রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের শিকজান গ্রামের অসহায় শিল্পী বেগমের পরিবারের দুর্দশার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (RSUF), বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং এলাকার বিত্তবান ও সচেতন মানুষ। সম্মিলিত এই উদ্যোগে পরিবারটি এখন একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে দেখছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিল্পী বেগম তার অসুস্থ স্বামী রাসেল মণ্ডল, ১৩ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে নদী এবং ৮ বছর বয়সী ছোট মেয়ে সাদিয়াকে নিয়ে পাটকাঠি দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ রান্নাঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছিল তাদের।
পরিবারটির করুণ জীবনসংগ্রামের চিত্র স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজরে আসে। এরপরই শুরু হয় তাদের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগ।
এরই ধারাবাহিকতায় কালুখালী উপজেলার শাওরাইল ইউনিয়নের পাতুরিয়ায় অবস্থিত রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (RSUF) শিল্পী বেগমের পরিবারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে ঘরটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হলে পরিবারটি একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঘরে বসবাস করতে পারবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) শিল্পী বেগমের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে যান কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন এবং রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সোলাইমান। তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ঘরের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।
রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সোলাইমান বলেন, “অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ দেখে ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন স্যারের সঙ্গে আলোচনা করি। এরপর আমাদের ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়াই। ঘর নির্মাণের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির জন্য একটি টিউবওয়েলও স্থাপন করে দিচ্ছি।”
এর আগে কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দ্রুত তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ঘর নির্মাণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরের ফ্লোর, ডোয়া পাকাকরণসহ প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।”
স্থানীয়দের মতে, উপজেলা প্রশাসন, রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (RSUF) এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত এই উদ্যোগ অসহায় পরিবারটির জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আরও অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
শিল্পী বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের পাশে দাঁড়ানো উপজেলা প্রশাসন, রহমাতুননেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (RSUF) এবং সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আনোয়ারুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার 























