ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢামেকে কোটি টাকার অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড়, অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তা থার্ড টার্মিনালে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন রাজউকের পলাশ কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৮০০ কোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ রাজউকের কর্মচারীর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ পবিপ্রবিতে মাদক বিরোধী সেমিনার বাংলাদেশ এমপ্লয়ীজ ফেডারেশনের মানববন্ধন, সাত দিনের কর্মসূচি দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত জামিলকে বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পুনর্বাসন নীলফামারীতে তিস্তায় মাছের জালে আটকা পড়লো ৭ ফুটের অজগর নওগাঁয় আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক

দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত জামিলকে বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পুনর্বাসন

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলেও দূর্নীতিবাজ ছাত্রলীগ নেতা জামিল হোসেনকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পূনর্বাসন করা হয়েছে।

​গত ১৭ জুন বিআরটিসির জিএম দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়। ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে লাভজনক ডিপোতে পাঠানো কার্যত প্রমোশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার শামিল। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়কে ম্যানেজ করে এই বদলি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বিগত সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও বর্তমানে পলাতক ‘লিকু’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে রামরাজত্ব কায়েম করেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে তিনি বিআরটিসিতে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাকরি পাওয়ার পর থেকেই লিকুর ভাগ্নে এবং গোপালগঞ্জের কোটা—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে বিআরটিসিকে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেন জামিল। বিভিন্ন ডিপোতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।

​সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোসহ যেখানেই জামিল হোসেনের পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই তিনি জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। বিভিন্ন বাস ডিপোতে থাকাকালীন গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় এবং এসি বাসের যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি।

​বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জামিল হোসেন ডিপোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করে সরকারি তহবিলের কয়েক লাখ টাকা পকেটে নেন। তাঁর এই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়েছিল।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও, জামিল হোসেন তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকা হেড অফিসের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামের মতো লাভজনক ডিপো বাগিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।

​এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেকে কোটি টাকার অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড়, অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তা

দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত জামিলকে বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পুনর্বাসন

আপডেট সময় ০৬:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলেও দূর্নীতিবাজ ছাত্রলীগ নেতা জামিল হোসেনকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পূনর্বাসন করা হয়েছে।

​গত ১৭ জুন বিআরটিসির জিএম দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়। ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে লাভজনক ডিপোতে পাঠানো কার্যত প্রমোশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার শামিল। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়কে ম্যানেজ করে এই বদলি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বিগত সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও বর্তমানে পলাতক ‘লিকু’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে রামরাজত্ব কায়েম করেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে তিনি বিআরটিসিতে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাকরি পাওয়ার পর থেকেই লিকুর ভাগ্নে এবং গোপালগঞ্জের কোটা—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে বিআরটিসিকে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেন জামিল। বিভিন্ন ডিপোতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।

​সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোসহ যেখানেই জামিল হোসেনের পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই তিনি জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। বিভিন্ন বাস ডিপোতে থাকাকালীন গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় এবং এসি বাসের যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি।

​বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জামিল হোসেন ডিপোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করে সরকারি তহবিলের কয়েক লাখ টাকা পকেটে নেন। তাঁর এই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়েছিল।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও, জামিল হোসেন তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকা হেড অফিসের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামের মতো লাভজনক ডিপো বাগিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।

​এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।