সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনের তোয়াক্কা না করে পিয়াইন নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে চলেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ইজারা-বহির্ভূত সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী শত শত ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, সড়ক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, গোয়াইনঘাটের ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পান্তুমাই থেকে মনরতল বাজার পর্যন্ত এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর। এই অংশটিকে বালুমহাল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য এর আগে বুগইলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান। সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনা করে তৎকালীন প্রশাসন ওই অংশকে বালুমহালের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত দিলেও বর্তমানে সব আদেশ অমান্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ বালু খেকো চক্র।
বর্তমানে পিয়াইন নদীতীরবর্তী বুগইলকান্দি, মনাইকান্দি, মনরতল, লংলাখাল, মুরামুরিখাল ও খুরি মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকা চরম হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাদারপার বালুমহালের ইজারা নিয়ে তার আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা ও মনরতল বাজারের মতো সংরক্ষিত স্থান থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পাথর ও বালু তোলা হচ্ছে। ফলে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
অভিযোগ উঠেছে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এবং সংশ্লিষ্ট বিটের সাব-ইন্সপেক্টরদের মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে নদী ধ্বংসের এই উৎসব চালাচ্ছে সিন্ডিকেটটি। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাঁতিদল নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এই অবৈধ দখল ও বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইজারার শর্তাবলি লঙ্ঘন ও নদীর পরিবেশ ধ্বংসের খবর প্রকাশ্যে এলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরব ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। অবিলম্বে পিয়াইন নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং এলাকা রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















