ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না’ পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ১২২ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড সহকারী কর কমিশনার তানজিনা সাথীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে তারেক রহমান, উৎসবমুখর পরিবেশ উপবন সংরক্ষক এমএ হাসানের নামে এসএ পরিবহনে এক লাখ টাকা পাঠানোর অভিযোগ রিয়াদে হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসছে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে আখচাষিদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন ভিক্ষা করায় সৌদিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ চারজন গ্রেপ্তার রাজীবপুরের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুলের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ হারের পর ক্রিকেটারদের এক থাকার বার্তা তামিমের

টেক্সটাইলের বর্জ্য পানি শোধনে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ

দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের নির্গত বর্জ্য পানি পরিবেশবান্ধব উপায়ে শোধন এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সঙ্গে শিল্পমালিকদের যৌথ গবেষণায় উৎসাহ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টেক্সটাইল শিল্পের বর্জ্য পানি শোধন নিয়ে আয়োজিত এক গবেষণা আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সচিব বলেন, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের বর্জ্য পানি পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধনের জন্য বিসিএসআইআর এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর টেকসই উন্নয়ন বিভাগকে যৌথভাবে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে। বর্জ্য পানি নির্গমনের আগেই কার্যকর শোধন নিশ্চিত করতে দক্ষ গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) দল গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

টেক্সটাইল শিল্পে রাসায়নিক রঙের ব্যবহার কমিয়ে দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদানের প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, এতে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে রং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় রাসায়নিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

টেক্সটাইলের রং করার প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভস্থ ও সুপেয় পানির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর ওপরও জোর দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব। তিনি বলেন, কম পানি ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের পাশাপাশি রং করার পর ব্যবহৃত পানি এবং শোধিত বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহারের উপায় বের করতে হবে।

আলোচনায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ ধরনের গবেষণা টেক্সটাইল শিল্পের জন্য সময়োপযোগী। প্রযুক্তিটি দ্রুত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বিকেএমইএ।

গবেষক সাবরিনা মোস্তফা তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, টেক্সটাইলের বর্জ্য পানি থেকে ক্ষতিকর রং অপসারণে প্রচলিত ব্যয়বহুল রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপাদান, যেমন চালের তুষ ও তুষের গুঁড়া ব্যবহারের ওপর গবেষণা করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি বর্জ্য পানি শোধনকে আরও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে পারে।

গবেষণাটির প্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ইনোভেশন সেন্টার’-এর মাধ্যমে ড. নওশাদ হকের কারিগরি ও গবেষণা সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ড. নওশাদ হক বলেন, দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কম খরচে বর্জ্য পানি থেকে রং অপসারণের এ পদ্ধতি বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, বিজিএমইএর প্রতিনিধি এবং এইচঅ্যান্ডএমের টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না’

টেক্সটাইলের বর্জ্য পানি শোধনে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের নির্গত বর্জ্য পানি পরিবেশবান্ধব উপায়ে শোধন এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সঙ্গে শিল্পমালিকদের যৌথ গবেষণায় উৎসাহ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টেক্সটাইল শিল্পের বর্জ্য পানি শোধন নিয়ে আয়োজিত এক গবেষণা আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সচিব বলেন, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের বর্জ্য পানি পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধনের জন্য বিসিএসআইআর এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর টেকসই উন্নয়ন বিভাগকে যৌথভাবে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে। বর্জ্য পানি নির্গমনের আগেই কার্যকর শোধন নিশ্চিত করতে দক্ষ গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) দল গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

টেক্সটাইল শিল্পে রাসায়নিক রঙের ব্যবহার কমিয়ে দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদানের প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, এতে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে রং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় রাসায়নিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

টেক্সটাইলের রং করার প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভস্থ ও সুপেয় পানির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর ওপরও জোর দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব। তিনি বলেন, কম পানি ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের পাশাপাশি রং করার পর ব্যবহৃত পানি এবং শোধিত বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহারের উপায় বের করতে হবে।

আলোচনায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ ধরনের গবেষণা টেক্সটাইল শিল্পের জন্য সময়োপযোগী। প্রযুক্তিটি দ্রুত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বিকেএমইএ।

গবেষক সাবরিনা মোস্তফা তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, টেক্সটাইলের বর্জ্য পানি থেকে ক্ষতিকর রং অপসারণে প্রচলিত ব্যয়বহুল রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপাদান, যেমন চালের তুষ ও তুষের গুঁড়া ব্যবহারের ওপর গবেষণা করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি বর্জ্য পানি শোধনকে আরও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে পারে।

গবেষণাটির প্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ইনোভেশন সেন্টার’-এর মাধ্যমে ড. নওশাদ হকের কারিগরি ও গবেষণা সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ড. নওশাদ হক বলেন, দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কম খরচে বর্জ্য পানি থেকে রং অপসারণের এ পদ্ধতি বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, বিজিএমইএর প্রতিনিধি এবং এইচঅ্যান্ডএমের টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।