ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উত্তর হাওলা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ লীরা গ্রুপের এমডি আলমগীর ইকবালের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ অফিসে বসে বস্তা ভরে টাকা নেন প্রকৌশলী হাসান শওকত বিপিসির কর্মকর্তা এটিএম সেলিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুমন ডিএই’তে প্রধান সহকারী নাসির উদ্দীনের বদলি ঘিরে উত্তেজনা, নানা অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত আরিফুরের পুনর্বহালের তদবির সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম : রিজভী নীলকুঞ্জ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও একজন সংবাদকর্মীর জাতীয় সম্মান প্রাপ্তি

বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস, নবীপ্রেমের সুমহান বার্তায় মুখরিত জনপদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউছিয়া সাইফিয়া কমিটি, কসবা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ জশনে জুলুসে বিপুলসংখ্যক আশেকে রাসুল (সা.) অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলটি বায়েক ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় হামদ, নাত, দরুদ ও সালামের সুমধুর ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। নবীপ্রেমে উদ্বেলিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন ধর্মীয় আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভক্তপুর দরবারে আলিয়া গাউছিয়া নাছের ভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও গদিনিশীন, আওলাদে রাসুল (সা.) ও আওলাদে মাইজভান্ডারী হাফেজ কারী মাওলানা সৈয়দ সাইফুল ইসলাম আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভান্ডারি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও শান্তির দূত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মানবতা, ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া, ন্যায় ও শান্তির অনন্য শিক্ষা বহন করে। নবীজি (সা.) মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে একে অপরের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নবীজির ভালোবাসাকে হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

জশনে জুলুসে গাউছিয়া সাইফিয়া কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দরবার শরীফের অনুসারী এবং বায়েক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।

জুলুস শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল। এতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পবিত্র এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীপ্রেম, মানবতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। সবশেষে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের সমাপ্তি ঘটে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তর হাওলা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ

বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস, নবীপ্রেমের সুমহান বার্তায় মুখরিত জনপদ

আপডেট সময় ০১:০০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউছিয়া সাইফিয়া কমিটি, কসবা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ জশনে জুলুসে বিপুলসংখ্যক আশেকে রাসুল (সা.) অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলটি বায়েক ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় হামদ, নাত, দরুদ ও সালামের সুমধুর ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। নবীপ্রেমে উদ্বেলিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন ধর্মীয় আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভক্তপুর দরবারে আলিয়া গাউছিয়া নাছের ভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও গদিনিশীন, আওলাদে রাসুল (সা.) ও আওলাদে মাইজভান্ডারী হাফেজ কারী মাওলানা সৈয়দ সাইফুল ইসলাম আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভান্ডারি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও শান্তির দূত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মানবতা, ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া, ন্যায় ও শান্তির অনন্য শিক্ষা বহন করে। নবীজি (সা.) মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে একে অপরের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নবীজির ভালোবাসাকে হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

জশনে জুলুসে গাউছিয়া সাইফিয়া কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দরবার শরীফের অনুসারী এবং বায়েক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।

জুলুস শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল। এতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পবিত্র এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীপ্রেম, মানবতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। সবশেষে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের সমাপ্তি ঘটে।