ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় প্রজন্ম লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারত ও মিয়ানমার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেতাগীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর তিন দাঁত ভাঙার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ফ্যামিলি-কৃষক কার্ড নিয়ে স্বজনপ্রীতি করলেই মামলা: ডেপুটি স্পিকার পবিপ্রবিতে ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগে গবেষণাগার উদ্বোধন করলেন পবিপ্রবি উপাচার্য মৃত্যুফাঁদে বড়লেখা পৌর মার্কেট, জীবনের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা ভৈরবে জে.আই. ইমপেক্সে ৩৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, জব্দ বিপুল নথি বান্দরবানে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার সুপারিশ সম্মাননা স্মারক পেলেন নীলফামারীর সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রাজু

মৃত্যুফাঁদে বড়লেখা পৌর মার্কেট, জীবনের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা

মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার মাছ ও কাঁচাবাজারের মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাদ ও বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কে দিন পার করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই রাস্তার পাশে বসে ব্যবসা করছেন। এতে যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে এই পৌর মার্কেটটি এখন পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায়। মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার কাঁচাবাজার ও মাছবাজারের ভবনটির ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

বিভিন্ন সময় ছাদ ও পলেস্তারা ভেঙে পড়ায় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় তলায় ভারী মালামাল নিয়ে ব্যবসা করতে ঝুঁকি নিতে চান না অনেক ব্যবসায়ী।

ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কাঁচামাল, সবজি ও ফল বিক্রেতা মার্কেটের বাইরে সড়কের পাশে বসে ব্যবসা করছেন। এতে একদিকে সড়কের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলেও তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগ। ব্যস্ত সড়কের পাশে বাজার বসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।

২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ২০১২ সালে এর উদ্বোধন করা হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটির বিষয়ে ২০২৩ সালে পৌর মেয়রের স্বাক্ষরিত স্মারক নং-২০২৩/৭৩-এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষরিত স্মারক নং-২০২৫/১৫০-এর মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক নাঈমা নাদিয়া বলেন, “বড়লেখা পৌর কাঁচাবাজার ও মার্কেটটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। আমি নিজেও পরিদর্শন করেছি। ২০২৩ সালে একটি চিঠি, পরবর্তীতে ২০২৫ সালে আরেকটি চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পুনরায় তাগিদপত্র পাঠাব।”

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এই মার্কেটটি দ্রুত অপসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি নিরাপদ মার্কেট নির্মাণ করা হোক।

তাদের মতে, পুরোনো ভবনটি ভেঙে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং ব্যবস্থাসহ একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনগুলোও ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

বিশেষ করে, আন্ডারগ্রাউন্ডে যানবাহনের সুব্যবস্থা থাকলে রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবণতা কমবে এবং যানজট নিরসন হবে।

স্থানীয়দের জোরালো প্রত্যাশা, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে এই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি নিয়ে জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে—এমনটিই আশা করছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় প্রজন্ম লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

মৃত্যুফাঁদে বড়লেখা পৌর মার্কেট, জীবনের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার মাছ ও কাঁচাবাজারের মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাদ ও বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কে দিন পার করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই রাস্তার পাশে বসে ব্যবসা করছেন। এতে যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে এই পৌর মার্কেটটি এখন পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায়। মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার কাঁচাবাজার ও মাছবাজারের ভবনটির ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

বিভিন্ন সময় ছাদ ও পলেস্তারা ভেঙে পড়ায় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় তলায় ভারী মালামাল নিয়ে ব্যবসা করতে ঝুঁকি নিতে চান না অনেক ব্যবসায়ী।

ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কাঁচামাল, সবজি ও ফল বিক্রেতা মার্কেটের বাইরে সড়কের পাশে বসে ব্যবসা করছেন। এতে একদিকে সড়কের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলেও তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগ। ব্যস্ত সড়কের পাশে বাজার বসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।

২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ২০১২ সালে এর উদ্বোধন করা হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটির বিষয়ে ২০২৩ সালে পৌর মেয়রের স্বাক্ষরিত স্মারক নং-২০২৩/৭৩-এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষরিত স্মারক নং-২০২৫/১৫০-এর মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক নাঈমা নাদিয়া বলেন, “বড়লেখা পৌর কাঁচাবাজার ও মার্কেটটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। আমি নিজেও পরিদর্শন করেছি। ২০২৩ সালে একটি চিঠি, পরবর্তীতে ২০২৫ সালে আরেকটি চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পুনরায় তাগিদপত্র পাঠাব।”

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এই মার্কেটটি দ্রুত অপসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি নিরাপদ মার্কেট নির্মাণ করা হোক।

তাদের মতে, পুরোনো ভবনটি ভেঙে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং ব্যবস্থাসহ একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনগুলোও ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

বিশেষ করে, আন্ডারগ্রাউন্ডে যানবাহনের সুব্যবস্থা থাকলে রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবণতা কমবে এবং যানজট নিরসন হবে।

স্থানীয়দের জোরালো প্রত্যাশা, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে এই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি নিয়ে জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে—এমনটিই আশা করছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন মহল।