জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর অঞ্চল-৯এর উত্তরা এলাকায় কর অফিসের সুপারভাইজার আব্দুর রহমান খান অবৈধভাবে করদাতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা । এই অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগকারীর মাধ্যমে। সুপারভাইজার আব্দুর রহমান খান অবৈধভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে উত্তরার উত্তরখানে ছয় তলা বাড়ি ও বগুড়ায় নিজ গ্রামের বাড়িতে ছয় তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই দুর্নীতিবাজরা হলো করঅঞ্চল – ৯, সার্কেল-১৯০ ও ১৯৮ এর সুপারভাইজার আব্দুর রহমান খান অঞ্চলে কর্মরত আছেন।
তিনি সিন্ডিকেট করে অফিসকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী আয়কর দাতাদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকার শহরে আলিশান ছয় তলা বাড়ি ও প্লট ক্রয় করে আলিশান ভাবে দিন যাপন করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই করদাতাদের বিভিন্ন ধরনের প্যাঁচে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় আব্দুর রহমান। তার সিন্ডিকেটের সদস্য দিয়ে আয়কর দাতাদের হয়রানি করার জন্য তাদের কাছে ফোন করে বলে আপনাদের আয়কর নথির ভুল রয়েছে ।
এইজন্য আপনাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে এই বলে তাদের কাছে ফোন করে বলে আপনারা যদি টাকা দেন তাহলে নথির ঠিক করে দিব । করদাতারা টাকা দিতে অস্বীকার জানালে তখন ওই সিন্ডিকেটরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানি মাধ্যমে টাকাগুলো হাতিয়ে নেন। তা না হলে করদাতাদের আয়কর ফাইলটি বাক্সবন্দী অথবা গায়েব করে দেন । ওই সিন্ডিকেটের প্রধান আব্দুর রহমান খান অবৈধ ভাবে টাকা ইনকামের জন্য তাদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সবারই একই প্রশ্ন ছোট একটি চাকুরি করে কিভাবে এত সম্পত্তির মালিক হইলেন কি ভাবে ।
তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তার ব্যাপারে যেন দেখার কেউ নেই ! সিন্ডিকেটের সদস্যদের ব্যাপারে উত্তরায় বিভিন্নসহ এলাকার ফ্ল্যাট, জমি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগও পাওয়া গেছে। এমনকি ঢাকার আশপাশে সিন্ডিকেট মিলে জমি ক্রয় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই অপকর্ম কাণ্ডে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাও কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আব্দুর রহমান খানের বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার রৌহাদহ গ্রামের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে। বর্তমানে উত্তরা উত্তরখান রোড নাম্বার ৩ বাসা নাম্বার ১০ , আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের পাশে মাজারপাড়া বিডিআর বিল্ডিং গলিতে। এছাড়া তাড়াতাড়ি স্ত্রী মারুফা রহমান খানের নামে শহরে ও গ্রামে অঢেল সম্পত্তির মালিক ।
তাছাড়াও নামে বে নামে অটল সম্পত্তির মালিক আব্দুর রহমান । তার এনআইডি নাম্বার ৪৬২৫ ৩৫৫ ২৫২ ও টিন নাম্বার ৫৪৮০ ৬৯ ৭০ ৬০ ১৯। তার সিন্ডিকেট বাহিনী দিয়ে একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি লিখিতভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন উত্তরার কর অঞ্চল – ৯ এর ওইসব সার্কেলে করদাতাদের হয়রানিও সুকৌশলী তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সিন্ডিকেটটি। তিনি অভিযোগ দুইটি দাখিল করেছেন চলতি বছরের নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখে । করদাতাদের বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি ও মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানোর হুমকিও দেন রহমান খান। এমনকি সাংবাদি সরেজমিনে প্রতিবেদন তৈরি করতে গেলে তাদেরকেও দেখে দিবে এরকম হুমকি দেন রহমান।
করতে গেলে তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করছেন, রহমান এছাড়াও উত্তরার কোটি টাকা দিয়ে একটি প্লট ক্রয় করেছেন । এছাড়াও তার নামে বে নামে অনেক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকুরি শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত তার অপকর্মের শেষ নেই । তার কাছে মনে হয় দুর্নীতির , ঘুষ বাণিজ্য ও করদাতাদের হারামি করা হলো তার পেশা। মধ্যবর্তী পরিবারের সন্তান হলেও এত অর্থ সম্পদের মালিক কিভাবে হলেন এই প্রশ্নটি তার নিজ গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকুরি নিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে সম্পত্তি পাড়ার গড়েছেন কিভাবে ।
এ ব্যাপারে আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা ছোটখাটো চাকুরি করি আমাদের এত সম্পদ নেই। আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী হাফিজুর রহমান আরো বলেন, তাদের বিষয়ে তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। ভুক্তভোগী করদাতারা ও অভিযোগকারী দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাছে আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আহ্বান জানায় ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























