ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ : হাসিনা ও রেহানার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা পবিপ্রবি’র ভেটেরিনারী অনুষদের মেইন গেট উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের সেমিনার ৫ মাস পর সংসদ অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, অভিনন্দন জানালেন স্পিকার দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির জীবিকার সন্ধানে সাগরে গিয়ে লাশ হলেন দুই জেলে, নিখোঁজ ২ ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারিতে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুমিল্লায় মৎস্য পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ

২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের

গত ২৬ আগস্টের হিমালয় হিমবাহ ধস এবং তার পরবর্তী ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ দিয়েছে নেপাল সরকার। বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি এই কথা জানিয়েছেন।
ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৭,৫০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে বা কাদায় চাপা পড়েছে।

এই চরম মানবিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২০৪ জনে, এবং চার হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি চীন সীমান্ত সংলগ্ন পুরো জনপদগুলো পলি ও কাদার নিচে ঢাকা পড়েছে।

এর পাশাপাশি অক্ষত থাকা অনেক বাড়িও বসবাসের উপযোগিতা পুরোপুরি হারিয়েছে। ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন ঠিকানায় পুনর্বাসিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আর বাড়ি নির্মাণ করার সুযোগ নেই; তাই স্থানান্তরিতদের জন্য নতুন ও নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে।

চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষ করে ‘আপার ত্রিশূলী-১’ প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরীয় একটি বিশ্বমানের উদ্ধারকারী দল ড্রোন, স্নাইফার ডগ, শাব্দিক তরঙ্গ সনাক্তকরণ সরঞ্জাম ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা নিয়ে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্য শ্রমিকদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে নেপালের জরুরি পরিচালন কেন্দ্রগুলো শিশুদের শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনিসেফ’ সতর্ক করে জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু অবিলম্বে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাময়িকভাবে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বা আশেপাশের নিরাপদ কোনো ভবনে শিশুদের পাঠদান পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। সূত্র: রয়টার্স

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ : হাসিনা ও রেহানার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের

আপডেট সময় ০৪:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ২৬ আগস্টের হিমালয় হিমবাহ ধস এবং তার পরবর্তী ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ দিয়েছে নেপাল সরকার। বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি এই কথা জানিয়েছেন।
ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৭,৫০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে বা কাদায় চাপা পড়েছে।

এই চরম মানবিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২০৪ জনে, এবং চার হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি চীন সীমান্ত সংলগ্ন পুরো জনপদগুলো পলি ও কাদার নিচে ঢাকা পড়েছে।

এর পাশাপাশি অক্ষত থাকা অনেক বাড়িও বসবাসের উপযোগিতা পুরোপুরি হারিয়েছে। ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন ঠিকানায় পুনর্বাসিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আর বাড়ি নির্মাণ করার সুযোগ নেই; তাই স্থানান্তরিতদের জন্য নতুন ও নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে।

চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষ করে ‘আপার ত্রিশূলী-১’ প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরীয় একটি বিশ্বমানের উদ্ধারকারী দল ড্রোন, স্নাইফার ডগ, শাব্দিক তরঙ্গ সনাক্তকরণ সরঞ্জাম ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা নিয়ে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্য শ্রমিকদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে নেপালের জরুরি পরিচালন কেন্দ্রগুলো শিশুদের শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনিসেফ’ সতর্ক করে জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু অবিলম্বে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাময়িকভাবে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বা আশেপাশের নিরাপদ কোনো ভবনে শিশুদের পাঠদান পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। সূত্র: রয়টার্স