রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমি ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচির উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেছে।
গত ১১ জুন পাংশা উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানটি ৯টি দলের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে। পরবর্তীতে ১৪ জুন রাজবাড়ী জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাঁচটি দলের মধ্যে সেরা হয়ে জাতীয় পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিনা আক্তার পলি ও শারমিন আক্তারের তত্ত্বাবধানে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব আগারওয়ালা, মো. দিদার হোসেন এবং এস এ এম দাউদ যৌথভাবে ‘Smart School Management System’ নামে উদ্ভাবনী প্রকল্পটি তৈরি করে।
প্রকল্পটিতে স্বল্প খরচে আধুনিক ও কার্যকর স্কুল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এতে Automatic Face Detection প্রযুক্তির মাধ্যমে একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ, উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ এবং রিপোর্ট প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থী বা শিক্ষক স্কুলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতির সময় সিস্টেমে নিবন্ধিত হবে। কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস পাঠানো হবে। এছাড়া সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ, অতিরিক্ত জনবল ও কাগজপত্রের ব্যবহার কমানোর সুবিধাও থাকবে।
আগামী ২৯ জুন ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে অবস্থিত চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের ‘Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing’ অনুষ্ঠানে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত এ সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতীয় পর্যায়েও সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, “কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমির শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে উপজেলা ও জেলার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। ‘স্মার্ট স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্পটি বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী। জাতীয় পর্যায়েও তারা সফল হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
আনোয়ারুল ইসলাম 



















