ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনায় নগর ভবনজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেটে দোকান বরাদ্দ, পরিচালনা, টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১ জুন) ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
ডিএসসিসির একাধিক সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে গোলাম কিবরিয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ অভ্যন্তরীণভাবে আলোচিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে মার্কেট ব্যবস্থাপনা, দোকান বরাদ্দ এবং কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়মের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বেশি কার্যকর ছিল। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু পদায়ন, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে এমন আলোচনা ছিল যে, গোলাম কিবরিয়া প্রকৌশল সংক্রান্ত দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতেন। তার সমালোচকদের মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তবে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, এসব অভিযোগ মূলত প্রশাসনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের ফল।
বিশেষ করে মার্কেট নির্মাণ সেল ও সংশ্লিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তের আওতায় এসেছে। অভিযোগকারীদের মতে, দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। পাশাপাশি কিছু টেন্ডার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
নগর ভবনের কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি কর্পোরেশনের বাজার ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত। এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার ঝুঁকি থাকে। ফলে চলমান তদন্তের ফলাফল শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোলাম কিবরিয়া ডিএসসিসির সচিব দপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হবে কি না, কিংবা তিনি দায়মুক্তি পাবেন কি না—সেটি এখন নির্ভর করছে চলমান তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রমের ফলাফলের ওপর। বর্তমানে নগর ভবনের প্রশাসনিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নও এটিই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















