পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বন বিভাগে একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলছেন বন সংরক্ষক (সিএফ) আবদুল আউয়াল সরকার ও বাবুরাম চাকমা, ডেপুটি রেঞ্জার। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমার সঙ্গে আঁতাত করে তিনি নীরবে বদলি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ভুয়া জোত পারমিটের অনৈতিক অনুমোদন এবং বিভিন্ন রেঞ্জ ও চেক স্টেশন থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের ঘুষ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর এসব লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম ঢেকে নিজেকে আইনি জবাবদিহিতা থেকে সুরক্ষায় সিএফ আবদুল আউয়াল বেছে নিয়েছেন কুখ্যাত এই ডেপুটি রেঞ্জারের ছায়াতল।
জানা গেছে, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমার স্ত্রী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক প্রভাবশালী সহকারী পরিচালক। স্ত্রীর এই ক্ষমতার দাপট ও পরিচয়ের অপব্যবহার করে বাবুরাম চাকমা সাধারণ কর্মচারী থেকে শুরু করে খোদ ডিএফও এবং সিএফ পর্যন্ত সবাইকে প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা ও জিম্মি করে রেখেছেন। দুদক কর্মকর্তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে রাঙামাটি অঞ্চলের লোভনীয় ও প্রাইজ পোস্টিংগুলো একের পর এক বাগিয়ে নিয়ে অবৈধ জোত পারমিটের পসরা বসিয়ে তিনি নিজেকে রাঙামাটির অঘোষিত ‘বনের রাজা’ হিসেবে জাহির করছেন। সরকারি চাকরিবিধির তোয়াক্কা না করে সুকৌশলে নিজে অবৈধ কাঠের ব্যবসা পরিচালনা, ভুয়া জোত পারমিট তৈরি ও বনাঞ্চল উজাড়ের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি শহরের মতো প্রধান শহরগুলোতে তার রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল বহুতল ভবন এবং শত শত একর বাগানসহ বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি জমি। শুধু তা-ই নয়, খাগড়াছড়ি হতে সাজেক পর্যটন রুটে যাতায়াতের জন্য তার নিজস্ব ১০টি বাণিজ্যিক গাড়ি রয়েছে, যা প্রতিদিন ভাড়ায় চালিত হয়ে তাকে বিপুল অঙ্কের অর্থ এনে দেয়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি শহরে রয়েছে তার ৪ তলাবিশিষ্ট ৩ ইউনিটের এক আলিশান বাড়ি, যা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকা বাড়িভাড়া পান তিনি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে চতুর বাবুরাম চাকমা তার অর্জিত অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যবসা নিজের নামে না রেখে পরিচালনা করছেন ভাগিনা এবং বিভিন্ন নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে। ক্ষমতার দাপটের পাশাপাশি এই ডেপুটি রেঞ্জারের সঙ্গে পাহাড়ের সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর গোপন সখ্য ও গভীর যোগাযোগ থাকায় চরম আতঙ্কে তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না কেউ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের মেরুং রেঞ্জ হতে সিএফ আবদুল আউয়ালকে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনায়ন বিভাগ রাঙামাটিতে পোস্টিং নেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদান না করলে বা পদ খালি না থাকলে আদেশ জারি না হওয়ার বিধান থাকলেও, বাবুরামের টাকার দাপটের কাছে সব নিয়ম উবে গেছে; বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হক মাহমুদ মোর্শেদ ২৫ লক্ষ টাকা মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করে কুতুকছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার হিসেবে তার অগ্রিম বদলি অর্ডার নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনিক স্বজনপ্রীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















