ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে, জানালেন সিইসি চট্টগ্রামে চউকের অভিযানে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা, সিলগালা রেস্টুরেন্ট উদ্ধারকাজে ‘সাইবর্গ’ তেলাপোকা, ধ্বংসস্তূপে পৌঁছে দেবে ওষুধ পঞ্চগড়ে অসহায়দের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার, বাইসাইকেল ও চার্জার ভ্যান বিতরণ পিস্তল ঠেকিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে ২ লাখ টাকা লুটে নিলেন ‘পিস্তল বাবু’ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে সোনা-টাকা লুটে নিল ডাকাতের দল আত্রাইয়ে ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ  পবিপ্রবিতে জমকালো আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী আইটি কার্নিভাল শুরু জামালপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার ইসিকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হড়কা বান ও ভূমিধস নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও আরও ৮২৬ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে নিহতের সংখ্যা ২৮৯ জনে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই হিসাব পাওয়া গেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাসিন্দা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ানে—১০৮টি। এছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সংঘটিত ভয়াবহ এই বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভয়াবহ এই বন্যার সূত্রপাত হয় হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর। এর ফলে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথর নেমে এসে সীমান্তবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহ-সম্পর্কিত ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আরও বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে, জানালেন সিইসি

হড়কা বান ও ভূমিধস নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯

আপডেট সময় ০৪:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও আরও ৮২৬ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে নিহতের সংখ্যা ২৮৯ জনে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই হিসাব পাওয়া গেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাসিন্দা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ানে—১০৮টি। এছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সংঘটিত ভয়াবহ এই বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভয়াবহ এই বন্যার সূত্রপাত হয় হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর। এর ফলে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথর নেমে এসে সীমান্তবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহ-সম্পর্কিত ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আরও বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।