ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ বিআইডব্লিউটিএ নারীকাণ্ডে বরখাস্ত সেই আরিফকে অন্য বিভাগে পদায়ন চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ বড়লেখায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিসচার উদ্যোগে শিক্ষার্থী সমাবেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড অন্যের হাত ধরে উধাও স্ত্রী, প্রবাসী বললেন-কাবাঘরে গিয়ে বিচার দিবো মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা এবার ওএসডি রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে বাস উল্টে হেলপার নিহত, আহত ২০
‘শান্তিতে ঘুমাও বাবা’

প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তা

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

কিছুদিন আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনে বিপক্ষে হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসির। সেই শোক কাটিয়ে ইন্টার মায়ামির শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন এই ফুটবল জাদুকর। কিন্তু এবারের ধাক্কাটা আরও বড়। ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান মেসির বাবা জর্জ মেসি।

বাবা মারা যাওয়ার পর এক মুখ খুলেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা লিখেছেন মেসি। জর্জ মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন,

‘বাবা, তোমার চলে যাওয়াটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। বাস্তবতাটা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। আসলে আমি এটা মানতে চাইছি না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, আমাদের আর কখনো কথা হবে না, এটা কল্পনা করাও আমার জন্য খুব কঠিন। আমি জানি তুমি কষ্টে ছিলে এবং এটাই তোমার জন্য হয়তো ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে আরও কত কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’

বাবার অনুরোধেই উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘তুমি আমাকে শেষ বিশ্বকাপটা খেলার জন্য কত অনুরোধ করেছিলে! আর টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীর সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেল। মা আমাকে বলছিলেন যে তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলা দেখতে আসার মতো ভালো হয়ে যাবে। আমিও তোমাকে বলতাম, আমরা ফাইনালে উঠবই যাতে তুমি আসার সুযোগ পাও।’

প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষায় থাকতাম আর তোমাকে খুব মিস করতাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও, আমি শুধু যতটা সম্ভব দূর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ভাবতাম, যাতে তোমাকে কিছুটা সময় দেওয়া যায় আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারো। আমরা ফাইনালে পৌঁছালাম, কিন্তু তুমি আসতে পারলে না। আমি কাপটা জিততে চেয়েছিলাম, যাতে তোমার কাছে নিয়ে গিয়ে নতুন একটা ট্রফি দেখাতে পারি। কিন্তু পারলাম না।’

বিশ্বকাপ শেষ করে বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লেখেন, ‘আমি যখন ফিরে এলাম, তুমি ভেবেছিলে আমরা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছি। যা কিছু ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা একটা কথাও বলতে পারলাম না। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারলে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি ঠিকই, তবে আমরা প্রতিটি ম্যাচ কতটা উপভোগ করেছি তা তুমি জানতে পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে—আমার সেখানে যাওয়া এবং খেলাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব জানি না, কীভাবে সামনে এগোবো বুঝতে পারছি না। আমি তো শুধু ফুটবলটাই খেলতে জানতাম, আর এখন আমার নিজের মনেই বড় সংশয় জাগছে যে আমি আর কতদিন খেলাটা চালিয়ে যেতে পারব। শুরু থেকেই তো তুমি আমার পাশে ছিলে, একদম শেষ মুহূর্তের তো আর অল্প একটু বাকি ছিল। আর কিছুটা সময় কেন ধৈর্য ধরে থাকলে না বাবা? তাহলে তো আমরা একসাথেই শেষটা করতে পারতাম!

‘তোমাকে অনেক অনেক মিস করব বাবা, তবে তুমি সবসময় আমাদের মাঝে থাকবে। তোমরা আমাকে যেভাবে বড় করেছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই শিক্ষা দিচ্ছি। শান্তিতে ঘুমাও বাবা, আর ওপর থেকে আমাদের সেভাবেই আগলে রেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’

‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

‘শান্তিতে ঘুমাও বাবা’

প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তা

আপডেট সময় ০৭:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

কিছুদিন আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনে বিপক্ষে হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসির। সেই শোক কাটিয়ে ইন্টার মায়ামির শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন এই ফুটবল জাদুকর। কিন্তু এবারের ধাক্কাটা আরও বড়। ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান মেসির বাবা জর্জ মেসি।

বাবা মারা যাওয়ার পর এক মুখ খুলেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা লিখেছেন মেসি। জর্জ মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন,

‘বাবা, তোমার চলে যাওয়াটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। বাস্তবতাটা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। আসলে আমি এটা মানতে চাইছি না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, আমাদের আর কখনো কথা হবে না, এটা কল্পনা করাও আমার জন্য খুব কঠিন। আমি জানি তুমি কষ্টে ছিলে এবং এটাই তোমার জন্য হয়তো ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে আরও কত কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’

বাবার অনুরোধেই উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘তুমি আমাকে শেষ বিশ্বকাপটা খেলার জন্য কত অনুরোধ করেছিলে! আর টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীর সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেল। মা আমাকে বলছিলেন যে তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলা দেখতে আসার মতো ভালো হয়ে যাবে। আমিও তোমাকে বলতাম, আমরা ফাইনালে উঠবই যাতে তুমি আসার সুযোগ পাও।’

প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষায় থাকতাম আর তোমাকে খুব মিস করতাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও, আমি শুধু যতটা সম্ভব দূর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ভাবতাম, যাতে তোমাকে কিছুটা সময় দেওয়া যায় আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারো। আমরা ফাইনালে পৌঁছালাম, কিন্তু তুমি আসতে পারলে না। আমি কাপটা জিততে চেয়েছিলাম, যাতে তোমার কাছে নিয়ে গিয়ে নতুন একটা ট্রফি দেখাতে পারি। কিন্তু পারলাম না।’

বিশ্বকাপ শেষ করে বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লেখেন, ‘আমি যখন ফিরে এলাম, তুমি ভেবেছিলে আমরা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছি। যা কিছু ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা একটা কথাও বলতে পারলাম না। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারলে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি ঠিকই, তবে আমরা প্রতিটি ম্যাচ কতটা উপভোগ করেছি তা তুমি জানতে পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে—আমার সেখানে যাওয়া এবং খেলাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব জানি না, কীভাবে সামনে এগোবো বুঝতে পারছি না। আমি তো শুধু ফুটবলটাই খেলতে জানতাম, আর এখন আমার নিজের মনেই বড় সংশয় জাগছে যে আমি আর কতদিন খেলাটা চালিয়ে যেতে পারব। শুরু থেকেই তো তুমি আমার পাশে ছিলে, একদম শেষ মুহূর্তের তো আর অল্প একটু বাকি ছিল। আর কিছুটা সময় কেন ধৈর্য ধরে থাকলে না বাবা? তাহলে তো আমরা একসাথেই শেষটা করতে পারতাম!

‘তোমাকে অনেক অনেক মিস করব বাবা, তবে তুমি সবসময় আমাদের মাঝে থাকবে। তোমরা আমাকে যেভাবে বড় করেছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই শিক্ষা দিচ্ছি। শান্তিতে ঘুমাও বাবা, আর ওপর থেকে আমাদের সেভাবেই আগলে রেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’

‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।