কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদী সংলগ্ন পশ্চিম বাহিরচর ও চররুপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটের তড়িয়ামহলে পদ্মা নদীর বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে লাল পতাকা পুঁতে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। লাল নিশান স্থাপন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভেড়ামারা থানা পুলিশ।
গত ২৬শে আগষ্ট বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদী সংলগ্ন পশ্চিম বাহিরচর ও চররুপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটে তড়িয়া বালুমহলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। এতে আগের বছরগুলোতেও শত শত একর জমি বিলীন হয়েছে। ফলে হার্ডিঞ্জ সেতু, লালন শাহ সেতু, ভারত-বাংলাদেশ কম্বাইন্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে গত ৬ জুন উপজেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বালুমহাল এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়। এর দু’দিন আগে ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষও বাহিরচর ইউনিয়নের বালুমহালের রাস্তা বরাবর লাল পতাকা টাঙিয়েছিল। তবু ব্যবসায়ীরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে আগের মতোই বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত অভিযান চালিয়ে লাল পতাকা টাঙান। অভিযানকালে বালু স্থানান্তরে ব্যবহৃত পাইপলাইন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, তড়িয়ামহালটিতে দ্বিতীয়বারের মত লাল নিশান স্থাপন করা হলো। এর আগে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করা হয়। এতসব করেও অসাধু চক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না।
কাজী মিজানুর রহমান ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 



















