন, আমরা সচেতন হই। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এই অন্যায় বন্ধ করা হোক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

লাখাইয়ের বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স এর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা

আপডেট সময় ০৪:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

লাখাই উপজেলার ৬ নং বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স এর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। আইন অনুযায়ী বসতবাড়ির উপর আমাদের বার্ষিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধ করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কর আদায় করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা এবং একজন চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) এই করের
টাকা আদায় করে থাকেন বলে এটি চৌকিদারি ট্যাক্স নামেও পরিচিত। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে ট্যাক্স আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ আছে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত শীটে(ভলিউমে)উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছেন কর্তব্যরত কর্মকর্তারা। এমনকি ছাপানো সংখ্যার ওপর কলম দিয়ে তাঁরা খেয়ালখুশিমতো টাকার পরিমাণ বসাচ্ছেন এবং সেটা দেখিয়ে সহজেই টাকা আদায় করছেন।গেজেট এসআরও নম্বর ৩৩৯-আইন/২০১২/২০১৩ স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এবং এর ধারা ৬৬এ সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বার্ষিক কর হার কাচাঁ ঘরের জন্য ৫০/আধা পাকা ঘরের জন্য৭৫/পাকা ঘরের জন্য ১৫০ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে বার্ষিক হারে কাঁচা ঘরের জন্য ২০০ টাক,আদা পাকা ঘরের জন্য ৫৫০ টাকা,পাকা ঘরের জন্য ৬৫০ টাকা হারে। এভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
একজন দিনমজুর, যাঁকে ৫০০ টাকা রোজগার করতে ১ দিন শ্রম দিতে হয়; তাঁর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্সের নামে ৪০০-৫০০ টাকা আদায় করে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পূর্ববুল্লা গ্রামের আকবর আলী বলেন, আমার আদা কাঁচা বাড়ি সত্ত্বেও আমার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৫০ টাকা করে তিন বছরের জন্য ১৭০০ টাকা। আরেক ভুক্তভোগী মনসুর মিয়া বলেন, এক বছর আগে আমি কাঁচা ঘরের জন্য বার্ষিক ১৫০ টাকা করে দিলেও কিন্তু এ বছর আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে দাবি করছে এজন্য এখন পর্যন্ত আমি ট্যাক্স দেইনি। আরেক ভুক্তভোগী জানান আমার কাছে টেক্সের বই থাকা সত্ত্বেও এবং ট্যাক্সবইয়ের পাতা খালি তাকা সত্বে বইয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ট্যাক্স আদায়কারী কর্মকর্তা মিন্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে স্বীকার করেন এবং যা করছেন সব ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতিক্রমে করছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে ৬নং বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন চন্দ্র গ্রুপ সৌরভের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বারবার ফোন দিলে উনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

এব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাস অনুপ বলেন,হোল্ডিং ট্যাক্সের বিষয়টা সত্যতা যাচাইয়ে আমি খতিয়ে দেখব।
আসুন, আমরা সচেতন হই। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এই অন্যায় বন্ধ করা হোক।