ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৫ প্লট, ৪ ফ্ল্যাট ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কালুখালীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম তৃতীয় বিয়ে নিয়ে ‘মহাবিপদে’ আমির খান! খেলা শুরুর আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল মারামারি, আটক ৩ সমগ্র উত্তরবঙ্গের ইয়াবার ডিলার শা আপেল কে নিয়ে নানান বিতর্কের গুণজন যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫৬ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করল চীন বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফিরে দেখা ক্যানভাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

১৯৩৬ সালে বগুড়ার বাগবাড়ি গ্রামে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম। স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে ১৯৫৩ সালে তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান আর্মিতে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি ফার্স্ট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানীর কম্যান্ডার হিসাবে লাহোরের খেমকারান সেক্টরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি Quetta Staff College থেকে পি এস শি উপাধিতে ভূষিত হন। ঐ সালে তিনি কাকুলাস্থ তদানীন্তন পাকিস্তান সামরিক একাডেমীর ইনস্ট্রাবীর নিযুক্ত হন।
১৯৬৯ সালে গণ অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকার জয়দেবপুরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার ছিলেন। জয়দেবপুরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই সারা দেশে গণ বিক্ষোভের দাবানল জ্বলে ওঠে।
১৯৭০ সালের অক্টোবর মাসে তাঁকে নবগঠিত অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিয়ন্ত্র জনগণের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করলে তিনি স্বাধীনতাকামী জনগণের পক্ষাবলম্বন করেন।
তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার-কেন্দ্র থেকে তিনি ঐ ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জিয়াউর রহমান কুমিল্লায় একটি ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালের জুনে তাঁকে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ নিযুক্ত করা হয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি সেনাবাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঘটনা-প্রবাহে জিয়া উপ-প্রধান সাময়িক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯শে নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন।
১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ঐ দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দেশের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংসদের ৩শ’ আসনের মধ্যে ২২০টি আসন লাভকরে। সাধারণ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়া দেশ থেকে সামরিক আইন ও জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়া লন্ডন ও লুসাকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলন, সিডনীতে কমনওয়েলথ রাষ্ট্র প্রধানদের আঞ্চলিক সম্মেলন, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যোগ দেন এবং সৌদী আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমীরাত, কুয়েত, ইরাক, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, জাপান, বার্মা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, মালী, সেনেগাল, গিনি এবং পশ্চিম জার্মানীতে রাষ্ট্রীয় সফর করেন।
১৯৮০ সালের ২৬শে আগষ্ট রাষ্ট্রপতি জিয়া জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। ১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি মক্কা
শরীফে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। তিনি ইসলামী সম্মেলনের তিন সদস্য বিশিষ্ট ‘আল কুছস’ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি জিয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধাবসানের প্রচেষ্টায় ইসলামী সম্মেলনে গঠিত ৯ সদস্যের শান্তি মিশনে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তিনি ১৯৮১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একাই তেহরান ও বাগদাদ সফর করেন।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক মে মাসের শেষ দিনে একদল বিপদগামী সৈনিক এর হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। এই মৃত্যু আকস্মিক সন্দেহ নেই। গত শুক্রবার, দিনগত রাত তিনটা থেকে ৪টার মধ্যে আততায়ীর বন্দুকের গুলী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকারী যে ব্যক্তিটিকে বিদ্ধ করে, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, দেশের রাষ্ট্রপতি ও জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান জনাব জিয়াউর রহমান। মাত্র পঁয়তালিশ বছর বয়সে রাষ্ট্রপতি জিয়া মারা গেলেন।
ভাগ্যের এমনি পরিহাস, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা-মুহূর্তে এই চট্টগ্রামই তৎকালীন মেজর জিয়ার স্বাধীনতা-ঘোষণার গৌরবকে ধারণ করে। সেই চট্টগ্রামই জিয়ার হত্যাকান্ডের অকুস্থল। উদয় ও অন্ত, দুই-ই চট্টগ্রামে।
জিয়া আমৃত্যু ক্ষমতাসীন ছিলেন। শাহাদাৎকালে জিয়ার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছয়। ২০২৪ এর আগস্ট বিপ্লবের পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির ক্ষমতা আসার রাস্তা তৈরি হয়। ৩৬ জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা পারিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে দেশে জেনজি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তৎপর হয়। প্রচলিত বাহিনী সমূহ বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহ (বাংলাদেশ আওয়ামীলিগ বিযুক্ত) এই তৎপরতাই যুক্ত হয়। প্রায় দেড় বছরের আলোচনা পর্যালোচনা মধ্যে দিয়ে একাধিক কমিশন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ আর জুলাই জাতীয় সনদ রচিত হয়। এইগুলোর ভিত্তিতে পুণর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি তে অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক সহ প্রায় সকল মহলের নিকট অংশগ্রহণমূলক স্বচ্ছ নিরপেক্ষ অবাধ ভাবে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিয়মান হয়। এই নির্বাচনে জামাত ও এনসিপির ১১ দলিয় জোট শতকের কম আসন লাভ করে আর অন্যদিকে বিএনপি ও তার জোট ২০৭টি আসন লাভ করে জাতীয় সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। শহিদ জিয়া ও বেগম জিয়া সুযোগ্য উত্তরসূরী দলের চেয়্যারমেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ নতুন সরকার গঠিত হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ প্লট, ৪ ফ্ল্যাট ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

