আলোকচিত্রে (ক্লক ওয়াইজ) আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সাথে আরিফ উদ্দিন,সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আরিফ,বঙ্গবন্ধু পরিষদের মিছিলে আরিফ এবং আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে আরিফ উদ্দিন।
২২ ফেব্রুয়ারি-২০১৬ তারিখ সোমবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানি মিলনায়তনে ‘রুখে দাও লেলিহান’ ও ‘জাতীয় সংসদে শাহজাহান খান এমপি’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন সৈয়দ আশরাফ এমপি।
উক্ত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শাহজাহান খান এমপি তার বক্তব্যে বিআইডব্লিউটিএর তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক (বর্তমানে পরিচালক) একেএম আরিফ উদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “রুখে দাও লেলিহান” বইটির প্রচ্ছদ এবং নামকরণ করেছেন একেএম আরিফ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে শাহজাহান খান এমপি তার বক্তব্যে একেএম আরিফ উদ্দিন-কে ”মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের পক্ষের লড়াকু সৈনিক” আখ্যা দিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তৎকালে অনুষ্ঠানে সংবাদ কভারেজের জন্যে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সাংবাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বইটির প্রকাশক তার স্ত্রী সৈয়দ রোকেয়া বেগম এবং প্রকাশনী সংস্থার জায়গায় সার্বিক সাহিত্য প্রকাশনীর কথা উল্লেখ থাকলেও বইটি একেএম আরিফ উদ্দিন তার ব্যক্তিগত খরচে রাজধানীর ফকিরাপুলের পানগুছি প্রিন্টার্স থেকে ছাপিয়ে দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এই গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনায় সহযোগিতা করার মাধ্যমে একেএম আরিফ উদ্দিন মন্ত্রী শাহজাহান খানের আস্থাভাজন হয়ে;বিআইডাব্লিউটিএ-তে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হন।
সূত্রমতে, “রুখে দাও লেলিহান” বইটির বিষয়বস্তু ছিল ২০১৩ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি জোটের ভোটের অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ”উদ্দেশ্য প্রণোদিত,নেতিবাচক উপস্থাপনা”। প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার গ্রন্থটিতে বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষোদগার করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ”অগ্নি সন্ত্রাস ” আখ্যা দেয়া হয়েছে।
যেই একেএম আরিফ উদ্দিনের পরোক্ষ গ্রন্থনায় ও সহযোগিতায় প্রকাশিত “রুখে দাও লেলিহান” গ্রন্থের মাধ্যমে বিএনপি জোটকে ”অগ্নি সন্ত্রাসী” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেই একেএম আরিফ উদ্দিন এখন ” নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি,সাবেক ছাত্রদল কর্মি” মর্মে সনদ ক্রয় করে ফেলেছেন। সব সম্ভবের দেশে ক্রয়কৃত সনদের মাধ্যমে নারী কেলেংকারির ঘটনায় বরখাস্তের কিছু দিনের মধ্যে চাকরিতে পুনর্বহালের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন একেএম আরিফ উদ্দিন। যা নিয়ে বিআইডাব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং তৃণমূল বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে একেএম আরিফ উদ্দিনের আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত করার জন্যে বিএনপি’র হাই কমান্ডের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
অন্যদিকে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করার পর, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ কে এম আরিফ উদ্দিন বিএনপি সাজার অপচেষ্টা করছেন। একদা ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অথচ বিদ্যমান আলোকচিত্র ও ভিডিও প্রমান করছে, আওয়ামী শাসনামলে এ কে এম আরিফ উদ্দিন বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদের মিছিল মিটিংয়ে নিয়মিত অংশগ্রহন করেছেন এবংকোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শোকদিবসে কালোব্যাজ ধারন করে র্যালি করেছেন। আওয়ামী লীগের সকল অনুষ্ঠানে অনুদান দিয়েছেন। ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রসংশাসূচক পোস্ট দিয়েছেন।
তথ্য প্রমান আরো বলছে, এ কে এম আরিফ উদ্দিন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহনের পাশাপাশি; ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী শাহজাহান খান,প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে দেদারছে অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন। এই দুই মন্ত্রীর আশির্বাদে তিনি দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আবার মন্ত্রী শাহজাহান খান ও প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ডোনারও ছিলেন এ কে এম আরিফ উদ্দিন। অথচ এখন তিনি ”একদা ছাত্রদল করেছেন” এমন বুলি আওরাচ্ছেন। নারী কেলেংকারির মত ঘৃণ্য কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার কারনে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও; অদৃশ্য কোন এক ক্ষমতাবলে চাকরি ফেরত পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এ কে এম আরিফ উদ্দিন এর পরকীয়া সম্পর্ক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নিজের স্ত্রী-সন্তানদের লন্ডনে নিরাপদে রেখে তিনি দেশে অন্যের স্ত্রী’র সাথে পরকিয়া সম্পর্ক করে সম্প্রতি জনতার হাতে ধরা পড়েছেন। সাধারণ নারীদের প্রলোভন ও ফাঁদে ফেলে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে ভিডিও-ছবি তুলে রেখে ব্লাকমেইল করার মতো গুরুতর অপরাধের সাথে তিনি জড়িত, যা সরকারি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালার পরিপন্থী। নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের দায়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। রহস্যজনক কারনে কিছু দিন পর বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ তাকে পরিচালক(ক্রয় ও সংরক্ষণ) পদে পুনর্বহাল করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















