ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদককে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাঞ্ছারামপুরে মোবাইল কোর্টের অভিযান অবৈধ গ্যাস সংযোগে জরিমানা শীর্ষ ১০ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট ‘মাননীয়’ বাদ,অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তর থেকেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর আত্রাইয়ের ভবানীপুর বাজারে রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই রাস্তা নির্মাণ,দুর্ঘটনার শঙ্কা হলি ক্রস কলেজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ৫৫৬ কোটি টাকা পরিশোধ, তবু রাশিয়া থেকে মিলল না হেলিকপ্টার প্রণোদনার নামে ৫ কোটি টাকা লুটে নিলেন ১৩ কর্মকর্তা

শীর্ষ ১০ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকা। এর বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকে।
২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক, ৭৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।

এ তিন ব্যাংকের খেলাপি ঋণই প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা, যা শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গত বছরের শেষেও ছিল ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। তখন কোনো একক ব্যাংকের ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে ব্যাংকটির তারল্য সংকটও প্রকট হয়েছে। জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক দফায় ব্যাংকটিকে তারল্য সহায়তা দেয়। এক পর্যায়ে তিন দিনে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় এরপর রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ৩৮ হাজার ৫৩ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক ২৮ হাজার ৫২০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ২৮ হাজার ১৫৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংক ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি এবং এবি ব্যাংক ২০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

পুরো ব্যাংকিং খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন খেলাপি। মার্চের তুলনায় তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলাপি ঋণের এমন কেন্দ্রীভবন ঋণ অনুমোদন, বড় গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ঋণের অর্থের ব্যবহার ও আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কারা কীভাবে ঋণ নিয়েছে, কী জামানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং ঋণের অর্থ কোথায় গেছে এসব খতিয়ে দেখা জরুরি। খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ওপর চাপ বাড়বে। এর প্রভাব আমানতকারী, ব্যাংকের তারল্য ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদককে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শীর্ষ ১০ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৫:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকা। এর বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকে।
২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক, ৭৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।

এ তিন ব্যাংকের খেলাপি ঋণই প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা, যা শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গত বছরের শেষেও ছিল ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। তখন কোনো একক ব্যাংকের ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে ব্যাংকটির তারল্য সংকটও প্রকট হয়েছে। জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক দফায় ব্যাংকটিকে তারল্য সহায়তা দেয়। এক পর্যায়ে তিন দিনে মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় এরপর রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ৩৮ হাজার ৫৩ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক ২৮ হাজার ৫২০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ২৮ হাজার ১৫৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংক ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি এবং এবি ব্যাংক ২০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

পুরো ব্যাংকিং খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন খেলাপি। মার্চের তুলনায় তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলাপি ঋণের এমন কেন্দ্রীভবন ঋণ অনুমোদন, বড় গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ঋণের অর্থের ব্যবহার ও আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কারা কীভাবে ঋণ নিয়েছে, কী জামানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং ঋণের অর্থ কোথায় গেছে এসব খতিয়ে দেখা জরুরি। খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ওপর চাপ বাড়বে। এর প্রভাব আমানতকারী, ব্যাংকের তারল্য ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে।