ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ: কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ইন্টারপোলের কাছে বেনজীরের অবস্থান জানতে চেয়ে পুলিশের চিঠি পীরগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৭৫ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশদ্ভূত তানভীর শাহনেওয়াজ কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত গাড়িচালক মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আহমেদ বাওয়ানী একাডেমিতে অনিয়মের অভিযোগ পরিচালক আল ফাত্তাহকে ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ পূর্তে প্যারাডাইমের ফের দাপট, গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাচ্ছে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুড়িতে
এফডিআর থেকে নিয়োগ বাণিজ্য

আহমেদ বাওয়ানী একাডেমিতে অনিয়মের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০২:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১০ বার পড়া হয়েছে

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারমধ্যে স্থায়ী আমানত ১৫ কোটি টাকা লুটপাট, কলেজের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম চুরি,নিয়োগ ও এমপিও জালিয়াতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ভবন নির্মান কাজে বাধা,এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলআপে অতিরিক্ত ফি আদায় ও ১৫ জন এডহোক শিক্ষক নিয়োগে বানিজ্য। এসবের নেপথ্যে- ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম বলে সুত্র জানায়।

জানা গেছে, ১৯৬২ সালে পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ওই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই একটি স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ছিলো।স্বাধীনতার পরে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি বাংলা মিডিয়াম স্কুল হিসেবে রুপান্তরিত হয়।১৯৮৫ সালে স্কুলটি মহিলা কলেজ হিসেবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়। ওইসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজি সিদ্দিকুর রহমান তিনি গত ৪/০৯/২০০১ তারিখে অবসরে গেলে কলেজ শিক্ষক রওশন আরা বেগম এ পদে বসেন। কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী হোসনে আরা আলম তা মেনে নেননি। এ নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয় রওশন আরা বেগম ও হোসনে আরা আলম এর সাথে। শিক্ষকগণ তখন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়ে। কে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যাল হবেন এ নিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে উচ্চতর আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার মানে চরম অবনতি ঘটে। এরই সূত্র ধরে ২০০৮ সালে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসনে আরা আলম, প্রদর্শক বজলুল হক এবং কম্পিউটার প্রভাষক খান হাসান আয়ুব রওশন আরা গ্রুপের সমর্থক ও বহিরাগতদের হাতে শারীরীকভাবে লাঞ্চিত হন। সেই সময়ের বিতর্কিত শিক্ষকরাই এখনো কেউ কেউ বহাল তবিয়তে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল’ উমরাহ হজ্জ্ব পালনের উদ্দেশ্যে ছুটিতে গেলে তাকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে অপসারণ করে একাডেমির প্রশাসন দখল করে নেয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী সহকারী অধ্যাপক সারওয়াত খানম, যিনি তার স্বামীর করোনায় মৃত্যুর কারণে শেখ হাসিনার নিকট থেকে ১ কোটি টাকা অনুদান হিসাবে পেয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে যারা একাডেমির দায়িত্বে আছেন তারা সবাই আওয়ামীলীগ আমলে সুবিধাভোগী। তাছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে
সারওয়াত খানম চেয়ারে বসে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও একাডেমির লেখাপড়ার মান চিন্তা না করে তার প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন এবং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিরীহ এডহক শিক্ষকদের বঞ্চিত করে, কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি কর্তৃক প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা বাতিল করে অন্যায়ভাবে নিজেদের সুযোগ সুবিধা ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কোচিং বাণিজ্য বিস্তার ঘটানো, ছাত্র-ছাত্রীদের বইয়ের বোঝা বাড়িয়ে নিম্নমানের নোট-গাইড ও গ্রামার বই পাঠ্য করে ২০ লক্ষ টাকার বই বাণিজ্য এবং অপ্রয়োজনীয় এডহক শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা্র নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম নিজের ও তার অনুসারীদের গোপনে বেতন-ভাতা বাড়িয়েছেন ৪/৫ বার। কিন্তু অনেকের প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট ও পিএফ দেন নাই মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত কারণে যোগ্য অভিজ্ঞ গণিত, ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান শিক্ষকদের বসিয়ে রেখে উনার পছন্দের ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির মতো শ্রেণির গণিত ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান ক্লাস নেয়াচ্ছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে একাডেমির শিক্ষার্থীরা।
এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন নানা অপকর্মে যুক্ত খান হাসান আয়ুব, নিয়োগ ও এমপিও জালিয়াতিতে অভিযুক্ত বিতর্কিত শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল আলীম এবং তথাকথিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলামিন।
প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী আমানতের খেয়ানত:
আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের নামে জনতা সোনালী রূপালী মিডল্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড এসবিএসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট মেঘনা ও এবি ব্যাংকে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসাব বা এফডিআর করা ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এফডিআর থেকে মুনাফা আসে ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪০৩ টাকা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম অসৎ উদ্দেশ্যে সাধারণ তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও বিনা প্রয়োজনে এবি ব্যাংকের দোহাই দিয়ে বিধি বিধান লঙ্ঘন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা বোর্ড বা মাউশির অনুমোদন ছাড়াই গ্রীন জোনে থাকা মিডল্যান্ড ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংকের এফডিআর নগদায়ন করে ইয়েলো জোনের এসবিএসি ব্যাংকের সাধারণ তহবিল অলাভজনক চলতি হিসাবে রেখেছেন। এরফলে উক্ত স্থায়ী আমানতের অর্থের খেয়ানত হওয়া সহ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী (মুকুল স্যার)-এর কার্যকাল (২০১৫-২০২৪)
উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে জনাব মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল গত ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখ যোগদান করেন। সেই সময় আহমেদ বাওয়ানীর একাডেমীর বিভিন্ন ফান্ডে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা ছিল। ২০২৪ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ কোটি টাকার এফডিআর সহ প্রায় সোয়া ১৫ কোটি টাকা ছিল। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধনের কারণে ২০২৪ সালে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী ঢাকা মহানগরীর কোতয়ালী শিক্ষা থানার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল) এবং অধ্যক্ষ মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্সী শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান (স্কুল) নির্বাচিত হন। উনার সময়কালে শিক্ষার্থীদের পাশের হার ছিল এসএসসিতে গড়ে ৯৫% এবং এইচএসসি গড়ে ৮৫% যা’ ২০২৫ সালে হতাশাজনকভাবে নেমে দাঁড়িয়েছে ৮৪% এবং ৬৩%।
সিএ ফার্ম কর্তৃক প্রদত্ত অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানের মোট তহবিল ছিল ১,৩৬,৫০,১১৭/- টাকা, ২০১৪ সালে ছিল ৩,৬৭,৮৭,৮৯১/- টাকা, ২০২১ সালে ১৪,৪২,৮৩,২৮৩/- টাকা, ২০২২ সালে ১৫,৫৩,৯৯,৮৫৯/- টাকা, ২০২৩ সালে ১৪,৮৫,৯৮,৪০৩/- টাকা, ২০২৪ সালের ৩০ জুন ছিল ১৫,১৪,৫৪,০৬২ টাকা।
প্রতিষ্ঠানে ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরে নির্মাণ ও মেরামত বাবদ মাত্র ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হলেও সর্বমোট ব্যয় হয় ৮কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। কারণ, এর আগের বছর ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরে ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা নির্মাণ ও মেরামত বাবদ ব্যয় সহ মোট ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।
২০২২-২৩ অর্থ-বছরে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নির্মাণ ও মেরামত বাবদ ব্যয় সহ মোট ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। এবং ২০২১-২২ অর্থ-বছরে ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা নির্মাণ ও মেরামত বাবদ ব্যয় সহ মোট ব্যয় হয়েছিল ৭ কোটি ৫ লক্ষ টাকা।
দুই শিফটের এই প্রতিষ্ঠানে শিফট অনুমোদন আছে মাত্র একটি। অধিকাংশ অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদন নেই। তাই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক এবং কর্মচারী এমপিও ভূক্ত, অধিকাংশই অস্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের সবার বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থ-বছরে শিক্ষক কর্মচারীদের সরকার থেকে বেতন ও বোনাস বাবদ মোট – ১,৩৪,৮০,৯৩৭ টাকা দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ও বোনাস বাবদ ৩,২৬,৪২,৯২৮ টাকা ও ভবিষ্য তহবিল বা পিএফ বাবদ ১,১৪,৯৪,৪৯৩ টাকা মোট ৪,৪১,৩৭,৪২১ টাকা প্রদান করা হয়।
২০২৪- ২০২৫ অর্থ-বছরে শিক্ষক কর্মচারীদের সরকার থেকে বেতন ও বোনাস বাবদ সর্বমোট – ১,৩৫,৭৬,০৩৫ টাকা দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-বোনাস বাবদ ৩,৪৭,৩০,৬৭২ টাকা ও ভবিষ্য তহবিল বা পিএফ বাবদ ১,২৪,১৯,৫২২ টাকা সর্বমোট ৪,৭১,৫০,১৯৪ টাকা প্রদান করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বেতন-ভাতা বাবদ দেয়া হয়েছে।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ছিল- ৪,৯৪৬ জন (ছাত্র-৩,০০৬ জন, ছাত্রী- ১,৯৪০ জন)। ২০২৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ছিল- ৪,৮০৬ জন (ছাত্র-২,৮৩৮ জন, ছাত্রী- ১,৯৬৮ জন)। কলেজে ছাত্রী সংখ্যা অপ্রতুল।
১৫ জন এডহক শিক্ষক নিয়োগের নামে বাণিজ্যঃ
২৯ জুন ২০২৫ তারিখ এডহক কমিটির মেয়াদ শেষে যখন কোনো কমিটি ছিল না তখন গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অসৎ উদেশ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ১৫ জন এডহক শিক্ষক পূর্বে নিয়োগকৃত এডহক শিক্ষকদের থেকে প্রায় দ্বিগুণ বর্ধিত বেতনে অক্টোবর- ২০২৫ মাস থেকে নিয়োগ দেন তিনি। এই নিয়োগের মাধ্যমে তিনি এবং তার অনুসারীরা ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজে ২০২৫ সালে মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, যার মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় মাত্র ৪ জন। কিন্তু নতুন করে কলেজ শাখায় এডহক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭ জন। বিজ্ঞান শাখায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩ জন।
কলেজ শাখায় মাত্র ১০ জন এমপিওভূক্ত শিক্ষক আছেন যাদের সরকারি ও প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন ও পিএফ বাবদ দেয়া হয় মাসে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। ৭ জন এডহক শিক্ষক বেতন পান মাসে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি বাবদ যা আয় হয় তা দিয়ে কলেজে নতুন নিয়োগকৃত এডহক শিক্ষকদের বেতনই হয় না। এমপিওভূক্ত কলেজ শিক্ষকদের পুরো বেতনটাই দিতে হয় স্কুলের আয় থেকে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলআপে অতিরিক্ত ফি আদায়ঃ
গত দুই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফরম ফিলআপের সময়ে বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেআইনীভাবে কোচিং ও মডেল টেস্টের নামে ২০২৫ সালে ৩ হাজার টাকা করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা এবং ২০২৬ সালে ৫ হাজার টাকা করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখায়ে জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছে বলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাভকদের নিকট থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে । এই আদায়কৃত টাকা থেকে দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষকদের ১০ হাজার টাকা করে এবং নাম মাত্র কোচিং ক্লাস ও মডেল টেস্ট নেয়া শিক্ষকদের মাঝে সামান্য টাকা বিতরণ করে সিংহভাগ টাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তাকে সহায়তাকারী প্রশাসনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ নিজেদের মধ্যে ভাগ বন্টন করে নিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকগণ ঢাকা বোর্ড এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
২০২৬ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও টিঊশন ফি বৃদ্ধিঃ
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে টিউশন ও ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেয়া হলেও এবং ছাত্র-বেতন কমানোর জন্য অভিভাবক মহলের ক্রমাগত দাবীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায়ে ২০২৬ সালে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অন্যায়ভাবে মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক টিউশন ফি ৭০০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেশন চার্জ নতূন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা এবং পুরাতন শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি করে আদায় করা হয়। এসব বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময়ে তা বিস্ফোরন ঘটে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ভবন নির্মাণ কাজ করতে না দেয়াঃ
২০২৩ সালে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমীর নতুন ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৬ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়। সেই মোতাবেক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে। যথারীতি টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে বিদ্যমান পুরান ৪ তলা একাডেমির দক্ষিণ ভবন প্রায় ২৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে ভেঙ্গে অপসারণপূর্বক জায়গা খালি করা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল এর জোরপূর্বক অপসারণের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অজানা কারণে সেই ভবন নির্মাণ কাজ করতে দেয়নি। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়ে দেয় যে একাডেমী কর্তৃপক্ষ এই ভবন নির্মাণ করতে চায় না, তাদের কোনো ভবন প্রয়োজন নেই। অথচ বালক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভবন নির্মাণ প্রয়োজন ছিলো। শ্রেণি কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়ে ছাত্রদের বালিকা শাখার ভবনে ক্লাস করতে হয়। খালি জায়গাটি বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শোনা যায়, সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণ করলে তাদের কোনো লাভ নেই। তাই প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে তারা ভবন নির্মাণ করবে।
এদিকে, প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আলীম ২০১৩ সালে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মোটা অংকের ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে ভুঁয়া নাম ও এমপিও ইন্ডেক্স নম্বর (396079, M.A Alim) দেখায়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ নিয়েছেন, যার সাথে তার শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (১৯১৮৩৫৮৭৯১) নামের সাথে কোন মিল নেই। নিয়োগের প্রায় তিন বছর পরে ২০১৬ সালে তার সম্পূর্ণ নতুন এমপিও হয় (ইন্ডেক্স নম্বর-3092919, Mohammad Abdul Alim)। নতুন ইনডেক্সে এমপিও হয়েছে ২২,০০০/- টাকা স্কেলের পরিবর্তে ২৯,০০০/- টাকা স্কেলে, যা’ বিধি বহির্ভূত। বেতন কোড ৯ এর স্থলে ভুলক্রমে বেতন কোড-৭ এ নতুনভাবে এমপিওভূক্ত হয়। কিন্তু সে কলেজে প্রকৃত তথ্য গোপন রাখে। পরবর্তীতে সে ঢাকা আঞ্চলিক পরিচালক অফিসে অবৈধ উপায়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এমপিও’তে তার কথিত পুরাতন ইন্ডেক্স নম্বর (396079) জালিয়াতির মাধ্যমে গোপনে প্রতিস্থাপন করে। নতুন ইনডেক্স এর তথ্য গোপন করে তিনি ২২,০০০/- টাকা স্কেলের পরিবর্তে ২৯,০০০/- টাকার সিনিয়র স্কেলে অদ্যাবধি অতিরিক্ত ৭ লক্ষ টাকা বেতন-ভাতার সরকারি অংশ (এমপিও) এবং প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠানের অংশ বেতন ভাতা ও পিএফ বাবদ মোট ১৭ লক্ষ টাকা অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত গ্রহণ করেছেন, যা’ অবশ্যই রাষ্ট্রীয় ও প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে ফেরতযোগ্য। ২০১০ সালের পরে প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও “মোহাম্মদ আব্দুল আলীম” (শিক্ষা সনদ অনুযায়ী) ওরফে “মো: আব্দুল আলীম” (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী)-এর কোনো শিক্ষক নিবন্ধন সনদ নেই। শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিহীন প্রভাষক হিসেবে তার এই বিধি-বহির্ভূত প্রভাষক পদে নিয়োগ বাতিলযোগ্য। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে মাউশি অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর ৫০২৫ তারিখ তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা মনোনয়ন দিয়েছেন, অজানা কারণে সেই তদন্ত থেমে আছে। এই তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে মাউশি-ঢাকা অঞ্চলের সাবেক পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ নুরুজ্জামান তাকে ‘সহকারী অধ্যাপক’ হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে উনার দূর্নীতির চরম নজির স্থাপন করেছেন। আপত্তি দেয়া সত্ত্বেও জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মজিদ এই বিতর্কিত শিক্ষককেই পর পর দুইবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানমের সুপারিশে এডহক কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়েছেন।
প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে এ প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি জানান, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের সাথে মিলে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এধরণের মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
তবে আব্দুল আলীমের মিথ্যা দাবির স্বপক্ষে কোন ধরনের প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এই প্রতিনিধিকে কোন ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করেননি
বিতর্কিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল আমিন সমাচারঃ
কলেজে কাম্য শিক্ষার্থী না থাকা সত্বেও তথ্য গোপন করে আল-আমিন মাউশি ঢাকা অঞ্চলকে ঘুষের মাধ্যমে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে (৯ কোড থেকে ৫ কোডে বেতন) পদোন্নতি নিয়ে অবৈধ ভাবে সরকারি ফান্ড সহ স্কুল ফান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ২০১০ সালে প্রভাষক আল আমিন এর নিয়োগের সময় বিজ্ঞান শাখা ছাত্রী সংখ্যা ছিল শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে আছে মাত্র ৪ জন। কাম্য শিক্ষার্থী না থাকলে কোন শিক্ষক এমপিওভূক্ত ও পদোন্নতি পেতে পারেন না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বান্ধবী ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ হোসনে আরার কাছের লোক হিসেবে সে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের গণিত বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে এবং শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভূক্ত হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দলীয় কাছের লোক হিসাবে সে তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। উপরন্ত তাকে একাডেমির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভাতা সহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে। বিগত এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র এক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ১৫৩ জন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে জনাব আল-আমিন তিন হাজার টাকা করে মোট প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত (পরে ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করা) আল আমিন দম্ভ ভরে স্কুলের শিক্ষকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিভাবক মহলে ও মসজিদে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
এবিষয় সহকারী অধ্যাপক আল আমিন এ প্রতিনিধিকে জানান, সবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল এবং তার সমার্থিত শিক্ষক কর্মচারীদের দিয়ে এভাবে মিথ্যাচার করছে আমার বিরুদ্ধে। তিনি ৫ই আগস্টের পরে এমনি পলাতক হয়েছেন তাকে কেউ জোড় করে সরায়নি।
তবে সহকারী অধ্যাপক আল আমিনের বক্তব্য এবং মিথ্যা দাবির স্বপক্ষে কোন ধরনের প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এই প্রতিনিধিকে কোন ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করেননি।
অন্যদিকে, অধ্যক্ষ সারওয়ার খানমের অনুসারি বিতর্কিত শিফট ইনচার্জ খান হাসান আয়ুবের রয়েছে নানা অভিযোগ। তিনি কলেজের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম চুরি, হিসাব রক্ষক থাকা সত্বেও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বিল তৈরি করার জন্য দীর্ঘদিন মাসে অতিরিক্ত ৮ হাজার টাকা করে ভাতা নেয়া, বেতন ভাতা তৈরিতে জালিয়াতি, সফটওয়ার ক্রয়ের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া, ছাত্রী বিয়ে করা’সহ নানা অপকর্মে যুক্ত খান হাসান আয়ুব এর কম্পিউটার প্রভাষক হিসেবে নিয়োগের সময় তার কম্পিউটার ডিপ্লোমা পাশের সনদ ছিলো না বিধায় তার নিয়োগ বৈধ না। ২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিআইএ পরিদর্শন রিপোর্টে বিষয়টি আপত্তি দেয়া হয়। স্কুল বা কলেজে কম্পিউটার শিক্ষা বা আইসিটি বিষয়ে তিনি ক্লাস নেন না অথচ লক্ষাধিক টাকা বেতন ভাতা নেন। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে দিবা শিফটের ইনচার্জ বানিয়ে অতিরিক্ত ভাতা নিচ্ছেন। তার শিফটে ঠিক মতো শ্রেণি কার্যক্রম চলে না। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ডান হাত হিসেবে তহবিল নয় ছয় করা সহ নানা অপকর্মে ব্যস্ত থাকেন। তার শিফট ম্যানেজ এর দায়িত্ব পালন করেন কখনো সিনিয়র শিক্ষক মোঃ সেলিম মোল্লা আবার কখনো কখনো অফিস সহায়ক গোলাম মোস্তফা। তার নানা অপকর্ম নিয়ে ইতিমধ্য পোস্টার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয় শিফট ইনচার্জ খান হাসান আয়ুব এ প্রতিনিধিকে জানান, সবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল এবং তার সমার্থিত শিক্ষক কর্মচারীদের দিয়ে এভাবে মিথ্যাচার করছে আমার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেই বড় দুর্নীতিবাজ এবং এই স্কুল কলেজকে তার পত্রৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেছেন। এমনকি নিজের পরিবার নিয়ে কলেজের উপরে আলাদা ফ্লোর করে থাকতেন।
তবে শিফট ইনচার্জ খান হাসান আয়ুব বক্তব্য এবং মিথ্যা দাবির স্বপক্ষে কোন ধরনের প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এই প্রতিনিধিকে কোন ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম জানান, আপনারা নিউজে যে সকল তথ্য উপস্থাপন করেছেন সকল তথ্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যেখানে যা করেছি সবকিছুই এডহক কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে এবং কলেজের ভালোর জন্য করেছি।
সবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুলকে আমি কোন ভাবে প্রভাবিত করে সরাইনি তিনি বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরথেকে পলাতক। এছাড়া আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে ঝড়িত নয়।
যদি স্কুল কলেজের এতো দুর্নীতি অনিয়ম থেকে থাকে তবে অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ না দিয়ে আপনাদের কাছে দিচ্ছে কেন।
স্কুল কলেজের কোন অর্থে গরমিল নাই শুধু শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে এ ধরনের কাজ করছেন সাবেক অধ্যক্ষ। তিনি বড় দুর্নীতিবাজ ছিলেন, তার সময়কালে নানান দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে তার ক্ষমতার কাছে সকল শিক্ষক কর্মচারী অসহায় ছিলেন।
