ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেবীদ্বারে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার ডিবির অভিযানে উদ্ধার ১১৭ ফোন, আইএমইআই মিলিয়ে নেওয়ার আহ্বান নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ-তে ঘুষ বাণিজ্য: নেপথ্যে মাহবুবুর-উসমান-হেমায়েত ও সাখায়াত সিন্ডিকেট বোরহানউদ্দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, বাঁচলেন বাবা শিশু চুরির সন্দেহে পিটুনিতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিহত ১, আটক ১ সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসকক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনে নির্দেশনা সাগরে নামার আগেই ঋণের জালে জেলেরা দেড় কোটি ঘুষে ১৫ কোটি বিল: বরিশাল গণপূর্তে চলছে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের মহাজালিয়াতি রাজশাহীতে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক আরেকজন জাল সনদে চাকরিতে ঢুকে নজরুল ইসলাম এখন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ!
ডিএসসিসিতে জাল সনদের আধিপত্য ও চরম অনিয়ম

জাল সনদে চাকরিতে ঢুকে নজরুল ইসলাম এখন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) দুর্নীতি ও জালিয়াতির যেন এক অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ও জাল সনদে চাকরি হাসিল করা এবং অবৈধভাবে শীর্ষ পদ দখল করে রাখার ঘটনা এবার আর একক কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে এক ধারাবাহিক প্রশাসনিক মহোৎসবে। সম্প্রতি জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সনদে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদ দখল করে রাখা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর, একই পদে দায়িত্ব পাওয়া নতুন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদে চাকরিতে প্রবেশের চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

সিরাজুল ইসলামের বিদায় ও অনিয়মের দীর্ঘ ইতিহাস

২০০৪ সালে তৎকালীন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের আকস্মিক মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো উপযুক্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদটি বাগিয়ে নেন স্থপতি হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেখা যায়, তার মূল পদ অর্থাৎ স্থপতি পদেই চাকরিতে প্রবেশের ভিত্তি ছিল জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সনদ।

সাময়িক সময়ের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদায়ন করা হলেও, উর্ধ্বে মোটা অংকের ঘুষ ও প্রশাসনিক অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পদটি আকড়ে রাখেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও নানা প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তের মুখে অবশেষে তাকে পদচ্যুত করা হয়। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এত বড় জালিয়াতির পরও তার বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন বা মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

নতুন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাভার পৌরসভার ভুয়া সনদ

সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ায় ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে তা নিরসনের আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদের চলতি দায়িত্ব দেয়। তিনি একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে তার মূল পদেও বহাল আছেন।

তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নতুন এই প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চাকরিতে প্রবেশের ভিত্তিও ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে আবেদনের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নগর ও অঞ্চল পরিচালনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি’র পাশাপাশি কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ‘সহকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ’ হিসেবে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।

নজরুল ইসলাম তার আবেদনের সময় সাভার পৌরসভায় এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলে একটি সনদপত্র দাখিল করেন। অথচ সাভার পৌরসভার নথিপত্র এবং রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই নির্দিষ্ট সময়ে সাভার পৌরসভায় ‘সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ’ বা ‘সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ’ নামে কোনো পদের অস্তিত্বই ছিল না। এমনকি নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় অন্য কোনো পদেও কখনোই চাকরি করেননি। ফলে তার দাখিলকৃত অভিজ্ঞতা সনদটি ছিল শতভাগ ভুয়া ও বানানো।

রাজনৈতিক প্রভাব, বিপুল ঘুষ এবং নিয়োগের ইতিহাস

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতেই নজরুল ইসলামের এই অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছিল। অনিয়ম নিশ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা হয়, যার ফলে তার নিয়োগপত্র দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

তবে অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘ছাত্রলীগ’ পরিচয় ব্যবহার করে এবং মোটা অংকের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক বাধা দূর করেন এবং চাকরিতে যোগদানে সক্ষম হন। ফলে জাল সনদের মাধ্যমে কেবল মূল পদ বাগানোই নয়, বর্তমান সময়ে এসে তিনি পদোন্নতি পেয়ে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন।

নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট ও জনভোগান্তি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো নগর পরিকল্পনা বিভাগ। অনভিজ্ঞ ও জাল সনদধারী সিরাজুল ইসলাম দুই দশকেরও বেশি সময় পদটি দখল করে রাখায় পরিকল্পিত নগর গঠনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নগরবাসীকে।

পরপর দু’জন অযোগ্য, অনভিজ্ঞ ও জাল সনদধারী কর্মকর্তাকে নগর পরিকল্পনার শীর্ষ পদে বসানোর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের হাতে ডিএসসিসির উন্নয়ন পরিকল্পনার চাবিকাঠি সঁপে দেওয়ায় নগর পরিকল্পনায় আরও মারাত্মক ও গভীর সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবীদ্বারে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

ডিএসসিসিতে জাল সনদের আধিপত্য ও চরম অনিয়ম

জাল সনদে চাকরিতে ঢুকে নজরুল ইসলাম এখন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ!

