ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি চাকরির ১৬তম গ্রেডের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। প্রায় ৩৩ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া মো. শফিকুল ইসলামের মাসিক আয় সরকারি বেতন কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু তার ও পরিবারের নামে গড়ে ওঠা বিপুল সম্পদের পরিমাণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে কর্মরত শফিকুল ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সম্পদের মূল্য এর দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ না থাকা বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাটেরও সন্ধান পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটির বেশি হতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম ১৯৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কুমিল্লার বরুড়া এবং বর্তমানে মুরাদনগর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছোট মেয়ে কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং ছেলে কুমিল্লা জিলা স্কুলে অধ্যয়নরত। স্থানীয় সূত্র বলছে, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়, আবাসন, যাতায়াত ও পারিবারিক খরচ মিলিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় প্রায় ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীর সীমিত বেতন-ভাতার আয় দিয়ে কীভাবে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, ঘোষিত ও অঘোষিত সম্পদের উৎস যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। বর্তমানে শফিকুল ইসলামের আয় ও সম্পদের মধ্যে এই বিশাল বৈপরীত্য নিয়েই এলাকায় চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরির ১৬তম গ্রেডের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। প্রায় ৩৩ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া মো. শফিকুল ইসলামের মাসিক আয় সরকারি বেতন কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু তার ও পরিবারের নামে গড়ে ওঠা বিপুল সম্পদের পরিমাণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে কর্মরত শফিকুল ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সম্পদের মূল্য এর দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ না থাকা বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাটেরও সন্ধান পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটির বেশি হতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম ১৯৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কুমিল্লার বরুড়া এবং বর্তমানে মুরাদনগর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছোট মেয়ে কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং ছেলে কুমিল্লা জিলা স্কুলে অধ্যয়নরত। স্থানীয় সূত্র বলছে, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়, আবাসন, যাতায়াত ও পারিবারিক খরচ মিলিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় প্রায় ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীর সীমিত বেতন-ভাতার আয় দিয়ে কীভাবে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, ঘোষিত ও অঘোষিত সম্পদের উৎস যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। বর্তমানে শফিকুল ইসলামের আয় ও সম্পদের মধ্যে এই বিশাল বৈপরীত্য নিয়েই এলাকায় চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।