আমার বাবা করোনায় মারা গেলে যে অনুদান পেয়েছি এটা তার যথাযথ প্রাপ্য ছিল। এবং স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি চাকরি সাথে জড়িত ছিলো।
দুর্নীতি করে টাকা ইনকাম করার কোন প্রশ্নই আসেনা।
তবে তার এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কোন তথ্য ডকুমেন্টস উপস্থাপন করতে পারেন নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ: কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

এফডিআর থেকে নিয়োগ বাণিজ্য

আহমেদ বাওয়ানী একাডেমিতে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারমধ্যে স্থায়ী আমানত ১৫ কোটি টাকা লুটপাট, কলেজের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম চুরি,নিয়োগ ও এমপিও জালিয়াতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ভবন নির্মান কাজে বাধা,এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলআপে অতিরিক্ত ফি আদায় ও ১৫ জন এডহোক শিক্ষক নিয়োগে বানিজ্য। এসবের নেপথ্যে- ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম বলে সুত্র জানায়।

জানা গেছে, ১৯৬২ সালে পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ওই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই একটি স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ছিলো।স্বাধীনতার পরে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি বাংলা মিডিয়াম স্কুল হিসেবে রুপান্তরিত হয়।১৯৮৫ সালে স্কুলটি মহিলা কলেজ হিসেবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়। ওইসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজি সিদ্দিকুর রহমান তিনি গত ৪/০৯/২০০১ তারিখে অবসরে গেলে কলেজ শিক্ষক রওশন আরা বেগম এ পদে বসেন। কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী হোসনে আরা আলম তা মেনে নেননি। এ নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয় রওশন আরা বেগম ও হোসনে আরা আলম এর সাথে। শিক্ষকগণ তখন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়ে। কে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যাল হবেন এ নিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে উচ্চতর আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার মানে চরম অবনতি ঘটে। এরই সূত্র ধরে ২০০৮ সালে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসনে আরা আলম, প্রদর্শক বজলুল হক এবং কম্পিউটার প্রভাষক খান হাসান আয়ুব রওশন আরা গ্রুপের সমর্থক ও বহিরাগতদের হাতে শারীরীকভাবে লাঞ্চিত হন। সেই সময়ের বিতর্কিত শিক্ষকরাই এখনো কেউ কেউ বহাল তবিয়তে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল’ উমরাহ হজ্জ্ব পালনের উদ্দেশ্যে ছুটিতে গেলে তাকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে অপসারণ করে একাডেমির প্রশাসন দখল করে নেয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী সহকারী অধ্যাপক সারওয়াত খানম, যিনি তার স্বামীর করোনায় মৃত্যুর কারণে শেখ হাসিনার নিকট থেকে ১ কোটি টাকা অনুদান হিসাবে পেয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে যারা একাডেমির দায়িত্বে আছেন তারা সবাই আওয়ামীলীগ আমলে সুবিধাভোগী। তাছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে
সারওয়াত খানম চেয়ারে বসে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও একাডেমির লেখাপড়ার মান চিন্তা না করে তার প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন এবং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিরীহ এডহক শিক্ষকদের বঞ্চিত করে, কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি কর্তৃক প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা বাতিল করে অন্যায়ভাবে নিজেদের সুযোগ সুবিধা ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কোচিং বাণিজ্য বিস্তার ঘটানো, ছাত্র-ছাত্রীদের বইয়ের বোঝা বাড়িয়ে নিম্নমানের নোট-গাইড ও গ্রামার বই পাঠ্য করে ২০ লক্ষ টাকার বই বাণিজ্য এবং অপ্রয়োজনীয় এডহক শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা্র নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম নিজের ও তার অনুসারীদের গোপনে বেতন-ভাতা বাড়িয়েছেন ৪/৫ বার। কিন্তু অনেকের প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট ও পিএফ দেন নাই মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত কারণে যোগ্য অভিজ্ঞ গণিত, ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান শিক্ষকদের বসিয়ে রেখে উনার পছন্দের ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির মতো শ্রেণির গণিত ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান ক্লাস নেয়াচ্ছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে একাডেমির শিক্ষার্থীরা।
এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন নানা অপকর্মে যুক্ত খান হাসান আয়ুব, নিয়োগ ও এমপিও জালিয়াতিতে অভিযুক্ত বিতর্কিত শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল আলীম এবং তথাকথিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলামিন।
প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী আমানতের খেয়ানত:
আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের নামে জনতা সোনালী রূপালী মিডল্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড এসবিএসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট মেঘনা ও এবি ব্যাংকে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসাব বা এফডিআর করা ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এফডিআর থেকে মুনাফা আসে ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪০৩ টাকা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম অসৎ উদ্দেশ্যে সাধারণ তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও বিনা প্রয়োজনে এবি ব্যাংকের দোহাই দিয়ে বিধি বিধান লঙ্ঘন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা বোর্ড বা মাউশির অনুমোদন ছাড়াই গ্রীন জোনে থাকা মিডল্যান্ড ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংকের এফডিআর নগদায়ন করে ইয়েলো জোনের এসবিএসি ব্যাংকের সাধারণ তহবিল অলাভজনক চলতি হিসাবে রেখেছেন। এরফলে উক্ত স্থায়ী আমানতের অর্থের খেয়ানত হওয়া সহ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী (মুকুল স্যার)-এর কার্যকাল (২০১৫-২০২৪)
উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে জনাব মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল গত ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখ যোগদান করেন। সেই সময় আহমেদ বাওয়ানীর একাডেমীর বিভিন্ন ফান্ডে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা ছিল। ২০২৪ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ কোটি টাকার এফডিআর সহ প্রায় সোয়া ১৫ কোটি টাকা ছিল। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধনের কারণে ২০২৪ সালে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী ঢাকা মহানগরীর কোতয়ালী শিক্ষা থানার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল) এবং অধ্যক্ষ মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্সী শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান (স্কুল) নির্বাচিত হন। উনার সময়কালে শিক্ষার্থীদের পাশের হার ছিল এসএসসিতে গড়ে ৯৫% এবং এইচএসসি গড়ে ৮৫% যা’ ২০২৫ সালে হতাশাজনকভাবে নেমে দাঁড়িয়েছে ৮৪% এবং ৬৩%।
সিএ ফার্ম কর্তৃক প্রদত্ত অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানের মোট তহবিল ছিল ১,৩৬,৫০,১১৭/- টাকা, ২০১৪ সালে ছিল ৩,৬৭,৮৭,৮৯১/- টাকা, ২০২১ সালে ১৪,৪২,৮৩,২৮৩/- টাকা, ২০২২ সালে ১৫,৫৩,৯৯,৮৫৯/- টাকা, ২০২৩ সালে ১৪,৮৫,৯৮,৪০৩/- টাকা, ২০২৪ সালের ৩০ জুন ছিল ১৫,১৪,৫৪,০৬২ টাকা।
প্রতিষ্ঠানে ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরে নির্মাণ ও মেরামত বাবদ মাত্র ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হলেও সর্বমোট ব্যয় হয় ৮কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। কারণ, এর আগের বছর ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরে ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা নির্মাণ ও মেরামত বাবদ ব্যয় সহ মোট ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।
২০২২-২৩ অর্থ-বছরে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নির্মাণ ও মেরামত বাবদ ব্যয় সহ মোট ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। এবং ২০২১-২২ অর্থ-বছরে ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা নির্মাণ ও মেরামত বাবদ ব্যয় সহ মোট ব্যয় হয়েছিল ৭ কোটি ৫ লক্ষ টাকা।
দুই শিফটের এই প্রতিষ্ঠানে শিফট অনুমোদন আছে মাত্র একটি। অধিকাংশ অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদন নেই। তাই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক এবং কর্মচারী এমপিও ভূক্ত, অধিকাংশই অস্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের সবার বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থ-বছরে শিক্ষক কর্মচারীদের সরকার থেকে বেতন ও বোনাস বাবদ মোট – ১,৩৪,৮০,৯৩৭ টাকা দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ও বোনাস বাবদ ৩,২৬,৪২,৯২৮ টাকা ও ভবিষ্য তহবিল বা পিএফ বাবদ ১,১৪,৯৪,৪৯৩ টাকা মোট ৪,৪১,৩৭,৪২১ টাকা প্রদান করা হয়।
২০২৪- ২০২৫ অর্থ-বছরে শিক্ষক কর্মচারীদের সরকার থেকে বেতন ও বোনাস বাবদ সর্বমোট – ১,৩৫,৭৬,০৩৫ টাকা দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-বোনাস বাবদ ৩,৪৭,৩০,৬৭২ টাকা ও ভবিষ্য তহবিল বা পিএফ বাবদ ১,২৪,১৯,৫২২ টাকা সর্বমোট ৪,৭১,৫০,১৯৪ টাকা প্রদান করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বেতন-ভাতা বাবদ দেয়া হয়েছে।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ছিল- ৪,৯৪৬ জন (ছাত্র-৩,০০৬ জন, ছাত্রী- ১,৯৪০ জন)। ২০২৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ছিল- ৪,৮০৬ জন (ছাত্র-২,৮৩৮ জন, ছাত্রী- ১,৯৬৮ জন)। কলেজে ছাত্রী সংখ্যা অপ্রতুল।
১৫ জন এডহক শিক্ষক নিয়োগের নামে বাণিজ্যঃ
২৯ জুন ২০২৫ তারিখ এডহক কমিটির মেয়াদ শেষে যখন কোনো কমিটি ছিল না তখন গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অসৎ উদেশ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ১৫ জন এডহক শিক্ষক পূর্বে নিয়োগকৃত এডহক শিক্ষকদের থেকে প্রায় দ্বিগুণ বর্ধিত বেতনে অক্টোবর- ২০২৫ মাস থেকে নিয়োগ দেন তিনি। এই নিয়োগের মাধ্যমে তিনি এবং তার অনুসারীরা ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজে ২০২৫ সালে মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, যার মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় মাত্র ৪ জন। কিন্তু নতুন করে কলেজ শাখায় এডহক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭ জন। বিজ্ঞান শাখায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩ জন।
কলেজ শাখায় মাত্র ১০ জন এমপিওভূক্ত শিক্ষক আছেন যাদের সরকারি ও প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন ও পিএফ বাবদ দেয়া হয় মাসে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। ৭ জন এডহক শিক্ষক বেতন পান মাসে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি বাবদ যা আয় হয় তা দিয়ে কলেজে নতুন নিয়োগকৃত এডহক শিক্ষকদের বেতনই হয় না। এমপিওভূক্ত কলেজ শিক্ষকদের পুরো বেতনটাই দিতে হয় স্কুলের আয় থেকে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলআপে অতিরিক্ত ফি আদায়ঃ
গত দুই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফরম ফিলআপের সময়ে বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেআইনীভাবে কোচিং ও মডেল টেস্টের নামে ২০২৫ সালে ৩ হাজার টাকা করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা এবং ২০২৬ সালে ৫ হাজার টাকা করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখায়ে জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছে বলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাভকদের নিকট থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে । এই আদায়কৃত টাকা থেকে দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষকদের ১০ হাজার টাকা করে এবং নাম মাত্র কোচিং ক্লাস ও মডেল টেস্ট নেয়া শিক্ষকদের মাঝে সামান্য টাকা বিতরণ করে সিংহভাগ টাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তাকে সহায়তাকারী প্রশাসনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ নিজেদের মধ্যে ভাগ বন্টন করে নিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকগণ ঢাকা বোর্ড এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