আপডেট সময় ০৪:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) দুর্নীতি ও জালিয়াতির যেন এক অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ও জাল সনদে চাকরি হাসিল করা এবং অবৈধভাবে শীর্ষ পদ দখল করে রাখার ঘটনা এবার আর একক কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে এক ধারাবাহিক প্রশাসনিক মহোৎসবে। সম্প্রতি জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সনদে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদ দখল করে রাখা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর, একই পদে দায়িত্ব পাওয়া নতুন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদে চাকরিতে প্রবেশের চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

সিরাজুল ইসলামের বিদায় ও অনিয়মের দীর্ঘ ইতিহাস

২০০৪ সালে তৎকালীন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের আকস্মিক মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো উপযুক্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদটি বাগিয়ে নেন স্থপতি হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেখা যায়, তার মূল পদ অর্থাৎ স্থপতি পদেই চাকরিতে প্রবেশের ভিত্তি ছিল জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সনদ।

সাময়িক সময়ের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদায়ন করা হলেও, উর্ধ্বে মোটা অংকের ঘুষ ও প্রশাসনিক অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পদটি আকড়ে রাখেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও নানা প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তের মুখে অবশেষে তাকে পদচ্যুত করা হয়। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এত বড় জালিয়াতির পরও তার বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন বা মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

নতুন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাভার পৌরসভার ভুয়া সনদ

সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ায় ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে তা নিরসনের আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদের চলতি দায়িত্ব দেয়। তিনি একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে তার মূল পদেও বহাল আছেন।

তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নতুন এই প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চাকরিতে প্রবেশের ভিত্তিও ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে আবেদনের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নগর ও অঞ্চল পরিচালনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি’র পাশাপাশি কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ‘সহকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ’ হিসেবে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।

নজরুল ইসলাম তার আবেদনের সময় সাভার পৌরসভায় এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলে একটি সনদপত্র দাখিল করেন। অথচ সাভার পৌরসভার নথিপত্র এবং রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই নির্দিষ্ট সময়ে সাভার পৌরসভায় ‘সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ’ বা ‘সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ’ নামে কোনো পদের অস্তিত্বই ছিল না। এমনকি নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় অন্য কোনো পদেও কখনোই চাকরি করেননি। ফলে তার দাখিলকৃত অভিজ্ঞতা সনদটি ছিল শতভাগ ভুয়া ও বানানো।

রাজনৈতিক প্রভাব, বিপুল ঘুষ এবং নিয়োগের ইতিহাস

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতেই নজরুল ইসলামের এই অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছিল। অনিয়ম নিশ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা হয়, যার ফলে তার নিয়োগপত্র দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

তবে অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘ছাত্রলীগ’ পরিচয় ব্যবহার করে এবং মোটা অংকের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক বাধা দূর করেন এবং চাকরিতে যোগদানে সক্ষম হন। ফলে জাল সনদের মাধ্যমে কেবল মূল পদ বাগানোই নয়, বর্তমান সময়ে এসে তিনি পদোন্নতি পেয়ে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন।

নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট ও জনভোগান্তি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো নগর পরিকল্পনা বিভাগ। অনভিজ্ঞ ও জাল সনদধারী সিরাজুল ইসলাম দুই দশকেরও বেশি সময় পদটি দখল করে রাখায় পরিকল্পিত নগর গঠনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নগরবাসীকে।

পরপর দু’জন অযোগ্য, অনভিজ্ঞ ও জাল সনদধারী কর্মকর্তাকে নগর পরিকল্পনার শীর্ষ পদে বসানোর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের হাতে ডিএসসিসির উন্নয়ন পরিকল্পনার চাবিকাঠি সঁপে দেওয়ায় নগর পরিকল্পনায় আরও মারাত্মক ও গভীর সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল।