ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী? অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ, ৫ শিক্ষার্থী পেল ‘মেধাবৃত্তি
বিতর্কিত সেই নাজির এখন মোহাম্মদপুর ভূমি অফিসে

ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

তার পদের নাম নাজির। যেখানেই যান ওই অফিসে নিজের রাজত্ব কায়েম করেন। খোদ অফিস কর্তারাও তার কর্মকাণ্ডে তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন। তিনি নিজেই নাকি ২০ জন সাংবাদিক পোষেন- এমন কথাও সহকর্মীদের কাছে বলে বেড়ান। নাম তার রাজীব দত্ত।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে কর্মরত নাজির রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের নানাভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে দালাল ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার পরও আমার ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে বাইরে দোকানের একজনের পরামর্শে নাজির রাজীবের সাথে যোগাযোগ করলে সরাসরি টাকা দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয় এবং ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে দফারফা করি ।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে দালাল সিন্ডিকেট গঠন এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। সে সময় অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একটি দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি দলিল বা নামজারি সংক্রান্ত কাজে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।

তৎকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কেনার গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে নানা অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলেই একই কায়দায় কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করছেন রাজিব দত্ত। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজিব দত্তের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে বরং অবজ্ঞার সুরে বলেন, “এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছু হবে না।” তবে তার এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে কঠোর নজরদারি, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবেন এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা ফ্যাসিস্ট আমলের দুর্নীতিবাজ রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বিতর্কিত সেই নাজির এখন মোহাম্মদপুর ভূমি অফিসে

ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

তার পদের নাম নাজির। যেখানেই যান ওই অফিসে নিজের রাজত্ব কায়েম করেন। খোদ অফিস কর্তারাও তার কর্মকাণ্ডে তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন। তিনি নিজেই নাকি ২০ জন সাংবাদিক পোষেন- এমন কথাও সহকর্মীদের কাছে বলে বেড়ান। নাম তার রাজীব দত্ত।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে কর্মরত নাজির রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের নানাভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে দালাল ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার পরও আমার ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে বাইরে দোকানের একজনের পরামর্শে নাজির রাজীবের সাথে যোগাযোগ করলে সরাসরি টাকা দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয় এবং ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে দফারফা করি ।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে দালাল সিন্ডিকেট গঠন এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। সে সময় অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একটি দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি দলিল বা নামজারি সংক্রান্ত কাজে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।

তৎকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কেনার গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে নানা অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলেই একই কায়দায় কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করছেন রাজিব দত্ত। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজিব দত্তের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে বরং অবজ্ঞার সুরে বলেন, “এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছু হবে না।” তবে তার এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে কঠোর নজরদারি, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবেন এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা ফ্যাসিস্ট আমলের দুর্নীতিবাজ রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।