সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদে বসতে গোলজারের ৪২ কোটি টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলা নিয়ে মুখ খুললেন মা নীলা চৌধুরী ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের বগুড়ার শেরপুরে পারিবারিক কলহের জেরে রাজমিস্ত্রির আত্মহত্যা ধামরাইয়ে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা মামলার আসামি হয়েও গুলশান সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে রাজস্ব ফাঁকি, জাল দলিল ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

নেত্রকোনায় দায়িত্ব, বসবাস সাভারে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তাঁর নিজ কর্মস্থল এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। অথচ নেত্রকোনার আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটপাড়া খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইমরান হোসেন প্রতি বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক কাজ সেরে তাঁর সাভারের বাসায় চলে যান। আবার শনিবার রাতে ফেরেন। মাঝখানের কর্মদিবসে তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই উপজেলায় চলমান গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেনের মূল পদায়ন আটপাড়ায়। পাশাপাশি তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল উত্তোলন ও বিতরণ এবং ধান-চাল সংগ্রহ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি হয়নি এবং ওএমএসের চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক পয়েন্টে চাল ও আটা বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছে।
জানা গেছে, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগেই গত ২৩ মে অফিসের কাজ শেষে ইমরান হোসেন সাভারে চলে যান। অথচ সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৬ মে থেকে। ফলে ছুটি শুরুর আগের তিন কর্মদিবস তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন সরকারি অফিস খোলার পরও তিনি পুরো সপ্তাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে ৭ জুন তিনি কর্মস্থলে ফেরেন বলে জানা গেছে।
আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপখাদ্য পরিদর্শক শরীফা আক্তার প্রথমে কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ‘স্যার (ইমরান হোসেন) ঈদের পরের সপ্তাহে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন। তাই অফিসে আসেননি। ৬ জুন কেন্দুয়ায় চাল-সংক্রান্ত একটি সমস্যা দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তিনি ওই রাতেই চলে আসেন। স্যার ঢাকায় থাকেন। এখানে এসে ডাকবাংলোয় অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার চলে যান এবং শনিবার রাতে আবার আসেন।’
কেন্দুয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে ঢাকায় বসবাস করে নিয়মিতভাবে দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বাস্তবে কঠিন। ফলে অনেক সময় তাঁকে অফিসে পাওয়া যায় না।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে গেছি। ঈদের পরের সপ্তাহেও এসেছিলাম। দু-এক দিন ডিউটি করে চলে গেছি। আমি অসুস্থ। তাই একটু সমস্যা হয়েছে। আরও কিছু জানতে হলে সরাসরি বলব।’ এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
বিষয়টি অবহিত করলে নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। আমাকে ওই কর্মকর্তা কিছুই জানাননি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদে বসতে গোলজারের ৪২ কোটি টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ

নেত্রকোনায় দায়িত্ব, বসবাস সাভারে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তাঁর নিজ কর্মস্থল এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। অথচ নেত্রকোনার আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন ঢাকার সাভারে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটপাড়া খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইমরান হোসেন প্রতি বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক কাজ সেরে তাঁর সাভারের বাসায় চলে যান। আবার শনিবার রাতে ফেরেন। মাঝখানের কর্মদিবসে তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই উপজেলায় চলমান গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেনের মূল পদায়ন আটপাড়ায়। পাশাপাশি তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পার্শ্ববর্তী কেন্দুয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল উত্তোলন ও বিতরণ এবং ধান-চাল সংগ্রহ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি হয়নি এবং ওএমএসের চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক পয়েন্টে চাল ও আটা বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছে।
জানা গেছে, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগেই গত ২৩ মে অফিসের কাজ শেষে ইমরান হোসেন সাভারে চলে যান। অথচ সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৬ মে থেকে। ফলে ছুটি শুরুর আগের তিন কর্মদিবস তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন সরকারি অফিস খোলার পরও তিনি পুরো সপ্তাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে ৭ জুন তিনি কর্মস্থলে ফেরেন বলে জানা গেছে।
আটপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপখাদ্য পরিদর্শক শরীফা আক্তার প্রথমে কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ‘স্যার (ইমরান হোসেন) ঈদের পরের সপ্তাহে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন। তাই অফিসে আসেননি। ৬ জুন কেন্দুয়ায় চাল-সংক্রান্ত একটি সমস্যা দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তিনি ওই রাতেই চলে আসেন। স্যার ঢাকায় থাকেন। এখানে এসে ডাকবাংলোয় অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার চলে যান এবং শনিবার রাতে আবার আসেন।’
কেন্দুয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে ঢাকায় বসবাস করে নিয়মিতভাবে দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বাস্তবে কঠিন। ফলে অনেক সময় তাঁকে অফিসে পাওয়া যায় না।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে গেছি। ঈদের পরের সপ্তাহেও এসেছিলাম। দু-এক দিন ডিউটি করে চলে গেছি। আমি অসুস্থ। তাই একটু সমস্যা হয়েছে। আরও কিছু জানতে হলে সরাসরি বলব।’ এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
বিষয়টি অবহিত করলে নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। আমাকে ওই কর্মকর্তা কিছুই জানাননি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।