ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ২ মেরুল বাড্ডায় রাজউকের ১১ একর জমি বেদখল, ২১ বছরেও উদ্ধারের উদ্যোগ নেই তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি মন্টিনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বরগুনায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের দুই মাসেই ধস একাধিক আবাসিক হোটেল ঘিরে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে নারী পাচার-মাদক কারবারের অভিযোগ

‘পিচ্চি রাজা’কে পালাতে প্রিজনভ্যানের তালা খুলে দেন এসআই প্রবীর

আদালত হতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায়নি আসামি পিচ্চি রাজা। তাকে পুলিশ সদস্য উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার নিজে প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। পরে তিনি নতুন করে পালানোর নাটক সাজান।

পুলিশের তদন্তে টাকার বিনিময়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে তাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকার পশ্চিমে হাজতি বন্দি পিচ্চি রাজা (৩৪) কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার জিএমপির ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তের বিষয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ডিবি বিভিন্ন সাক্ষ্য, আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করে। এতে জানা যায়, আদালত থেকে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজনভ্যানটি থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামান।

পরে খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনের অংশে রাখা হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়। এরপর কোনাবাড়ী এলাকায় তার পালানোর ঘটনা ঘটেছে—এমন একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষ্য ও আলামতের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু

‘পিচ্চি রাজা’কে পালাতে প্রিজনভ্যানের তালা খুলে দেন এসআই প্রবীর

আপডেট সময় ০৪:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আদালত হতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায়নি আসামি পিচ্চি রাজা। তাকে পুলিশ সদস্য উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার নিজে প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। পরে তিনি নতুন করে পালানোর নাটক সাজান।

পুলিশের তদন্তে টাকার বিনিময়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে তাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকার পশ্চিমে হাজতি বন্দি পিচ্চি রাজা (৩৪) কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার জিএমপির ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তের বিষয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ডিবি বিভিন্ন সাক্ষ্য, আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করে। এতে জানা যায়, আদালত থেকে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজনভ্যানটি থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামান।

পরে খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনের অংশে রাখা হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়। এরপর কোনাবাড়ী এলাকায় তার পালানোর ঘটনা ঘটেছে—এমন একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষ্য ও আলামতের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।