ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’ শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় : ড. মঈন খান বাউফলে মৎস্যজীবী দলের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, মোবাইল ভাঙচুর সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গাঁজা-স্কাফসহ গ্রেপ্তার ৪ মঠবাড়িয়ায় বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নওগাঁর রাণীনগরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কালিহাতীতে ৪ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক লালমনিরহাটে পাঁচ মাসের শিশুকে রেখে মাকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড আত্রাইয়ে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মন্টিনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্টিনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।

পর্যটনে মন্টিনেগ্রোর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান।

বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি এমন জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।

বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে বাল্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা একমত হন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’

মন্টিনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০৭:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্টিনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।

পর্যটনে মন্টিনেগ্রোর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান।

বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি এমন জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।

বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে বাল্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা একমত হন।