ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৯৯৯-এ ফোন, ১৫ মিনিটে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত গুলশানে গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপস পঞ্চগড়ে কবরস্থানের জায়গা দখল করে চা-বাগান করার অভিযোগ আমিনার রহমানের বিরুদ্ধে শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির বড় ভাইয়ের জানাজা সম্পন্ন সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সরিয়ে নিল ঠিকাদারের লোকজন আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বর্তমান সরকার : শিক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর চেষ্টা করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী রংপুরে গৃহবধূর ঝু’লন্ত ম’রদেহ, হ’ত্যা’র অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

রংপুরে গৃহবধূর ঝু’লন্ত ম’রদেহ, হ’ত্যা’র অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

রংপুর মহানগরীর পূর্ব কামাল কাছনা এলাকায় রাফিয়া আক্তার মুন্নি (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যার পর ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মহানগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিহত মুন্নির মা রুমানা খাতুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

নিহত মুন্নি পূর্ব কামাল কাছনা এলাকার মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। পাঁচ মাস আগে একই এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে পারভেজ মিয়ার (২১) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নিহতের মা রুমানা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ৮ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী পারভেজ, শাশুড়ি পারুল বেগম (৬০) ও ভাসুর ফারুক মিয়া (৪২) তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রুমানা খাতুন বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকমুখে খবর পেয়ে তারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, তিন কক্ষের ঘরের মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা দিয়ে দেখা যায়, মুন্নি ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছে, কিন্তু তার পা মেঝেতে লেগে ছিল। এ সময় তার জামাতা পারভেজ অন্য ঘরে মোবাইলে টিকটক দেখায় ব্যস্ত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিহতের বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মেয়ে ছিল না। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রাও তখন এ কথা বলাবলি করছিল।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুন্নির বড় বাবা আশরাফ উদ্দিন ও দাদা মমতাজ উদ্দিন। পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না এবং টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মামলা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

তবে টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের। তিনি বলেন, “বাদী যে এজাহার দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই মামলার ধারা দেওয়া হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯৯৯-এ ফোন, ১৫ মিনিটে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার

রংপুরে গৃহবধূর ঝু’লন্ত ম’রদেহ, হ’ত্যা’র অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় ০২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর মহানগরীর পূর্ব কামাল কাছনা এলাকায় রাফিয়া আক্তার মুন্নি (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যার পর ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মহানগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিহত মুন্নির মা রুমানা খাতুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

নিহত মুন্নি পূর্ব কামাল কাছনা এলাকার মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। পাঁচ মাস আগে একই এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে পারভেজ মিয়ার (২১) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নিহতের মা রুমানা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ৮ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী পারভেজ, শাশুড়ি পারুল বেগম (৬০) ও ভাসুর ফারুক মিয়া (৪২) তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রুমানা খাতুন বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকমুখে খবর পেয়ে তারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, তিন কক্ষের ঘরের মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা দিয়ে দেখা যায়, মুন্নি ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছে, কিন্তু তার পা মেঝেতে লেগে ছিল। এ সময় তার জামাতা পারভেজ অন্য ঘরে মোবাইলে টিকটক দেখায় ব্যস্ত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিহতের বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মেয়ে ছিল না। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রাও তখন এ কথা বলাবলি করছিল।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুন্নির বড় বাবা আশরাফ উদ্দিন ও দাদা মমতাজ উদ্দিন। পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না এবং টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মামলা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

তবে টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের। তিনি বলেন, “বাদী যে এজাহার দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই মামলার ধারা দেওয়া হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”