ফিরে দেখা ক্যানভাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

আপডেট সময় ০১:৪৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

১৯৩৬ সালে বগুড়ার বাগবাড়ি গ্রামে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম। স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে ১৯৫৩ সালে তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান আর্মিতে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি ফার্স্ট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানীর কম্যান্ডার হিসাবে লাহোরের খেমকারান সেক্টরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি Quetta Staff College থেকে পি এস শি উপাধিতে ভূষিত হন। ঐ সালে তিনি কাকুলাস্থ তদানীন্তন পাকিস্তান সামরিক একাডেমীর ইনস্ট্রাবীর নিযুক্ত হন।
১৯৬৯ সালে গণ অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকার জয়দেবপুরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার ছিলেন। জয়দেবপুরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই সারা দেশে গণ বিক্ষোভের দাবানল জ্বলে ওঠে।
১৯৭০ সালের অক্টোবর মাসে তাঁকে নবগঠিত অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিয়ন্ত্র জনগণের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করলে তিনি স্বাধীনতাকামী জনগণের পক্ষাবলম্বন করেন।
তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার-কেন্দ্র থেকে তিনি ঐ ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জিয়াউর রহমান কুমিল্লায় একটি ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালের জুনে তাঁকে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ নিযুক্ত করা হয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি সেনাবাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঘটনা-প্রবাহে জিয়া উপ-প্রধান সাময়িক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯শে নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন।
১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ঐ দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দেশের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংসদের ৩শ’ আসনের মধ্যে ২২০টি আসন লাভকরে। সাধারণ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়া দেশ থেকে সামরিক আইন ও জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়া লন্ডন ও লুসাকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলন, সিডনীতে কমনওয়েলথ রাষ্ট্র প্রধানদের আঞ্চলিক সম্মেলন, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যোগ দেন এবং সৌদী আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমীরাত, কুয়েত, ইরাক, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, জাপান, বার্মা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, মালী, সেনেগাল, গিনি এবং পশ্চিম জার্মানীতে রাষ্ট্রীয় সফর করেন।
১৯৮০ সালের ২৬শে আগষ্ট রাষ্ট্রপতি জিয়া জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। ১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি মক্কা
শরীফে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। তিনি ইসলামী সম্মেলনের তিন সদস্য বিশিষ্ট ‘আল কুছস’ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি জিয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধাবসানের প্রচেষ্টায় ইসলামী সম্মেলনে গঠিত ৯ সদস্যের শান্তি মিশনে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তিনি ১৯৮১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একাই তেহরান ও বাগদাদ সফর করেন।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক মে মাসের শেষ দিনে একদল বিপদগামী সৈনিক এর হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। এই মৃত্যু আকস্মিক সন্দেহ নেই। গত শুক্রবার, দিনগত রাত তিনটা থেকে ৪টার মধ্যে আততায়ীর বন্দুকের গুলী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকারী যে ব্যক্তিটিকে বিদ্ধ করে, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, দেশের রাষ্ট্রপতি ও জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান জনাব জিয়াউর রহমান। মাত্র পঁয়তালিশ বছর বয়সে রাষ্ট্রপতি জিয়া মারা গেলেন।
ভাগ্যের এমনি পরিহাস, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা-মুহূর্তে এই চট্টগ্রামই তৎকালীন মেজর জিয়ার স্বাধীনতা-ঘোষণার গৌরবকে ধারণ করে। সেই চট্টগ্রামই জিয়ার হত্যাকান্ডের অকুস্থল। উদয় ও অন্ত, দুই-ই চট্টগ্রামে।
জিয়া আমৃত্যু ক্ষমতাসীন ছিলেন। শাহাদাৎকালে জিয়ার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছয়। ২০২৪ এর আগস্ট বিপ্লবের পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির ক্ষমতা আসার রাস্তা তৈরি হয়। ৩৬ জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা পারিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে দেশে জেনজি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তৎপর হয়। প্রচলিত বাহিনী সমূহ বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহ (বাংলাদেশ আওয়ামীলিগ বিযুক্ত) এই তৎপরতাই যুক্ত হয়। প্রায় দেড় বছরের আলোচনা পর্যালোচনা মধ্যে দিয়ে একাধিক কমিশন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ আর জুলাই জাতীয় সনদ রচিত হয়। এইগুলোর ভিত্তিতে পুণর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি তে অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক সহ প্রায় সকল মহলের নিকট অংশগ্রহণমূলক স্বচ্ছ নিরপেক্ষ অবাধ ভাবে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিয়মান হয়। এই নির্বাচনে জামাত ও এনসিপির ১১ দলিয় জোট শতকের কম আসন লাভ করে আর অন্যদিকে বিএনপি ও তার জোট ২০৭টি আসন লাভ করে জাতীয় সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। শহিদ জিয়া ও বেগম জিয়া সুযোগ্য উত্তরসূরী দলের চেয়্যারমেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ নতুন সরকার গঠিত হয়।