কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে টাকা ফেরত, জমির নামজারিসংক্রান্ত অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর স্থায়ী বাড়ি রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের চর নেওয়াজী গ্রামে। নদীভাঙনের কারণে বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জোদ্দারপাড়ায় বসবাস করছেন। মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে তাঁর দাদা ও বাবার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি নামজারি করতে গিয়ে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে আনোয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, জমি নামজারির জন্য করা তিনটি আবেদন বারবার বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ দফায় আরও ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। সব মিলিয়ে ওই কর্মকর্তাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। এসব লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড ও বিকাশের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট তাঁর মৃত তিন বোনের ওয়ারিশদের নামে রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ধলগাছা মৌজায় অবস্থিত এসএ খতিয়ানভুক্ত জমি নামজারির জন্য আবেদন করা হয়। তবে জমিটির নামজারি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ারুল ইসলামের অভিযোগ, ধলগাছা মৌজার ৩৮৯ নম্বর এসএ খতিয়ানে মূল জমির পরিমাণ ছিল ০.৪৯ একর। কিন্তু আর্থিক সুবিধা নিয়ে খতিয়ানের তথ্য পরিবর্তন করে জমির পরিমাণ ১০.৫৬ একর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এ-সংক্রান্ত ২৮৪৬/২৬, ২৮৪৮/২৬ ও ২৭১১/২৬ নম্বর নামজারি মামলার বিপরীতে ২০২৬/১০০০০৮ নম্বর খতিয়ান মো. শফিউজ্জামান মণ্ডলের নামে এবং ২০২৩/১০০০০৯ নম্বর খতিয়ান মোছা. মমতাজ মহলের নামে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শফিউজ্জামান মণ্ডল চর নেওয়াজী গ্রামের হাজী আহম্মেদ আলীর ছেলে এবং মোছা. মমতাজ মহল নয়ারচর বাজারের মাস্টারপাড়া এলাকার হাজী আহম্মেদ আলীর মেয়ে।
অভিযোগকারী জানান, সংশ্লিষ্ট নামজারি খতিয়ানগুলো বাতিলের দাবিতে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট রাজীবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনটি ৪৪/২৬ নম্বর বিবিধ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট মৌজায় বিএস জরিপ সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে আরএস রেকর্ড প্রকাশিত হয়নি। তাঁর মৃত বোনদের ওয়ারিশদের নামে নামজারির আবেদন করা জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে নামজারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের নামেও জমির অতিরিক্ত অংশ নামজারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি জমির নামজারিসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “ওই এলাকার আব্দুল ছালাম বর্তমানে রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি নিজের এলাকা মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে বদলি হয়ে আসার উদ্দেশ্যে তাঁর এক নিকটাত্মীয়কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছেন। অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