২০২৬ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও টিঊশন ফি বৃদ্ধিঃ
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে টিউশন ও ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেয়া হলেও এবং ছাত্র-বেতন কমানোর জন্য অভিভাবক মহলের ক্রমাগত দাবীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায়ে ২০২৬ সালে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অন্যায়ভাবে মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক টিউশন ফি ৭০০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেশন চার্জ নতূন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা এবং পুরাতন শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি করে আদায় করা হয়। এসব বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময়ে তা বিস্ফোরন ঘটে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ভবন নির্মাণ কাজ করতে না দেয়াঃ
২০২৩ সালে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমীর নতুন ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৬ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়। সেই মোতাবেক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে। যথারীতি টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে বিদ্যমান পুরান ৪ তলা একাডেমির দক্ষিণ ভবন প্রায় ২৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে ভেঙ্গে অপসারণপূর্বক জায়গা খালি করা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল এর জোরপূর্বক অপসারণের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অজানা কারণে সেই ভবন নির্মাণ কাজ করতে দেয়নি। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়ে দেয় যে একাডেমী কর্তৃপক্ষ এই ভবন নির্মাণ করতে চায় না, তাদের কোনো ভবন প্রয়োজন নেই। অথচ বালক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভবন নির্মাণ প্রয়োজন ছিলো। শ্রেণি কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়ে ছাত্রদের বালিকা শাখার ভবনে ক্লাস করতে হয়। খালি জায়গাটি বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শোনা যায়, সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণ করলে তাদের কোনো লাভ নেই। তাই প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে তারা ভবন নির্মাণ করবে।
এদিকে, প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আলীম ২০১৩ সালে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মোটা অংকের ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে ভুঁয়া নাম ও এমপিও ইন্ডেক্স নম্বর (396079, M.A Alim) দেখায়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ নিয়েছেন, যার সাথে তার শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (১৯১৮৩৫৮৭৯১) নামের সাথে কোন মিল নেই। নিয়োগের প্রায় তিন বছর পরে ২০১৬ সালে তার সম্পূর্ণ নতুন এমপিও হয় (ইন্ডেক্স নম্বর-3092919, Mohammad Abdul Alim)। নতুন ইনডেক্সে এমপিও হয়েছে ২২,০০০/- টাকা স্কেলের পরিবর্তে ২৯,০০০/- টাকা স্কেলে, যা’ বিধি বহির্ভূত। বেতন কোড ৯ এর স্থলে ভুলক্রমে বেতন কোড-৭ এ নতুনভাবে এমপিওভূক্ত হয়। কিন্তু সে কলেজে প্রকৃত তথ্য গোপন রাখে। পরবর্তীতে সে ঢাকা আঞ্চলিক পরিচালক অফিসে অবৈধ উপায়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এমপিও’তে তার কথিত পুরাতন ইন্ডেক্স নম্বর (396079) জালিয়াতির মাধ্যমে গোপনে প্রতিস্থাপন করে। নতুন ইনডেক্স এর তথ্য গোপন করে তিনি ২২,০০০/- টাকা স্কেলের পরিবর্তে ২৯,০০০/- টাকার সিনিয়র স্কেলে অদ্যাবধি অতিরিক্ত ৭ লক্ষ টাকা বেতন-ভাতার সরকারি অংশ (এমপিও) এবং প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠানের অংশ বেতন ভাতা ও পিএফ বাবদ মোট ১৭ লক্ষ টাকা অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত গ্রহণ করেছেন, যা’ অবশ্যই রাষ্ট্রীয় ও প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে ফেরতযোগ্য। ২০১০ সালের পরে প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও “মোহাম্মদ আব্দুল আলীম” (শিক্ষা সনদ অনুযায়ী) ওরফে “মো: আব্দুল আলীম” (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী)-এর কোনো শিক্ষক নিবন্ধন সনদ নেই। শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিহীন প্রভাষক হিসেবে তার এই বিধি-বহির্ভূত প্রভাষক পদে নিয়োগ বাতিলযোগ্য। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে মাউশি অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর ৫০২৫ তারিখ তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা মনোনয়ন দিয়েছেন, অজানা কারণে সেই তদন্ত থেমে আছে। এই তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে মাউশি-ঢাকা অঞ্চলের সাবেক পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ নুরুজ্জামান তাকে ‘সহকারী অধ্যাপক’ হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে উনার দূর্নীতির চরম নজির স্থাপন করেছেন। আপত্তি দেয়া সত্ত্বেও জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মজিদ এই বিতর্কিত শিক্ষককেই পর পর দুইবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানমের সুপারিশে এডহক কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়েছেন।
প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে এ প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি জানান, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের সাথে মিলে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এধরণের মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
তবে আব্দুল আলীমের মিথ্যা দাবির স্বপক্ষে কোন ধরনের প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এই প্রতিনিধিকে কোন ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করেননি
