ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পুরুষশূণ্য গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকা

গাজীপুরে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর “অপারেশন ডেভিল হান্ট” অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩টি থানা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় আলাদা অভিযানে ৮২ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। রাতভর অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলা ও মহানগর পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান জানান, গাজীপুর মহানগরের আট থানায় ৪৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মেট্রো সদর থানায় ১৬ জন, পূবাইল থানায় দুইজন, কোনাবাড়ি থানায় দুইজন, কাশিমপুর থানায় তিনজন, বাসন থানায় আটজন, গাছা থানায় পাঁচজন, টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনসহ সর্বমোট ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের পরিচয় জানা যায়নি। তিনি আরো জানান, শুক্রবার রাতে ধীরাশ্রম এলাকার বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এদিন রাতেই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরও ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে দু’দিনে মোট ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। তাঁরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ডেভিল হান্ট অভিযানের গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন এলাকার অনেকেই। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধর ঘটনার পর গাজীপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ধীরাশ্রম ও দাক্ষিণখান গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরুর খবরে ওই এলাকায় বয়স্ক নারীরা ছাড়া অন্য নারীরাও বাড়িঘর ত্যাগ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়ির সোনালী রঙের প্রধান ফটকটি বন্ধ রয়েছে। ফটকের সামনে কাঁচ ভাঙা টুকরা ও কয়েকটি সম্মাননা স্মারক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য লাঠিসোটা, জুতা ও জামাকাপড় পড়ে আছে।

রাস্তা দিয়ে লোকজনের চলাফেরা নেই বললেই চলে। আশপাশের এলাকার অনেকে ভিন্নপথ দিয়ে চলাচল করছে। আশপাশের বাড়িঘরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর সবাই পালিয়ে গেছে।

কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, কেবল বয়স্ক নারীরা বাড়িতে। পুরুষরা তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সবার মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের মসজিদটিও তালাবদ্ধ। আশপাশের পরিবেশ নীরব ও নিস্তব্ধ। ধীরাশ্রম-টঙ্গী সড়কের দু’পাশে ঘটনাস্থলের কাছে দোকান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীরা চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তাই দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছেন তারা। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জোর দিয়েছেন গাজীপুরে ছাত্র-জনতা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮

পুরুষশূণ্য গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকা

আপডেট সময় ০৬:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

গাজীপুরে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর “অপারেশন ডেভিল হান্ট” অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩টি থানা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় আলাদা অভিযানে ৮২ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। রাতভর অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলা ও মহানগর পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান জানান, গাজীপুর মহানগরের আট থানায় ৪৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মেট্রো সদর থানায় ১৬ জন, পূবাইল থানায় দুইজন, কোনাবাড়ি থানায় দুইজন, কাশিমপুর থানায় তিনজন, বাসন থানায় আটজন, গাছা থানায় পাঁচজন, টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনসহ সর্বমোট ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের পরিচয় জানা যায়নি। তিনি আরো জানান, শুক্রবার রাতে ধীরাশ্রম এলাকার বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এদিন রাতেই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরও ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে দু’দিনে মোট ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। তাঁরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ডেভিল হান্ট অভিযানের গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন এলাকার অনেকেই। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধর ঘটনার পর গাজীপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ধীরাশ্রম ও দাক্ষিণখান গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরুর খবরে ওই এলাকায় বয়স্ক নারীরা ছাড়া অন্য নারীরাও বাড়িঘর ত্যাগ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়ির সোনালী রঙের প্রধান ফটকটি বন্ধ রয়েছে। ফটকের সামনে কাঁচ ভাঙা টুকরা ও কয়েকটি সম্মাননা স্মারক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য লাঠিসোটা, জুতা ও জামাকাপড় পড়ে আছে।

রাস্তা দিয়ে লোকজনের চলাফেরা নেই বললেই চলে। আশপাশের এলাকার অনেকে ভিন্নপথ দিয়ে চলাচল করছে। আশপাশের বাড়িঘরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর সবাই পালিয়ে গেছে।

কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, কেবল বয়স্ক নারীরা বাড়িতে। পুরুষরা তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সবার মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের মসজিদটিও তালাবদ্ধ। আশপাশের পরিবেশ নীরব ও নিস্তব্ধ। ধীরাশ্রম-টঙ্গী সড়কের দু’পাশে ঘটনাস্থলের কাছে দোকান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীরা চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তাই দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছেন তারা। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জোর দিয়েছেন গাজীপুরে ছাত্র-জনতা।