ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ক্ষমতা হারাতে পারেন নেতানিয়াহু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও যাত্রীরা ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত উখিয়ায় এসআই কিবরিয়াসহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়াবা ও পিস্তল গায়েবের অভিযোগ নেতানিয়াহুর বদলে ‘কম ক্ষতিকর’ প্রধানমন্ত্রী চান গাজাবাসী বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত কুড়িগ্রামে ২ কোটি টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে মামলা
বিএনপি সেজে বহাল ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ পদে

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

‎সরকারি স্থাপনায় সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় ও মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগকেই টাকা বানানোর হাতিয়ার বানিয়েছেন গণপূর্তের ধূর্ত কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন! ‎রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গণপূর্ত আরবরিকালচার বিভাগের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবশেষে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে মো. রুহুল কুদ্দুসকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এই বদলিই করে তাঁকে রক্ষা নয়; তাঁর বিচারের দাবিতে সরব গণপূর্তের অন্যান্য কর্মকর্তারা। মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আঙিনায় একটি গাছও না লাগিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন প্রধান বৃক্ষপালনবিদ আবুল কালাম আজাদ।

‎মোয়াজ্জেম হোসেন যেন এক জীবন্ত সুবিধাবাদী চরিত্রের নাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ডিও লেটার ও দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছাতার নিচে থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নেমে জালভোট প্রদানে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর! মুহূর্তেই পুরোনো খোলস বদলে নিজেকে কট্টর বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন এই ধূর্ত চাটুকার। রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে নতুন কৌশলে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি অর্থ লুণ্ঠন।

‎তাঁর অনিয়মের খাতাটি বেশ পুরোনো ও ভারী। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালের সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়—চাকরিতে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থঋণ আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির জোরে বারবার বেঁচে গেছেন তিনি। ঢাকার বুকে নামে-বেনামে অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।

পরিবেশবান্ধব সরকারি প্রকল্পে এমন নগ্ন দুর্নীতি ও রাতারাতি দল বদলানোর এই প্রতারণায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের পরিষ্কার দাবি, শুধু বদলিতে কাজ হবে না; অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন করতে হবে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব অর্থ উদ্ধার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ

বিএনপি সেজে বহাল ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ পদে

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

‎সরকারি স্থাপনায় সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় ও মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগকেই টাকা বানানোর হাতিয়ার বানিয়েছেন গণপূর্তের ধূর্ত কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন! ‎রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গণপূর্ত আরবরিকালচার বিভাগের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবশেষে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে মো. রুহুল কুদ্দুসকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এই বদলিই করে তাঁকে রক্ষা নয়; তাঁর বিচারের দাবিতে সরব গণপূর্তের অন্যান্য কর্মকর্তারা। মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আঙিনায় একটি গাছও না লাগিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন প্রধান বৃক্ষপালনবিদ আবুল কালাম আজাদ।

‎মোয়াজ্জেম হোসেন যেন এক জীবন্ত সুবিধাবাদী চরিত্রের নাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ডিও লেটার ও দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছাতার নিচে থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নেমে জালভোট প্রদানে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর! মুহূর্তেই পুরোনো খোলস বদলে নিজেকে কট্টর বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন এই ধূর্ত চাটুকার। রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে নতুন কৌশলে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি অর্থ লুণ্ঠন।

‎তাঁর অনিয়মের খাতাটি বেশ পুরোনো ও ভারী। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালের সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়—চাকরিতে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থঋণ আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির জোরে বারবার বেঁচে গেছেন তিনি। ঢাকার বুকে নামে-বেনামে অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।

পরিবেশবান্ধব সরকারি প্রকল্পে এমন নগ্ন দুর্নীতি ও রাতারাতি দল বদলানোর এই প্রতারণায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের পরিষ্কার দাবি, শুধু বদলিতে কাজ হবে না; অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন করতে হবে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব অর্থ উদ্ধার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।