বিতর্কিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল আমিন সমাচারঃ
কলেজে কাম্য শিক্ষার্থী না থাকা সত্বেও তথ্য গোপন করে আল-আমিন মাউশি ঢাকা অঞ্চলকে ঘুষের মাধ্যমে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে (৯ কোড থেকে ৫ কোডে বেতন) পদোন্নতি নিয়ে অবৈধ ভাবে সরকারি ফান্ড সহ স্কুল ফান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ২০১০ সালে প্রভাষক আল আমিন এর নিয়োগের সময় বিজ্ঞান শাখা ছাত্রী সংখ্যা ছিল শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে আছে মাত্র ৪ জন। কাম্য শিক্ষার্থী না থাকলে কোন শিক্ষক এমপিওভূক্ত ও পদোন্নতি পেতে পারেন না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বান্ধবী ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ হোসনে আরার কাছের লোক হিসেবে সে আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের গণিত বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে এবং শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভূক্ত হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দলীয় কাছের লোক হিসাবে সে তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। উপরন্ত তাকে একাডেমির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভাতা সহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে। বিগত এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র এক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ১৫৩ জন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে জনাব আল-আমিন তিন হাজার টাকা করে মোট প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত (পরে ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করা) আল আমিন দম্ভ ভরে স্কুলের শিক্ষকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিভাবক মহলে ও মসজিদে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
এবিষয় সহকারী অধ্যাপক আল আমিন এ প্রতিনিধিকে জানান, সবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল এবং তার সমার্থিত শিক্ষক কর্মচারীদের দিয়ে এভাবে মিথ্যাচার করছে আমার বিরুদ্ধে। তিনি ৫ই আগস্টের পরে এমনি পলাতক হয়েছেন তাকে কেউ জোড় করে সরায়নি।
তবে সহকারী অধ্যাপক আল আমিনের বক্তব্য এবং মিথ্যা দাবির স্বপক্ষে কোন ধরনের প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এই প্রতিনিধিকে কোন ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করেননি।
অন্যদিকে, অধ্যক্ষ সারওয়ার খানমের অনুসারি বিতর্কিত শিফট ইনচার্জ খান হাসান আয়ুবের রয়েছে নানা অভিযোগ। তিনি কলেজের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম চুরি, হিসাব রক্ষক থাকা সত্বেও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বিল তৈরি করার জন্য দীর্ঘদিন মাসে অতিরিক্ত ৮ হাজার টাকা করে ভাতা নেয়া, বেতন ভাতা তৈরিতে জালিয়াতি, সফটওয়ার ক্রয়ের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া, ছাত্রী বিয়ে করা’সহ নানা অপকর্মে যুক্ত খান হাসান আয়ুব এর কম্পিউটার প্রভাষক হিসেবে নিয়োগের সময় তার কম্পিউটার ডিপ্লোমা পাশের সনদ ছিলো না বিধায় তার নিয়োগ বৈধ না। ২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিআইএ পরিদর্শন রিপোর্টে বিষয়টি আপত্তি দেয়া হয়। স্কুল বা কলেজে কম্পিউটার শিক্ষা বা আইসিটি বিষয়ে তিনি ক্লাস নেন না অথচ লক্ষাধিক টাকা বেতন ভাতা নেন। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে দিবা শিফটের ইনচার্জ বানিয়ে অতিরিক্ত ভাতা নিচ্ছেন। তার শিফটে ঠিক মতো শ্রেণি কার্যক্রম চলে না। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ডান হাত হিসেবে তহবিল নয় ছয় করা সহ নানা অপকর্মে ব্যস্ত থাকেন। তার শিফট ম্যানেজ এর দায়িত্ব পালন করেন কখনো সিনিয়র শিক্ষক মোঃ সেলিম মোল্লা আবার কখনো কখনো অফিস সহায়ক গোলাম মোস্তফা। তার নানা অপকর্ম নিয়ে ইতিমধ্য পোস্টার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয় শিফট ইনচার্জ খান হাসান আয়ুব এ প্রতিনিধিকে জানান, সবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুল এবং তার সমার্থিত শিক্ষক কর্মচারীদের দিয়ে এভাবে মিথ্যাচার করছে আমার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেই বড় দুর্নীতিবাজ এবং এই স্কুল কলেজকে তার পত্রৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেছেন। এমনকি নিজের পরিবার নিয়ে কলেজের উপরে আলাদা ফ্লোর করে থাকতেন।
তবে শিফট ইনচার্জ খান হাসান আয়ুব বক্তব্য এবং মিথ্যা দাবির স্বপক্ষে কোন ধরনের প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এই প্রতিনিধিকে কোন ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারওয়াত খানম জানান, আপনারা নিউজে যে সকল তথ্য উপস্থাপন করেছেন সকল তথ্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যেখানে যা করেছি সবকিছুই এডহক কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে এবং কলেজের ভালোর জন্য করেছি।
সবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মুন্সী মুকুলকে আমি কোন ভাবে প্রভাবিত করে সরাইনি তিনি বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরথেকে পলাতক। এছাড়া আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে ঝড়িত নয়।
যদি স্কুল কলেজের এতো দুর্নীতি অনিয়ম থেকে থাকে তবে অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ না দিয়ে আপনাদের কাছে দিচ্ছে কেন।
স্কুল কলেজের কোন অর্থে গরমিল নাই শুধু শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে এ ধরনের কাজ করছেন সাবেক অধ্যক্ষ। তিনি বড় দুর্নীতিবাজ ছিলেন, তার সময়কালে নানান দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে তার ক্ষমতার কাছে সকল শিক্ষক কর্মচারী অসহায় ছিলেন।
আমার বাবা করোনায় মারা গেলে যে অনুদান পেয়েছি এটা তার যথাযথ প্রাপ্য ছিল। এবং স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি চাকরি সাথে জড়িত ছিলো।
দুর্নীতি করে টাকা ইনকাম করার কোন প্রশ্নই আসেনা।
তবে তার এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কোন তথ্য ডকুমেন্টস উপস্থাপন করতে পারেন নি।