ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাউবোর নাম ভাঙিয়ে পারকি সৈকতে লুসাই পার্কের ‘বালু লুট’! চাঁদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩ বড়লেখায় সাংবাদিক লিটন শরীফের বাবার ই’ন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপসহ গ্রেপ্তার ১ মুরাদনগরে ১৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া রূপালী লাইফে এখনও বহাল সিইও গোলাম কিবরিয়া! রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও সিইসির বৈঠক আজ আইসিটি আইনে সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পবিপ্রবির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার
বিতর্কিত শিক্ষাসনদ-পাহাড়সম দুর্নীতি

রূপালী লাইফে এখনও বহাল সিইও গোলাম কিবরিয়া!

শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পান গোলাম কিবরিয়া। তার বিতর্কিত শিক্ষা সনদ সম্পর্কে জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এছাড়া গোলাম কিবরিয়ায়র বিরুদ্ধে পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যাচাইয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

বিমা আইন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে কোনো বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী পদে প্রস্তাবিত ব্যক্তির নিয়োগ অনুমোদন করতে পারবে না আইডিআরএ। অর্থাৎ প্রবিধানমালা অনুসারে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা হলে প্রস্তাবিত ব্যক্তির নিয়োগ ‘বিশেষ বিবেচনায়’ অনুমোদন করার আইনগত এখতিয়ার নেই আইডিআরএ’র।

এরপরও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ ছাড়াই রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে মো. গোলাম কিবরিয়ার নিয়োগ অনুমোদন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এছাড়া, ভুয়া ব্যবসা, মেডিকেল বিল, ভ্রমণ খরচসহ নানা উপায়ে অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) নির্দেশও দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও দুর্নীতিবাজ ও অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিতর্কিত শিক্ষাসনদ
সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনো গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ধরা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাস ও মাস্টার্স পাস। আবার কখনো তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ধরা হয়েছে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১০ সালে এমবিএ পাস।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪ সালে মো. গোলাম কিবরিয়াকে নিয়োগ দেয় রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। পরে আইডিআরএ তার নিয়োগ অনুমোদন করে ২৮ আগস্ট ২০১৪ সালে।

নিয়োগ অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা জীবন বৃত্তান্তে মো. গোলাম কিবরিয়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে প্রিলিমিনারি ও ১৯৯৬ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও বিতর্কিত দারুল ইহসান ইউনিভর্সিটির একটি এমবিএ পাসের সনদ দাখিল করেছেন গোলাম কিবরিয়া।

অথচ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা-২০১২ এর প্রবিধি ৩ (ক) অনুসারে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ লাভের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে, কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে অন্যূন তিন বছর মেয়াদী স্নাতক ও এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা চার বছর মেয়াদী স্নাতক ও সমমানের ডিগ্রির অধিকারী। সেই হিসেবে মো. গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে না।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোলাম কিবরিয়ার দাখিল করা দারুল ইহসানের সনদের তথ্য অনুসারে সনদটি ইস্যু করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০১১ সালে। অথচ এমবিএ পাস করেছেন ২০১১ সালেই। সেই হিসেবে মাত্র ৪ দিনে তিনি এমবিএ পাস করেছেন।

এ ছাড়াও গোলাম কিবরিয়ার দাখিল করা দারুল ইহসানের সনদের তথ্য অনুসারে তিনি এমবিএ পাস করেছেন ২০১১ সালে। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা জীবন বৃত্তান্তে (ফরম বীউনিক-গ) তিনি উল্লেখ করেছেন- এমবিএ পাস করেছেন ২০১০ সালে।

এ বিষয়ে জানতে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. গোলাম কিবরিয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলে তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

দুর্নীতির অভিযোগ
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে সিন্ডিকেট করে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। কোম্পানিটির নিরীক্ষা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম এই অভিযোগ করেছিলেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্টের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন।

অভিযোগে এই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কোম্পানির চেয়ারম্যান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম, জালিয়াতি ও তহবিল তছরুপ করে আসছে। এই সিন্ডিকেট ১২ লাখ গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

গত বছরের ২২ জুন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগে জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, বণ্টনবিহীন কমিশন বিল, ইনসেনটিভ বিল, বেতন–ভাতা ইত্যাদি খাত দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা ।

গোলাম কিবরিয়া কোম্পানির উন্নয়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বছর শেষে বণ্টন না করা বিভিন্ন ধরনের কমিশন বিল, ইনসেনটিভ বিল, বেতন-ভাতা প্রভৃতির টাকা আত্মসাৎ করেন। যার পরিমাণ ৯৯ হাজার ৩৭৯ টাকা। এ খাতে বছরের পর বছর নামে-বেনামে নানা জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা কমিশন বিল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি ২০২৪ সালের ২০ থেকে ২২ ডিসেম্বর রূপালী লাইফের সিইও হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ভ্রমণ করে কোম্পানির ৩৫ হাজার ৯৯২ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে কোম্পানির লাখ লাখ টাকা তছরুপ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সিইওর দপ্তরে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগমন দেখিয়ে ওই কর্মীদের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার নিজে তৈরি করে, আপ্যায়ন বিল দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে। রূপালী লাইফের সিইও বছরের পর বছর ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্ত করা হলে প্রকৃত আত্মসাতের পরিমাণ বের হয়ে আসবে বলে এতে দাবি করা হয়েছে।

উন্নয়ন সভা, বিভিন্ন দিবস ও প্রচারণা দেখিয়ে বিল তুলে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি কোম্পানির গাড়ি অন্য কর্মকর্তার নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সিইও নিজের পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। কোম্পানির মুরাকিব, ইভিপি ও ইনচার্জ (দাবি বিভাগ) মাওলানা মো. খালিদ সাইফুল্লাহর নামে গ-২০-৯৩৪৬ (এক্সজিও) গাড়িটি বরাদ্দ দেখিয়ে সিইও পরিবার-পরিজনকে সার্বক্ষণিক ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। এই গাড়ির মাসিক জ্বালানি, গ্যারেজ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে গাড়ির বরাদ্দের তারিখ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা তছরুপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোলাম কিবরিয়া কোম্পানির অবলিখন বিভাগের বিভাগীয় ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ-ইভিপির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২০-২২ হাজার টাকার ভুয়া মেডিকেল বিল-ভাউচার তৈরি করে সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে বিল দাখিল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই বিল অনুমোদন দেন কোম্পানির সিএফও। বছরে পর বছর এভাবে ভুয়া মেডিকেল বিল-ভাউচার তৈরি করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

সংস্থাপন বিভাগের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ। কোম্পানির সব কেনাকাটা ও সেবা ক্রয়ের মাধ্যম হলো সংস্থাপন বিভাগ। এ বিভাগের আওতাধীন স্টোর বিভাগ, আইটি বিভাগ, পরিবহন বিভাগসহ সব বিভাগের যাবতীয় প্রিন্টিং, স্টেশনারি সামগ্রী এবং সব ধরনের ইলেকট্রিক মালামাল কেনা হয়। গাড়ির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, নতুন গাড়ি ক্রয়সহ গাড়ি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি এ বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রূপালী লাইফে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ভ্রমণ দেখিয়ে ভুয়া জ্বালানি বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তদন্ত করা হলে কোটি কোটি টাকার ওপরে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

তার আরও অভিযোগ, সিইও গোলাম কিবরিয়া বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ থেকে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আইওইউ বাবদ লাখ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ওই আইওইউর টাকা সমন্বয় করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

এছাড়া গোলাম কিবরিয়া রূপালী লাইফের সিইও হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির ভবিষ্য তহবিল থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত কাজ।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, রূপালী লাইফের বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিক ডামি কোড সৃষ্টি করে ওই ডামি কোডের মাধ্যমে অর্জিত ব্যবসার বিপরীতে বিভিন্ন ধরনের কমিশনের বিল, রিনিউয়াল বিল, ইনসেনটিভ বিল, রিলিজ, মোবাইল, জ্বালানি বিলসহ অন্য বিল প্রস্তুত করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এছাড়া বছরের পর বছর ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ভুয়া কমিশন বিল প্রস্তুত করে আইটি বিভাগের ইনচার্জ ওমর ফারুক সোহেল (সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট), মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ (ইভিপি) ও মুরাকিব এবং কমিশন ইনচার্জ মো. আকতার হোসেনের (এভিপি) প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চেয়ারম্যান ও সিইও ওই টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুয়াভাবে প্রদর্শিত ব্যবসার প্রিমিয়ামের টাকা ব্যাংক ও নগদে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে কোনো টাকা ব্যাংকে জমা হয় না।

তামাদি পলিসির বিপরীতেও বিশাল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, বছরের পর বছর তামাদি পলিসির টাকা গ্রাহককে না দিয়ে এবং সে সব বিমা গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ বিমা দেখিয়ে সমুদয় টাকা ব্যাংকে না দিয়ে নগদ হিসেবে খরচের ভাউচার প্রদর্শন করে কোম্পানির খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগপত্রে গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, গোলাম কিবরিয়া বছরের পর বছর গ্রাহকদের হয়রানি করার পাশাপাশি মৃত্যু দাবি চেক, প্রত্যাশিত সুবিধার চেক, মেয়াদোত্তীর্ণ চেকসহ অন্যান্য সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মৃত্যু দাবির চেক, মেয়াদোত্তীর্ণ চেক বছরের পর বছর ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সময়ে গ্রাহকরা পাচ্ছেন না।

গোলাম কিবরিয়া সিইও হওয়ার পর থেকে সালভিত্তিক কোম্পানির আয়-ব্যয় এবং গ্রাহকদের পেমেন্ট কীভাবে হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সিইও ও চেয়ারম্যান কী পরিমাণ টাকা লুটপাট করেছেন তার চিত্র বের হয়ে আসবে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপালী লাইফের সিইও গোলাম কিবরিয়ার দুর্নীতির ব্যাপার তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তবে পরবর্তীতে আইডিআরএ এ বিষয়ে কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা তার দৃশ্যমান কোনো উদ্দ্যেগ দেখা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা শেখ বলেন, এসব বিষয়গুলোর প্রতি আইডিআরএ’র কঠোর নজরদারি করা উচিত। তা না হলে বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও গোলাম কিবরিয়ার বিষয়ে আইডিআরএ’র মতামত জানতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভীনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাউবোর নাম ভাঙিয়ে পারকি সৈকতে লুসাই পার্কের ‘বালু লুট’!

বিতর্কিত শিক্ষাসনদ-পাহাড়সম দুর্নীতি

রূপালী লাইফে এখনও বহাল সিইও গোলাম কিবরিয়া!

আপডেট সময় ১১:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পান গোলাম কিবরিয়া। তার বিতর্কিত শিক্ষা সনদ সম্পর্কে জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এছাড়া গোলাম কিবরিয়ায়র বিরুদ্ধে পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যাচাইয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

বিমা আইন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে কোনো বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী পদে প্রস্তাবিত ব্যক্তির নিয়োগ অনুমোদন করতে পারবে না আইডিআরএ। অর্থাৎ প্রবিধানমালা অনুসারে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা হলে প্রস্তাবিত ব্যক্তির নিয়োগ ‘বিশেষ বিবেচনায়’ অনুমোদন করার আইনগত এখতিয়ার নেই আইডিআরএ’র।

এরপরও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ ছাড়াই রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে মো. গোলাম কিবরিয়ার নিয়োগ অনুমোদন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এছাড়া, ভুয়া ব্যবসা, মেডিকেল বিল, ভ্রমণ খরচসহ নানা উপায়ে অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) নির্দেশও দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও দুর্নীতিবাজ ও অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিতর্কিত শিক্ষাসনদ
সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনো গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ধরা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাস ও মাস্টার্স পাস। আবার কখনো তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ধরা হয়েছে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১০ সালে এমবিএ পাস।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪ সালে মো. গোলাম কিবরিয়াকে নিয়োগ দেয় রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। পরে আইডিআরএ তার নিয়োগ অনুমোদন করে ২৮ আগস্ট ২০১৪ সালে।

নিয়োগ অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা জীবন বৃত্তান্তে মো. গোলাম কিবরিয়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে প্রিলিমিনারি ও ১৯৯৬ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও বিতর্কিত দারুল ইহসান ইউনিভর্সিটির একটি এমবিএ পাসের সনদ দাখিল করেছেন গোলাম কিবরিয়া।

অথচ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা-২০১২ এর প্রবিধি ৩ (ক) অনুসারে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ লাভের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে, কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে অন্যূন তিন বছর মেয়াদী স্নাতক ও এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা চার বছর মেয়াদী স্নাতক ও সমমানের ডিগ্রির অধিকারী। সেই হিসেবে মো. গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে না।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোলাম কিবরিয়ার দাখিল করা দারুল ইহসানের সনদের তথ্য অনুসারে সনদটি ইস্যু করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০১১ সালে। অথচ এমবিএ পাস করেছেন ২০১১ সালেই। সেই হিসেবে মাত্র ৪ দিনে তিনি এমবিএ পাস করেছেন।

এ ছাড়াও গোলাম কিবরিয়ার দাখিল করা দারুল ইহসানের সনদের তথ্য অনুসারে তিনি এমবিএ পাস করেছেন ২০১১ সালে। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা জীবন বৃত্তান্তে (ফরম বীউনিক-গ) তিনি উল্লেখ করেছেন- এমবিএ পাস করেছেন ২০১০ সালে।

এ বিষয়ে জানতে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. গোলাম কিবরিয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলে তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

দুর্নীতির অভিযোগ
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে সিন্ডিকেট করে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। কোম্পানিটির নিরীক্ষা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম এই অভিযোগ করেছিলেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্টের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন।

অভিযোগে এই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কোম্পানির চেয়ারম্যান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম, জালিয়াতি ও তহবিল তছরুপ করে আসছে। এই সিন্ডিকেট ১২ লাখ গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

গত বছরের ২২ জুন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগে জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, বণ্টনবিহীন কমিশন বিল, ইনসেনটিভ বিল, বেতন–ভাতা ইত্যাদি খাত দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা ।

গোলাম কিবরিয়া কোম্পানির উন্নয়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বছর শেষে বণ্টন না করা বিভিন্ন ধরনের কমিশন বিল, ইনসেনটিভ বিল, বেতন-ভাতা প্রভৃতির টাকা আত্মসাৎ করেন। যার পরিমাণ ৯৯ হাজার ৩৭৯ টাকা। এ খাতে বছরের পর বছর নামে-বেনামে নানা জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা কমিশন বিল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি ২০২৪ সালের ২০ থেকে ২২ ডিসেম্বর রূপালী লাইফের সিইও হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ভ্রমণ করে কোম্পানির ৩৫ হাজার ৯৯২ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে কোম্পানির লাখ লাখ টাকা তছরুপ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সিইওর দপ্তরে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগমন দেখিয়ে ওই কর্মীদের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার নিজে তৈরি করে, আপ্যায়ন বিল দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে। রূপালী লাইফের সিইও বছরের পর বছর ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্ত করা হলে প্রকৃত আত্মসাতের পরিমাণ বের হয়ে আসবে বলে এতে দাবি করা হয়েছে।

উন্নয়ন সভা, বিভিন্ন দিবস ও প্রচারণা দেখিয়ে বিল তুলে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি কোম্পানির গাড়ি অন্য কর্মকর্তার নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সিইও নিজের পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। কোম্পানির মুরাকিব, ইভিপি ও ইনচার্জ (দাবি বিভাগ) মাওলানা মো. খালিদ সাইফুল্লাহর নামে গ-২০-৯৩৪৬ (এক্সজিও) গাড়িটি বরাদ্দ দেখিয়ে সিইও পরিবার-পরিজনকে সার্বক্ষণিক ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। এই গাড়ির মাসিক জ্বালানি, গ্যারেজ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে গাড়ির বরাদ্দের তারিখ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা তছরুপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোলাম কিবরিয়া কোম্পানির অবলিখন বিভাগের বিভাগীয় ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ-ইভিপির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২০-২২ হাজার টাকার ভুয়া মেডিকেল বিল-ভাউচার তৈরি করে সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে বিল দাখিল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই বিল অনুমোদন দেন কোম্পানির সিএফও। বছরে পর বছর এভাবে ভুয়া মেডিকেল বিল-ভাউচার তৈরি করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

