ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউছিয়া সাইফিয়া কমিটি, কসবা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ জশনে জুলুসে বিপুলসংখ্যক আশেকে রাসুল (সা.) অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি বায়েক ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় হামদ, নাত, দরুদ ও সালামের সুমধুর ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। নবীপ্রেমে উদ্বেলিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন ধর্মীয় আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভক্তপুর দরবারে আলিয়া গাউছিয়া নাছের ভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও গদিনিশীন, আওলাদে রাসুল (সা.) ও আওলাদে মাইজভান্ডারী হাফেজ কারী মাওলানা সৈয়দ সাইফুল ইসলাম আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভান্ডারি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও শান্তির দূত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মানবতা, ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া, ন্যায় ও শান্তির অনন্য শিক্ষা বহন করে। নবীজি (সা.) মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে একে অপরের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নবীজির ভালোবাসাকে হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জশনে জুলুসে গাউছিয়া সাইফিয়া কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দরবার শরীফের অনুসারী এবং বায়েক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।
জুলুস শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল। এতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পবিত্র এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীপ্রেম, মানবতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। সবশেষে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের সমাপ্তি ঘটে।
মোরশেদ আলম-কসবা প্রতিনিধি 




