সংস্থাপন বিভাগের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ। কোম্পানির সব কেনাকাটা ও সেবা ক্রয়ের মাধ্যম হলো সংস্থাপন বিভাগ। এ বিভাগের আওতাধীন স্টোর বিভাগ, আইটি বিভাগ, পরিবহন বিভাগসহ সব বিভাগের যাবতীয় প্রিন্টিং, স্টেশনারি সামগ্রী এবং সব ধরনের ইলেকট্রিক মালামাল কেনা হয়। গাড়ির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, নতুন গাড়ি ক্রয়সহ গাড়ি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি এ বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রূপালী লাইফে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ভ্রমণ দেখিয়ে ভুয়া জ্বালানি বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তদন্ত করা হলে কোটি কোটি টাকার ওপরে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

তার আরও অভিযোগ, সিইও গোলাম কিবরিয়া বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ থেকে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আইওইউ বাবদ লাখ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ওই আইওইউর টাকা সমন্বয় করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

এছাড়া গোলাম কিবরিয়া রূপালী লাইফের সিইও হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির ভবিষ্য তহবিল থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত কাজ।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, রূপালী লাইফের বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিক ডামি কোড সৃষ্টি করে ওই ডামি কোডের মাধ্যমে অর্জিত ব্যবসার বিপরীতে বিভিন্ন ধরনের কমিশনের বিল, রিনিউয়াল বিল, ইনসেনটিভ বিল, রিলিজ, মোবাইল, জ্বালানি বিলসহ অন্য বিল প্রস্তুত করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এছাড়া বছরের পর বছর ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ভুয়া কমিশন বিল প্রস্তুত করে আইটি বিভাগের ইনচার্জ ওমর ফারুক সোহেল (সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট), মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ (ইভিপি) ও মুরাকিব এবং কমিশন ইনচার্জ মো. আকতার হোসেনের (এভিপি) প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চেয়ারম্যান ও সিইও ওই টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুয়াভাবে প্রদর্শিত ব্যবসার প্রিমিয়ামের টাকা ব্যাংক ও নগদে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে কোনো টাকা ব্যাংকে জমা হয় না।

তামাদি পলিসির বিপরীতেও বিশাল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, বছরের পর বছর তামাদি পলিসির টাকা গ্রাহককে না দিয়ে এবং সে সব বিমা গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ বিমা দেখিয়ে সমুদয় টাকা ব্যাংকে না দিয়ে নগদ হিসেবে খরচের ভাউচার প্রদর্শন করে কোম্পানির খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগপত্রে গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, গোলাম কিবরিয়া বছরের পর বছর গ্রাহকদের হয়রানি করার পাশাপাশি মৃত্যু দাবি চেক, প্রত্যাশিত সুবিধার চেক, মেয়াদোত্তীর্ণ চেকসহ অন্যান্য সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মৃত্যু দাবির চেক, মেয়াদোত্তীর্ণ চেক বছরের পর বছর ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সময়ে গ্রাহকরা পাচ্ছেন না।

গোলাম কিবরিয়া সিইও হওয়ার পর থেকে সালভিত্তিক কোম্পানির আয়-ব্যয় এবং গ্রাহকদের পেমেন্ট কীভাবে হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সিইও ও চেয়ারম্যান কী পরিমাণ টাকা লুটপাট করেছেন তার চিত্র বের হয়ে আসবে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপালী লাইফের সিইও গোলাম কিবরিয়ার দুর্নীতির ব্যাপার তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তবে পরবর্তীতে আইডিআরএ এ বিষয়ে কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা তার দৃশ্যমান কোনো উদ্দ্যেগ দেখা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা শেখ বলেন, এসব বিষয়গুলোর প্রতি আইডিআরএ’র কঠোর নজরদারি করা উচিত। তা না হলে বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও গোলাম কিবরিয়ার বিষয়ে আইডিআরএ’র মতামত জানতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভীনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।